১২ মার্চ, ২০২০ ১৯:৩৪
প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেট জেলায় নভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) আতঙ্ক সাধারণ মানুষের মধ্যে। মাস্ক ব্যবহারের সংখ্যা বেড়েছে কয়েকগুণ। এ অবস্থায় জেলার বিভিন্ন উপজেলা হাসপাতালকে প্রস্তুতি রাখার নির্দেশ দিয়েছে সিলেট সিভিল সার্ভিস কার্যালয়।
বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিতে প্রস্তুতি করা হয়েছে আইসোলেশন ওয়ার্ড। প্রাথমিক অবস্থায় চারটি বেড প্রস্তুত রেখেছেন দায়িত্বশীলরা। তবে এখন পর্যন্ত আইসোলেট করার মতো করোনায় আক্রান্ত কোন রোগীর সন্ধান না পাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন দায়িত্বশীলরা।
বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোয়াজ্জেম আলী খান চৌধুরী বলেন, সচেতনতাই করোনার আক্রান্ত থেকে রক্ষা পাওয়ার প্রথম শর্ত। এমনিতে এই সময় আমাদের দেশের আবহাওয়ার ঠান্ডা গরমের মিশেল থাকায় সর্দি, কাশি, জ্বর দেখা দিতে পারে। শিশুরা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে।
এক্ষেত্রে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, আক্রান্ত মানুষ ছাড়া অন্যরা শারীরিক সমস্যা না হলে মাস্ক পরার প্রয়োজন নেই। শুধু আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে মাস্ক পরা বাধ্যতামুলক। এতে তার থেকে এ ভাইরাসে অন্যদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে আসে।
তিনি বলেন, বিদেশফেরতরা বাড়িতে আসার পর ১৪ দিন পর্যন্ত পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে নিজেদের দূরে রাখুন। কোয়ারেন্টাইন প্রক্রিয়ায় আলাদা থাকার ১৪ দিন পর যদি শরীর স্বাভাবিক থাকে তাহলে স্বাভাবিক পরিবেশে থাকতে পারবেন। তবে যদি এর মধ্যে সর্দি, কাশি, জ্বর দেখা দেয় তাহলে দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
‘করোনাভাইরাসের জীবাণু থাকতে পারে’ এমন আশঙ্কায় দেশের ১৭টি জেলায় বিদেশফেরত দুই শতাধিক ব্যক্তিকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। দেশে করোনাভাইরাসে তিনজন শনাক্ত হয়েছেন।
এদিকে বিয়ানীবাজারের একমাত্র স্থলবন্দর শেওলা স্থলবন্দরে স্থলবন্দরে করোনাভাইরাস বিষয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। থার্মোমিটার দিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের দ্বারা প্রাথমিক পরীক্ষা করেই ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে যাত্রীদের। তবে যানবাহনের চালকদের এ প্রাথমিক পরীক্ষাও করা হচ্ছে না।
শেওলা স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম বলেন, এ চেকপোস্ট দিয়ে প্রতিদিন ৩০-৩৫ জন পাসপোর্টধারী যাত্রী বাংলাদেশ ও ভারতে যাওয়া-আসা করেন। বেশিরভাগ যাত্রীরা তাদের আত্মীয়ের বাড়ি বা কেউ কেউ ব্যবসার কাজে ভারতে যান। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এখানে মেডিকেল টিম বসিয়ে থার্মোমিটার দিয়ে পরীক্ষা করে এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে যাত্রীদের প্রবেশ করানো হচ্ছে।
আপনার মন্তব্য