১৪ মার্চ, ২০২০ ১৯:৪৩
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান এমপি হাফিজ আহমেদ মজুমদার, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষের এই উৎসব আমাদের প্রাণের উৎসব। এই উৎসব আরও অর্থবহ হবে যখন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ আমরা লালন করতে পারবো। এই দেশে বঙ্গবন্ধুর মত একজন নেতা জন্ম হওয়ায় আমরা ধন্য। তিনি আমাদের একটি স্বাধীন বাংলাদেশ, বিশ্বের মানচিত্রে একটি স্বতন্ত্র স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। দেশ স্বাধীনের পর কেউ বিশ্বাসই করতে পারিনাই যে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ভাবে সচ্ছল হতে মুসলিম রাষ্ট্রগুলো আমাদেরকে সমর্থন করেনি। কারণ তারা মনে করতো আমরা স্বাধীন দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করতে পারবো না।
শনিবার (১৪ মার্চ) বিকাল সাড়ে চারটায় রিকাবিবাজারস্থ সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ নার্সেস এসোসিয়েশন এন্ড মিডওয়াইফারি সিলেট শাখার নিবেদনে ‘আধুনিক নার্সিং পেশার উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন এমপি হাফিজ আহমেদ মজুমদার।
এসময় তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা এই দেশকে আত্মনির্ভরশীল করেছেন। তাই শেখ হাসিনার পক্ষে আমি তিনটি স্লোগান তৈরি করেছি। ‘শেখ হাসিনার মন্ত্র করবো আমরা রপ্ত’ ‘আমার চাকরি আমি দেব, চাইলে চাকরি তোমায় দেব, ‘দক্ষ হয়ে করবো কাজ, দখল করবো বিশ্ব বাজার’।
সিলেট আওয়ামী লীগের নেতাদের ধন্যবাদ জানিয়ে হাফিজ আহমেদ মজুমদার বলেন, বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে মুজিববর্ষের অনুষ্ঠান হচ্ছে। কিন্তু সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে এই আয়োজন অবশ্যই একটা বিশেষত্ব বজায় রাখে। কারণ তারা শুধু নিজেরা না করে প্রতিদিন একটি পেশাজীবী সংগঠন দিয়ে অনুষ্ঠান করাচ্ছেন। তাই এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আমার মনে হয় মুজিববর্ষকে নিয়ে এ ধরনের আয়োজন বাংলাদেশে প্রথম।
'নব প্রজন্মেও নব চেতনায় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানকে ধারণ করে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে ৭ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। ধারাবাহিক এই অনুষ্ঠানের ৮ম দিনের অনুষ্ঠান জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হয়। ।
বাংলাদেশ নার্সেস এসোসিয়েশন এন্ড মিডওয়াইফারি (বিএনএ) সিলেট শাখার সভাপতি শামীমা নাসরিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. ইউনুছুর রহমান, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায়, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাসুক উদ্দিন আহমেদ, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খান, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সেবা তত্ত্বাবধায়ক রেনু আরা আক্তার।
সভায় এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. ইউনুছুর রহমান বলেন, আপনারা আপনাদের বিদেশে অবস্থানরত পরিবারের সদস্যদেরকে আপাতত বাংলাদেশ না আসার জন্য অনুরোধ করেন। যদি কেউ বিদেশ থেকে ফিরে এসে থাকেন তবে তিনি যেন অবশ্যই তার নিজ গৃহে ১৪ দিন কোয়রেন্টাইনে থাকেন।
তিনি বলেন করোনাভাইরাস প্রতিরোধে আমরা বিভাগীয় জেলা উপজেলা পর্যায়ে কমিটি করেছি। আমাদের নির্দেশনা আছে কোয়রেন্টাইন সেন্টারের ব্যবস্থা করা ও প্রয়োজনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য হাসপাতাল স্থাপন করা। আমরা প্রস্তুত রয়েছি। ইতোমধ্যে সিলেট শহীদ শাসছুদ্দিন মেডিকেল হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তাই আমাদেরকে মানুষের আতঙ্ক দূর করতে হবে। কথা বলা বা কাজ করার সময় পরস্পর থেকে একটু নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখবেন। হাত ধোয়ার অভ্যাস বৃদ্ধি করতে হবে। মসজিদ, মন্দির প্যাগোডা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, টিভি, স্থানীয় পত্রিকা, সমাজসেবী, রাজনীতিবিদ ইত্যাদির মাধ্যমে ব্যবহার করে জনসাধারণকে সচেতন করতে হবে।
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স ফেরদৌসি আক্তার ও পলাশ কুমার লস্করের সঞ্চালনায় সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বিএনএ সিলেট শাখার সাধারণ সম্পাদক ইসরাইল আলী সাদেক। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বিএনএ সিলেট শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সোলেমান আহমদ, স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের সভাপতি অনিক দে।
এর আগে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মঞ্চে আগত অতিথিদের উত্তরীয় দিয়ে বরণ করে নেন। এবং অতিথিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন।
আলোচনা সভা শেষে সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় ছিল শ্রুতি সিলেট, মনিপুরী নৃত্যালয়। একক পরিবেশনায় ছিল প্রতীক এন্দ, পল্লবী দাশ মৌ, বাউল লাল মিয়া, জহির অচিন পুরী, হ্যাপী, নিউ শাহানা, রেহেনা তাসনিম, অনামিকা গোপ।
আয়োজনের ৯ম দিন রোববার (১৫ মার্চ) বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের নিবেদনে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা থাকবে। ওই অনুষ্ঠানে সিলেটের সর্বস্থরের মানুষজনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন আয়োজকবৃন্দ।
আপনার মন্তব্য