১০ এপ্রিল, ২০২০ ২০:৩১
‘গত দু দিন ধরেই যে পানি পাচ্ছি তা দিয়ে কোন রকমে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করেছি, পানির ব্যবস্থা করে না দিলে স্যার আমরা লক ডাউন মানব না, আমরা ঘর থেকে বাহিরে বের হয়ে যাব’। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিজেন ব্যনার্জিকে ফোনে এই কথাগুলো বলেন কাছে কথা গুলো লকডাউনে থাকা উপজেলার বালিজুড়ি ইউনিয়নের লোহাচুড়া গ্রামের আলবাব মিয়া।
তার ফোনের পর শুক্রবার দুপুরে লকডাউনে থাকা ওই পরিবারে লোহাচুরা গ্রামের একটি টিউবওয়েল থেকে মটর স্থাপন করে পানির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন বলে জানান, বালিজুড়ি ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. একরামুল হুদা।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, লকডাউনে থাকা উপজেলার বালিজুরী ইউনিয়নের লোহাচুড়া গ্রামের মৃত মজর আলীর ছেলে পোষাককর্মী আলবাব মিয়া বাড়িতে আসার পর তাদের ১৪দিন নিজ বসত ঘরে থাকার নিদর্শনা দেয় উপজেলা প্রশাসন। এরপর পানি সমস্যার কারণে তারা বিশুদ্ধ পানি পান করা, গোসল ও রান্নাবান্নার কাজ করতে পারছেন না। গত দুদিন বালিজুড়ি ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ রান্নার কাজে পানি এনে দিয়েছিল। তা দিয়ে কোনো ভাবে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করেছেন তারা । বর্তমানে গরম পড়ার কারণে তার পরিবারের ৬ সদস্যের কেউই গোসল করতে পারছেন না। এ সমস্যা দূরীকরণের জন্য তিনি তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট ফোনে কথা বলার পর তিনি তাকে আশ্বাস দিয়েছেন পানির ব্যবস্থা করবেন।
বালিজুড়ি ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ একরামুল হুদা বলেন, টিউবওয়েল না থাকায় লকডাউনে থাকা পরিবারটি পানির অভাবে রান্না ও গোসল করতে পারছেন না। বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া রক্তি নদীটিও তাদের বসত ঘর থেকে অনেক দূরে। ইউএনও স্যার পানির ব্যবস্থা করে দেওয়ার এই পরিবারের এখন আর কোন সমস্যা নেই।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিজেন ব্যানার্জী বলেন, বালিজুড়ি ইউনিয়নের লোহাচুরা গ্রামে লকডাউনে থাকা পরিবার পোষাককর্মী আলবাব মিয়া ফোনে বলছেন তাদের পানির ব্যবস্থা না করলে ঘর থেকে বেরিয়ে যাবে। এ ধরনের কথা শুনে খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারেন আসলেই তারা পানির সমস্যা ভুগছেন। পরে দুপুরে গ্রামের একটি টিউবওয়েল থেকে মটর স্থাপন করে পানির ব্যবস্থা করে দিয়েছি।
উল্লেখ্য,গত ৬ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ থেকে তাহিরপুর উপজেলার বালিজুড়ি ইউনিয়নের লোহাচুরা গ্রামে আসা গ্রামের মৃত মজর আলীর ছেলে পোষাককর্মী আলবাব মিয়া । তিনি বালিজুড়ি ইউনিয়নের লোহাচুরা গ্রামের বাসিন্দা। গত ৮এপ্রিল বুধবার থেকে তিনি উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে পরিবারে ৬ সদস্য নিয়ে লকডাউনে আছেন।
আপনার মন্তব্য