১১ এপ্রিল, ২০২০ ১৮:০৪
সুনামগঞ্জের হাওরের বোরো ধান পাকতে শুরু করেছে। এবার ফলনও হয়েছে ভালো। কিন্তু লকডাউনের কারণে শ্রমিক সংকট নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
প্রতিবছর বিভিন্ন জেলা থেকে ধান কাটার জন্য মানুষ আসলেও করোনাভাইরাসের সংক্রামন ঠেকাতে এবার বাইর থেকে শ্রমিক না আনার জন্য অনুরোধ করেছে প্রশাসন। তাছাড়া স্থানীয় বালুমহাল ও বারকি শ্রমিকদেরও কাজ বন্ধ করে হাওরে গিয়ে ধান কাটতে আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন। তবুও কৃষকদের চোখে উৎকন্ঠা, শ্রমিক না পেলে সোনালী ধানগুলো হয়তো পানিতে ভেসে যাবে। তাই কৃষকদের সহায়তা এবং শ্রমিকদের উৎসাহ প্রদান করতে নতুন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে প্রশাসন। যাতে বলা হচ্ছে যারা ধান কাটতে মাঠে যাবেন তাদের খাবার সামগ্রী দেওয়া হবে।
শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সকল উপজেলার হাওরগুলো ধানকাটার জন্য শ্রমিক নিয়োজিত করতে এলাকায় মাইকিং করার জন্য চেয়ারম্যানদের অনুরোধ করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ। সাথে যারা মাঠে কাজে যাবেন তাদেরকে খাদ্য সামগ্রী উপহার দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যনুযায়ী, সুনামগঞ্জের ১১টি উপজেলার ছোট-বড় ১৫৪টি হাওরে এবছর বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। যার মাধ্যমে ২ লক্ষ ১৯ হাজার ৩০০ হেক্টর জামিতে জমিতে বোরো ধানের আবাদ হলেও তার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে প্রায় ১২ লাখ মেট্রিক টন।
অন্যদিকে হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, সঠিক সময়ে যদি ধান কৃষক ঘরে তুলতে না পারে তাহলে বৃষ্টির আসার পর সব ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। তাদের দাবি সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে দ্রুততার সাথে হাওরের বোরো ধান কাটার ব্যবস্থা করা। জেলা প্রশাসক বরাবর ৯ দফা দাবি জানিয়ে স্মারকলিপিও প্রদান করেছে সংগঠনটি।
এ ব্যপারে হাওর বাঁচাও আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন, এখন কৃষকদের ধান কাটার উপযুক্ত সময়। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে কৃষকরা বাইরের জেলা থেকে শ্রমিক না আনতে পারায় অনেক দুশচিন্তায় রয়েছে। তাই আমরা চাই যারা এ করোনাভাইরাসের কারণে বেকার জীবনযাপন করছেন এবং বালুমহাল ও বারকি শ্রমিকদের হাওরে গিয়ে ধান কাটতে হবে। যে বা যারা ধান কাটার জন্য যাবেন তাদের খাদ্য সহায়তা প্রদান করতে হবে এবং কৃষক যেনো সরাসরি ধান খাদ্য গোদামে দিতে পারেন সেজন্য প্রশাসনের কঠোরভাবে মনিটরিং করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, যদি আমরা আমাদের ধানগুলো ঘরে তুলতে না পারি আর বৃষ্টি শুরু হয়ে যায় তাহলে কৃষককে পথে বসা ছাড়া কোন উপায় নেই। করোনাভাইরাস সংক্রামন ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ধান কাটলে আশা করি আমাদের এখানে করোনা সংক্রামন হবে না।
তাছাড়া হাওরে ধান কাটার জন্য দুর্গম এলাকার কৃষকদের প্রাশ্ববর্তী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মাদরাসায় থাকার ব্যবস্থা করা এবং যারা মাঠেই থাকবেন তাদের জন্য উপজেলা নির্বাহী কাছ থেকে তাবু সংগ্রহ করারও অনুরোধ করেছেন জেলা প্রশাসক।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, সুনামগঞ্জের কৃষকরা যেনো বোরো ফসল ঘরে তুলতে পারে সেজন্য আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। বারকি ও বালুমহাল শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করে হাওরে গিয়ে ধান কাটার জন্য অনুরোধ করেছি এবং যে বা যারা হাওরে ধান কাটতে কৃষকদের সহায়তা করবেন আমরা তাদের খাদ্য সামগ্রী দিবো। কারণ যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব আমাদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ধানগুলো ঘরে তুলে নিতে হবে।
আপনার মন্তব্য