১৫ এপ্রিল, ২০২০ ১৯:৫৫
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. মঈন উদ্দিনের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতকে এসে পৌঁছেছে। রাত সাড়ে সাতটার দিকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে মরদেহটি ছাতকের উত্তর খুরমা ইউনিয়নের নাদামপুরে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে।
এসময় সমবেত হওয়া আত্মীয়-স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেও কাউকে মরদেহের কাছে যেতে দেওয়া হয়নি।
ছাতক উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাপস শীল সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোরকে বলেন, পরিবারের ইচ্ছায় গ্রামের বাড়িতেই দাফন হচ্ছে ডা. মঈনের। তবে সংক্রমণ স্বাস্থ্য বিধি মেনে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এই দাফনের আয়োজন করেছে।
মঙ্গলবার ভোরে ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ডা. মঈন। দুপুরে তার মরদেহ নিয়ে ছাতকের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন পরিবারের সদস্যরা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সিলেটের সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান বলেন, সংক্রমণের ঝুঁকি থাকায় করোনায় মারা যাওয়া ব্যক্তির লাশ দূরে নিয়ে না যাওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। তবে ডা. মঈনের পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। ভাইরাস যাতে না ছড়াতে পারে এজন্য বিশেষভাবে প্যাকেটজাত করে ও জীবাণুনাশক দিয়ে তার মরদেহ আনা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ৫ এপ্রিল সিলেটে করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) প্রথম আক্রান্ত রোগী হিসেবে এই চিকিৎসককে সনাক্ত করা হয়। সেদিন রাতে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) এর বরাত দিয়ে ওই রোগীর কোভিড-১৯ পজিটিভ পাওয়ার তথ্য জানান সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মণ্ডল।
তখন তিনি জানান, আক্রান্ত চিকিৎসক বেশ কিছুদিন ধরে জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। শনিবার তার রক্তের নমুনা ঢাকায় প্রেরণ করলে রোববার বিকেলে রিপোর্ট পজিটিভ আসার কথা জানানো হয়। তবে ওই রোগীর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক নয় বলেও সে সময় জানান সিভিল সার্জন। তখন থেকেই তিনি বাসায় সেলফ আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।
পরে ৭ এপ্রিল রাতে তার শারীরিক অবস্থায় অবনতি হলে আশঙ্কাজনক বাসা থেকে ওই চিকিৎসককে সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের আইসোলেশন সেন্টারে নেয়া হয়। প্রথমে হাসপাতালের আইসিইউতে নেয়া হলেও পরে সাড়ে ১১টার দিকে কেবিনে নিয়ে আসা হয়। অক্সিজেন সাপোর্ট দিয়ে তার শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখা হয়।
তবে পরদিন ৮ এপ্রিল ঢাকায় পাঠানো হয় এই চিকিৎসককে। সেদিন বিকেল সাড়ে পাঁচটায় একটি বেসরকারি হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে প্রেরণ করা হয় তাকে। সেখানেই ৭দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ সকাল পৌনে সাতটায় তিনি মারা যান।
আপনার মন্তব্য