সাপাহার প্রতিনিধি

০১ ফেব্রুয়ারি , ২০২০ ২৩:০৯

বাল্যবিয়ে দেওয়ার অপরাধে কাজী ও বর জেলহাজতে

কাজী মো. মোবারক আলী

নওগাঁর সাপাহারে বাল্যবিয়ে দেওয়ার অপরাধে কাজী ও বরকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, এই মামলার বাদী মেয়ের দাদা মো. ইব্রাহিম জানান, ৬ জানুয়ারি সকালে শহীদ পিংকু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অপ্রাপ্ত বয়স্কা (১৩) ৭ম শ্রেণির ছাত্রী বিদ্যালয়ের উদ্দেশে রওনা হয়। স্কুল ছুটির পরে বাড়িতে না ফিরলে বাড়ির সকলেই বিভিন্ন যায়গায় খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে শ্রীকৃষ্ণপুর কুলাডাঙ্গা গ্রামের আবু তালেবের ছেলে মো. আকতারুল ইসলাম, শাকিল ও আতাউর জানায় যে, কুলাডাঙ্গা গ্রামের আফসার আলীর পুত্র মো. আসাদুল (২২) তার কিছু বন্ধু-বান্ধবসহ মেয়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে জোরপূর্বক চার্জার ভ্যানে তুলে নিয়ে সারাইগাছীর দিকে নিয়ে যায়। বিষয়টি পরিবারকে জানালে তার পরিবার বলে আপনার নাতনী আছে পরে বের করে দেওয়া হবে। এক পর্যায়ে তারা বিভিন্ন রকম টালবাহানা করতে থাকে। শেষে আসাদুলকে ১নং, মোসা. নাজমা ওরফে নাজু স্বামী: মো. তসলিম ২নং ,আলমগীর হোসেন পিতা: জালাল ৩নং, আমানল্লাকে পিতা: মো. জিয়ার ৪নং, ৫নং পারভীন স্বামী: আফসার আলী আসামি করে মামলা নং ১১ তাং ১৫/০১/২০২০ তারিখে পোরশা থানায় ধারা ৭/৩০/২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন আইন সংশোধনী ২০০৩ রুজু করা হয় এবং বিষয়টি সহকারী পুলিশ সুপার সাপাহার সার্কেল কার্যালয়ে অবগত করা হয়।

শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০ টায় সহকারী পুলিশ সুপার সাপাহার সার্কেল বিনয় কুমার’র সাথে কথা হলে তিনি জানান, নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান মিয়া বিপিএমের সহায়তায় মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে আসামিকে গ্রেপ্তার করার উদ্দেশে পোরশা থানার এসআই শাহিন চৌধুরী ভিকটিমের এক আত্মীয়কে সাথে নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে চট্টগ্রামের থানা পুলিশের সহায়তায় ভিকটিমসহ আসামিকে গ্রেপ্তার করে পোরশা থানায় আনা হয়।

আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, মেয়েটিকে সে রেজিস্ট্রি করে বিয়ে করেছে। মেয়ের বয়স কম হওয়ায় তাকে বলা হয় কোন কাজী তোমাদের বিয়ে রেজিস্ট্রি করেছে, তখন সে জানায় সাপাহার কাজী অফিসের কাজী। গত ২৯ জানুয়ারি ২০২০ বুধবার সন্ধ্যায় সাপাহার কাজী অফিসের কাজী মোবারক আলীকে সাপাহার সার্কেল অফিসে আনা হয় এবং আসাদুল ও মঞ্জিলার বিয়ের বিষয়টি জানানো হয়, প্রথমে কাজী বিষয়টি অস্বীকার করে টালবাহানা শুরু করে। কিছুক্ষণ পরে আসামি আসাদুলকে কাজীর মুখোমুখি করলে কাজী মোবারক আলী- “হাসান আলী মিরপুর ঢাকা” নামে ভুয়া সিল তৈরি করে বিয়ে রেজিস্ট্রি করেছে স্বীকার করলে তাকে আটক করে। ঐ রাতেই সহকারী পুলিশ সুপার বিনয় কুমার পোরশা থানা পুলিশের হাতে আসামিকে তুলে দেন।

শনিবার সকালে পোরশা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিনুর ইসলাম জানান, ভুয়া সিল তৈরি করে বাল্যবিয়ে দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা হলে বৃহস্পতিবারে আসামি আসাদুল ও কাজীকে নওগাঁ জেলহাজতে প্রেরণ করা হয় ।

আটক কাজী মো. মোবারক আলী সাপাহার উপজেলার কোচকুড়লীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ইসলাম ধর্মের শিক্ষক এবং সাপাহার মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত