তাহিরপুর প্রতিনিধি

১৯ ডিসেম্বর, ২০২৩ ২১:১১

সুনামগঞ্জ-১: নৌকাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা

সুনামগঞ্জ-১ আসনে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রতীকের প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মাঠে ব্যাপক প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে তাদের সঙ্গে আড়ালে থাকা দলের পদবীধারী অসংখ্য নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে নির্বাচনী মাঠে কাজ করায় ও প্রচার প্রচারণা শুরু করেছেন।

নির্বাচনী মাঠে তাদের চ্যালেঞ্জের মুখে আছেন আওয়ামী লীগের নৌকার মনোনীত প্রার্থী। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে।

তারা জানান, যারা নৌকার প্রার্থী হয়ে আগের নির্বাচনেগুলোতে নির্বাচিত হয়েছিল তারা এখন স্বতন্ত্র প্রার্থী। তাদের চেয়ে নতুন প্রার্থীদের অবস্থান কোনো অংশে কম নয়। এছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থীদের অবস্থান ও আশাব্যঞ্জক। নৌকা জয়ের বন্দরে পৌঁছতে অনেক প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। নির্বাচনে হবে আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই।

জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও বালিজুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজাদ হোসাইন জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা উন্মুক্ত নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ায় এবং ১৭ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও এসব প্রার্থীদের কেন্দ্রীয় আদেশ ছাড়া বহিষ্কার কার্যকর হবে না এমন ঘোষণা দেওয়ায় অনেকটা ভারমুক্ত আছেন এসব প্রার্থীরা।

এদিকে, সুনামগঞ্জ-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য অ্যাডভোকেট রনজিত সরকারকে। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন রতন ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য, জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য, জেলা শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি ও সুনামগঞ্জ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সেলিম আহমেদ।

আওয়ামী লীগ প্রার্থী অ্যাডভোকেট রনজিত সরকার প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থীকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করাতে নানা ভাবে আহ্বান জানালেও কোনো কাজ হয়নি। বরং নির্বাচনী মাঠে তিন জনেরই বিপুল জনবল থাকায় এবং ভোটারদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা থাকায় এই আসনে ত্রিমুখী ভোট যুদ্ধে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা দলীয় প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাই এই আসনে ত্রিমুখী লড়াইয় হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা।

সুনামগঞ্জ-১ আসনে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী অ্যাডভোকেট রঞ্জিত চন্দ্র সরকার জানান, আমার নেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি সুনামগঞ্জ-১ আসনে যে উন্নয়ন করেছেন তার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে আমাকে নৌকা প্রতীক দিয়ে পাঠিয়েছেন। আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের ভোটারগণ আমাকে গ্রহণ করেছে। তারা আমাকে তথা নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে মাঠে কাজ করছে। নৌকার বিজয় হবেই।

স্বতন্ত্র প্রার্থী সেলিম আহমেদ (প্রতীক ঈগল) বলেন, আমি ভোটার ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের যে কথা দিয়েছিলাম তা রেখেছি, নির্বাচন করছি। দীর্ঘদিন ধরে মাঠে নানান ভাবে নেতাকর্মীদের সুখে দুখে পাশে থেকেছি। সবাই আমাকে চাইছে, প্রচারণায় ব্যাপক সমর্থন পাচ্ছি; দলীয় নেতা কর্মীরা আমার সঙ্গে আছে। আমাকে নির্বাচন থেকে সরানোর জন্য নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। তৃণমূল নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের ভোটারের দোয়া রয়েছে আমার সঙ্গে, শেষ পর্যন্ত আমি আছি আর থাকব, লড়াই করে যাব; বিজয় আমারই হবে।

আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন (প্রতীক কেটলি) বলেন, আমি এলাকার কোন বিভেদ, বিশৃঙ্খলা, চাঁদাবাজি, রাহাজানি সন্ত্রাসী-নৈরাজ্যের সৃষ্টি করিনি, কাউকে করতে দিইনি। এলাকার উন্নয়ন করেছি শেখ হাসিনা নেতৃত্বে। তাই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী-সমর্থকসহ সর্বমহলে আমার জনপ্রিয়তা রয়েছে; তার প্রমাণ হবে ৭ জানুয়ারি ভোটের দিন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত