২২ ডিসেম্বর, ২০২৩ ২২:৫৯
সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শফি আহমেদ চৌধুরীর ভোটের রাজনীতিতে ‘রহস্যজনক’ অবস্থান নিয়েছেন। গেলো বছরে আওয়ামী লীগের হাবিবের পাশে থেকে নির্বাচনে তার জন্য ভোট চাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও দেখা গেলো উল্টো চিত্র। বিএনপি’র এই বহিষ্কৃত নেতা ভোট চাইলেন স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে।
২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে সিলেট-৩ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া শফিকে ঘিরে দেখা দিয়েছে ধুম্রজাল। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও বর্তমান এমপি হাবিবুর রহমান হাবিবকে(নৌকা) কথা দিয়ে কথা রাখলেন না বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা শফি। ‘ট্রাক’ প্রতীকে ভোট চাইলেন ওই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী দুলালের জন্য।
২০২২ সালের ৫ই মার্চ দক্ষিণ সুরমার লতিফা-শফি চৌধুরী কলেজের একটি অনুষ্ঠানে একই মঞ্চে বসেছিলেন এমপি হাবিব ও শফি চৌধুরী। নিজের প্রতিষ্ঠানে এমপি হাবিবকে মঞ্চে নিজের পাশে বসিয়ে শফি মাইকে সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় বলেছিলেন- ‘দরকার হলে আমি তান লগে লগে ঘুইরা ইলেকশন করবো। আমি আর ইলেকশন করতাম নায়। এই ধরনের মানুষের আমরার দরখার। যে এলাকার উন্নয়ন করে, মানুষের রাজনীতি করে; এই মানুষের পিছে আমরার দৌঁড়ানো দরকার। আমি ইলেকশনে খাড়া হইছিলাম, আমার বিএনপির যারা আছইন এরা নিয়ে ঢুকাইছিলা। আমি বুঝছি নাই। এখন উনার (হাবিব) সঙ্গে দেখা হইছে আমি ইলেকশনে আইতাম নায়।’
আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হাবিবকে নিয়ে এসব কথা বলায় তার কর্মী-সমর্থকদের মনে জায়গা করে নেন সাবেক এমপি শফি। অনেকে শফি চৌধুরীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ। কিন্তু গত বুধবার সন্ধ্যায় দেখা গেল উল্টো চিত্র। নির্বাচনী মাঠে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবের প্রতিদ্ব›দ্বী ওই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. দুলালের মোগলবাজারে নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধনে উপস্থিত থেকে ‘ট্রাক’ প্রতীকে ভোট চাইলেন শফি।
বক্তব্যে সাবেক সংসদ সদস্য শফি আহমেদ চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগের এমপি হাবিবুর রহমান হাবিব আমাকে লিডার বলে ডাকেন। হাবিব বলেছিলেন আমার এলাকার দুটি রাস্তা করে দিবেন। কিন্তু তিনি আমার মোগলাবাজার ও দাউদপুর এলাকায় কোনো উন্নয়নমূলক কাজ করেননি। আপনারা খেয়াল রাখবেন, এবারের নির্বাচনে ভোট যেন কেউ ছিনিয়ে নিতে না পারে। গত উপ-নির্বাচনে আমার এলাকার সেন্টার থেকে আমার ভোটারদের ভোট কিভাবে অন্য প্রতীকে গেছে তা আমি জানি। দিয়েছে ভোটাররা আমাকে ভোট কিন্তু হিসেবে গিয়েছে নৌকায়। অথচ মোগলাবাজার ও দাউদপুর আমার এলাকা। তাই আপনারা সবাই সজাগ থাকবেন, কেউ যেন ভোট কেন্দ্র দখল করতে না পারে।
তিনি আরও বলেন, মোগলাবাজার ইউনিয়ন দক্ষিণ সুরমা উপজেলার ঘাঁটি। হাবিবুর রহমান কিভাবে আওয়ামী লীগের নমিনেশন এনেছেন তা আমরা জানি। আপনারা স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. দুলালকে ভোট দিবেন। আমার বিশ্বাস দুলাল একজন ভালো মানুষ। তিনি আপনাদের জন্য কাজ করবেন। ট্রাক প্রতীকে ডা. দুলালকে আপনারা ভোট দিলে উন্নয়ন পাবেন। একজন যোগ্য মানুষ দুলালকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করুন। ডা. দুলাল আমার ভাগনা। তার পরিবারের অনেক ঐতিহ্য রয়েছে।
গত ২০২১ সালের ৪ঠা সেপ্টেম্বর সিলেট-৩ আসনের উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ আসনের তিনবারের আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর মৃত্যুর পর শূন্য হওয়া আসনে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন হাবিবুর রহমান হাবিব, জাতীয় পার্টি থেকে প্রার্থী হন আতিকুর রহমান আতিক ও স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচন করেন শফি আহমেদ চৌধুরী। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব জয়লাভ করে এমপি নির্বাচিত হন। পরাজিত হন শফি আহমদ চৌধুরী। তিনি ছিলেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সদস্য। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। নির্বাচনে হাবিবের মুখোমুখি ছিলেন শফি চৌধুরী। ওই সময় মাঠে দু’জনের মধ্যে কথার যুদ্ধ হয়েছে। একজন আরেকজনকে আক্রমণ করেও বক্তব্য রাখেন। এ কারণে তাদের দু’জনকে নিয়ে ভোটারের মধ্যে ছিল ভিন্ন আমেজ। তবে সেই মুখোমুখি বেশিদিন দীর্ঘ হয়নি। নির্বাচনের পরদিন হাবিবুর রহমান হাবিব নিজেই শফি আহমদ চৌধুরীর কাছে ছুটে গিয়েছিলেন। সহযোগিতাও কামনা করেছিলেন।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৩ আসনে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন হাবিবুর রহমান হাবিব(নৌকা), আতিকুর রহমান আতিক(লাঙ্গল), স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল, বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী শেখ জাহেদুর রহমান (মোমবাতি), ইসলামী ঐক্য জোটের প্রার্থী মো. মইনুল ইসলাম (মিনার) ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) প্রার্থী আনোয়ার হোসেন আফরোজ (আম)।
আপনার মন্তব্য