নিজস্ব প্রতিবেদক

৩০ ডিসেম্বর, ২০২৩ ২৩:০৮

স্বতন্ত্রের চ্যালেঞ্জ নেই, মৌলভীবাজারে ‘নির্ভার’ আওয়ামী লীগের ৩ প্রার্থী

ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজারের ৪টি আসনের মধ্যে ১টি আসন ছাড়া অন্যগুলোতে দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীর যন্ত্রণামুক্ত আছেন প্রার্থীরা। আসনগুলো হচ্ছে- মৌলভীবাজার-১, মৌলভীবাজার-৩ ও মৌলভীবাজার-৪। তবে মৌলভীবাজার-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর ‘মাথাব্যথার কারণ’ হয়ে উঠেছেন দলটির এক নেতা।

অন্যদিকে নিজ দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীর চ্যালেঞ্জ না থাকায় মৌলভীবাজারে আওয়ামী লীগের তিন প্রার্থীর নির্বাচনি বৈতরণী পার হওয়া অনেকটা ‘সহজ’ মনে হলেও অন্য দলের প্রার্থীদেরও ‘সমান গুরুত্বপূর্ণ’ বলছেন তারা। তবে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকলেও নির্বাচনের দিন ভোটারকে কেন্দ্রে নিয়ে আসাকেই বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট প্রার্থী ও তাঁর সমর্থকেরা। তাই প্রতিদিন নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে তাঁরা পৌঁছে যাচ্ছেন প্রতিটি ভোটারের দ্বারে দ্বারে।

মৌলভীবাজার-১ আসনে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, মৌলভীবাজার-৩ আসনের মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান ও মৌলভীবাজার-৪ আসনের সাবেক চীফ হুইপ মো. আব্দুস শহীদকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া কোনো আওয়ামী লীগ নেতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে না।

অন্যদিকে মৌলভীবাজার-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী একেএম সফি আহমদ সলমান ও তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য এম এম শাহীন ছাড়াও ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। তবে মূল লড়াই হবে নাদেল, সফি ও শাহিনের মধ্যে। তবে দলের শক্ত স্বতন্ত্র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকায় নাদেলের জন্য লড়াইটা একটু কঠিন হয়েছে। এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা।

অপরদিকে বিএনপিবিহীন নির্বাচনে শক্ত কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় এই জেলায় এক মন্ত্রী ও দুই এমপির নির্বাচনি বৈতরণী পার হওয়া ‘অনেকটাই সহজ’ হয়ে গেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা।

যদিও বিষয়টিকে সেভাবে দেখছেন না ওই তিন প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সমন্বয়কারীরা। তারা বলছেন, শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না হলেও লড়াইটা কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ।

মৌলভীবাজার-১

বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলা নিয়ে গঠিত মৌলভীবাজার-১ আসনে নৌকার প্রার্থী মো. শাহাব উদ্দিনের সাথে প্রতিদ্ব›দ্বীতা করছেন তিনজন। তারা হলেন- জাতীয় পার্টির প্রার্থী আহমেদ রিয়াজ, তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, ধর্মভিত্তিক সংগঠন আল ইসলাহ নেতা কাজী ময়নুল ইসলাম। মো. শাহাব উদ্দিন আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন।

৩ লাখ ১৫ হাজার ৬৩৫ ভোটারের এই আসনে প্রচার শুরুর পর থেকেই মো. শাহাব উদ্দিন বিভিন্ন এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। তার পাশাপাশি জাতীয় পার্টির প্রার্থী আহমেদ রিয়াজ প্রচারণা চালালেও অন্য দুই প্রার্থীর ভোটের প্রচার ‘তেমন নেই’।

বড়লেখা-জুড়ীর বিভিন্ন এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন শাহাব উদ্দিন:
শক্ত প্রতিদ্ব›দ্বী না থাকা সত্তে¡ও শাহাব উদ্দিন একদম থেমে নেই। প্রতিদিন নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে পৌঁছে যাচ্ছেন প্রতিটি ভোটারের দ্বারে দ্বারে। শহর থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের ভোটারদের কাছে গিয়ে চাচ্ছেন ভোট। করছেন দলীয় সভা। এলাকার সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত নিশ্চিত করাই তার লক্ষ্য।

আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয়রা বলছেন, বিএনপি নির্বাচনে না আসায়, শক্তিশালী কোনো প্রার্থী না থাকায় অতীতের ধারাবাহিকতায় আবারও ‘জয়ের পথে’ রয়েছেন নৌকার প্রার্থী।

বড়লেখা উপজেলার বর্ণি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এনাম উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের প্রার্থী একজন সৎ ও পরিচ্ছন্ন এবং জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ। তিন জয়ী হবেন এটা নিশ্চিত। তবে আমাদের লক্ষ্য ভোটার উপস্থিতি বাড়ানো। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কে, আমরা সেটা বিবেচনায় না নিয়ে প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছি।’

মৌলভীবাজার-৩
মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত মৌলভীবাজার-৩ আসন। এ আসনে প্রার্থী রয়েছেন ৭ জন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান (নৌকা) ছাড়াও প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের আব্দুল মোসাব্বির (মশাল), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো. আব্দুর রউফ (মোমবাতি), জাতীয় পার্টির মো. আলতাফুর রহমান (লাঙ্গল), বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির তাপস কুমার ঘোষ (হাতুড়ি), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট) এর মো. ফাহাদ আলম (ছড়ি), ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. আবু বকর (আম)। এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৩৮৮ ভোটারের এই আসনে প্রচারের শুরুর থেকেই গণসংযোগ, আলোচনা, সমাবেশ এবং বিভিন্ন বৈঠকের মধ্য দিয়ে ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন জিল্লুর রহমান।

মৌলভীবাজার-৪
শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত মৌলভীবাজার-৪ আসন। ৪ লাখ ৫৯ হাজার ১০১ ভোটের এ আসনে প্রার্থী রয়েছেন ৩ জন। প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মো. আব্দুস শহীদ (নৌকা), ইসলামী ঐক্যজোটের মো. আনোয়ার হোসাইন (মিনার), এবং বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের আবদুল মুহিত হাসানী (মোমবাতি)। এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সঙ্গে কেউ স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন না করায় লড়াই তেমন একটা জমবে না। এমন মন্তব্য করেছেন স্থানীয় একাধিক ভোটার। আলাপকালে ভোটার রবিউল হক বলেন, ‘কোনো শক্ত প্রার্থী নাই। তাই এখানে নৌকার প্রার্থী সহজেই জিতবে।’

আপনার মন্তব্য

আলোচিত