০৭ জানুয়ারি, ২০২৪ ০১:০৯
গায়ত্রী রায় (২২)। সুনামগঞ্জ-১ আসনের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট বাজার ইউনিয়নের গড়কাটি গ্রামের বাসিন্দা তিনি। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই সিলেট শহরে পড়াশোনার সুবাদে সিলেট নগরীর মির্জাজাঙ্গাল এলাকায় বসবাস করছেন। বর্তমানে তিনি মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজ, সিলেট-এ অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে (বাংলা বিভাগ) অধ্যয়নরত । লেখাপড়ার পাশাপাশি লেখালেখি, আবৃত্তি, নাটক, তবলা বাজানোতে পারদর্শী গায়ত্রী সিলেটের সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও কাজ করছেন স্ব-মহিমায়। এবারই তিনি প্রথম ভোট দেবেন।
সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোরের কাছে ভোট নিয়ে তিনি তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন সিলেটটুডের নিজস্ব প্রতিবেদক শাকিলা ববি।
সিলেটটুডে: প্রথম ভোট দেবেন। কেমন অনুভূতি?
গায়ত্রী: ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অত্যন্ত উৎফুল্ল এই জন্যই যে, এবারেই আমি প্রথমবারের মতো ভোট প্রদানে অংশগ্রহণ করব। ২০১৮ সালের নির্বাচন থেকেই মূলত, সেই নির্বাচনী আমেজটাকে অনুভব করতে পারি। তবে, এবারে একেবারেই ভিন্ন অনুভূতি!
সিলেটটুডে: প্রার্থীর কী কী যোগ্যতা বিচার করে আপনি ভোট দেবেন?
গায়ত্রী: যেকোনো একাত্মমূলক কাজের ক্ষেত্রে, অধিনায়কত্ব বিশেষ ভূমিকা পালন করে। একজন অধিনায়ক দলের অন্যান্য সদস্যদের থেকে অনেক বেশি উজ্জ্বল আলো ছড়ানোর সামর্থ্য রাখেন, তার মানবিক নেতৃত্বের গুণাবলির মাধ্যমে। সেই সাথে বলতে চাই, বর্তমান সময় প্রযুক্তির হাত ধরে অনন্য পথে এগিয়ে যাচ্ছে! তবে, যদি আত্মিক মর্যাদাসম্পন্ন আলোকিত মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রকাশ করতে হয়, সেক্ষেত্রে বিশেষভাবে ভূমিকা রাখে শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি। একাধারে প্রযুক্তি কিংবা বিজ্ঞান, শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতিমনা এবং মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন সেরা অধিনায়ক-কেই আমি যোগ্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করি।
সিলেটটুডে: যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনে কি আপনার সুযোগ আছে?
গায়ত্রী: জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, তাহিরপুর ও মধ্যনগর-এই চার উপজেলা নিয়েই আমাদের সুনামগঞ্জ-১ আসন । সেখানে আওয়ামী লীগসহ স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও আছেন। আমার বিবেচিত যোগ্যপ্রার্থী অর্থাৎ শিল্প, সংস্কৃতিমনা একজন অনুপম ব্যক্তিত্বের অধিকারী প্রার্থীকে নির্বাচন করতে দ্বিধায় পড়তে হচ্ছে। তবুও যেকজন আছেন, তাদের মধ্যে তুলনামূলক সমৃদ্ধ যাকে মনে হবে, তাকেই ভোট প্রদান করব।
সিলেটটুডে: নির্বাচন নিয়ে প্রত্যাশা কী?
গায়ত্রী: একটি দেশ গঠনে, দেশকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে উপস্থাপন করার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখে সেই দেশের সরকার। বিশ্বমঞ্চে সরকারই অধিনায়ক। সেক্ষেত্রে, নির্বাচনের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীরা বিজয়ী হয়ে, উন্নত ও সমৃদ্ধ সরকার গঠনের ওপর আমাদের দেশের অগ্রগতি নির্ভর করবে এবং সেই গুরুদায়িত্বটিই পালন করতে হবে আমাদের। আমরা যারা দেশের নাগরিক হিসেবে ভোট প্রদানে অংশ নিবো, যোগ্য প্রার্থীকে ভোট প্রদানে করে সকল ক্ষেত্রে দেশের ঐশ্বর্য বজায় রাখব। লাখো লাখো শহিদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে যে স্বাধীন বাংলাদেশ আমরা পেয়েছি, তাকে মায়ের মতো আদর আর শ্রদ্ধায় পরিপূর্ণ করে, গর্বিত দেশ হিসেবে যেন বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে পারি! নির্বাচনী মহাযজ্ঞে সেই প্রত্যাশাই রাখি। জয় হোক বাংলার প্রতিটা প্রাণের। জয় বাংলা।
আপনার মন্তব্য