আজ শুক্রবার, , ২৭ এপ্রিল ২০১৮ ইং

রিপন দে

১২ এপ্রিল, ২০১৮ ১৯:৪৮

মহাবিপন্ন প্রাণি ‘মুখপোড়া হনুমান’

ছবি: আদনান আজাদ

দেশের প্রতিটি বন হারাচ্ছে জীববৈচিত্র্য। হুমকির মুখে আছে বেশির ভাগ প্রজাতির প্রাণির ভবিষ্যৎ। এভাবে চলতে থাকলে একদিন হয়তো শুধু ছবির পাতাতেই খুঁজে পাওয়া যাবে প্রাণিজগৎ। হাজারও বৈচিত্র্যময় প্রাণিতে একসময়  ভরপুর ছিল এই সবুজ শ্যামল বাংলাদেশ। যা এখন অনেকটাই নেই। প্রাণিজগতের বেশিরভাগ প্রাণি আজ বিরল বা বিপন্ন প্রজাতিতে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। এমনই এক মহাবিপন্ন প্রানিদের একটি 'মুখপোড়া হনুমান বা লাল হনুমান'।

‘মুখপোড়া হনুমান বা লাল হনুমান’' কে সাধারণত মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান, আদমপুর বিট ও রেমা-কালেঙ্গা বন্য প্রাণী অভয়ারণ্যে দেখা যায়। তাছাড়াও সিলেট এবং চট্টগ্রামে চিরসবুজ বনে দেখা যায়। এরা শান্তিপ্রিয় সাধারণত দিনের বেলায় বের হয়।

সবুজ বনের উঁচু গাছে গাছে ঘুরাঘুরি করে। চলাফেরা, খাবার সংগ্রহ, ঘুম, খেলাধুলা, বিশ্রাম, প্রজনন সবকিছু গাছেই সম্পন্ন করে। সচরাচর দলের সাথে ঘুরে বেড়ায়। দলে থাকা শক্তিশালী পুরুষ হনুমান দলের প্রধান নেতৃত্ব দেয়। দলবদ্ধ এই প্রাণীদের একেকটি দলে সচরাচর ২ থেকে ১৪টি প্রাণী থাকে।

মুখপোড়া হনুমান বা লাল হনুমান মানুষের মতই প্রাইমেট বর্গের সদস্য ‘লম্বা লেজওয়ালা’। এদের ইংরেজি নাম: CAPPED LEAF MONKEY এবং বৈজ্ঞানিক নাম: Trachypithecus pileatus।

মুখপোড়া হনুমানের লোমবিহীন মুখমণ্ডল, কান, হাত ও পায়ের পাতা কালো। মাথার চূড়া ও লেজের আগাও কালো। পিঠ ও দেহের ওপরের লোম গাঢ় ধূসর-বাদামি এবং বুক-পেট ও দেহের নিচ লালচে-বাদামি বা সোনালি। মাথার পেছনে লোম এমনভাবে মাথা ঢেকে রেখেছে যেন টুপির মত দেখায়।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষক তানিয়া খান জানান, এদের খাদ্য তালিকায় রয়েছে ফুল, ফল ও কচি পাতা। তবে আমড়া, আমলকী, হরীতকী, বহেড়া ইত্যাদি ফলও বেশ পছন্দ।

তিনি আরো জানান, মার্চ –জুলাই মাসে এরা প্রজনন সম্পন্ন করে। বন-জঙ্গল ধ্বংসের কারণে দিনে দিনে এদের সংখ্যা যে হারে কমছে, এখনই কোনো ব্যবস্থা না নিলে বিপন্ন এই প্রাণীটি অচিরেই হারিয়ে যাবে।

দিন দিন মানুষের দখলে চলে যাচ্ছে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল। বন্যপ্রাণীদের বাসস্থান দখল করে মানুষ গড়ছে ঘর-বাড়ি ও কল-কারখানা। বন উজাড় হচ্ছে যত বেগে ঠিক তত বেগে হারিয়ে যাচ্ছে বন্যপ্রাণী।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত