১৩ জুলাই, ২০২৬ ২১:৩২
সিলেট জেলায় অন্তত ৩০টি পর্যটনকেন্দ্র রয়েছে। এগুলোর বেশিরভাগই ভারত সীমান্তবর্তী। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে উপর নির্ভরশীল পর্যটনকেন্দ্রের সবগুলোই জেলার কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুরে অবস্থিত। কিন্তু দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে পর্যটকরা সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখতে অন্তত ৩-৪ দিন সময় ব্যয় করতে হয়। সকালে কেউ সাদাপাথর গেলে ফেরার পথে সর্বোচ্চ রাতারগুল বা বিছনাকান্দি ঘুরে দেখার সুযোগ পান।
এবার সিলেট সীমান্ত এলাকা দিয়ে সাড়ে ৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সড়কটি সিলেটের অন্তত ১৩টি পর্যটনকেন্দ্রের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করবে। ভোরে কেউ সিলেট শহর থেকে বের হলে সন্ধ্যার মধ্যে অর্থাৎ এক দিনে এই ১৩টি পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে আসতে পারবেন। আর বিশেষ সড়কের কারণে সিলেটের পর্যটন সম্ভাবনা আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে- এমনটা মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এলজিইডি সূত্র জানায়, পর্যটকদের সময় ও খরচ কমাতে এবার সিলেটের ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর থেকে বিছনাকান্দি পর্যন্ত সাড়ে ১৯ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া গোয়াইনঘাটের রাধানগর থেকে জাফলং পর্যন্ত আরও ১৩ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হবে। এই সাড়ে ৩২ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে চারটি সেতু নির্মাণ করবে এলজিইডি।
সূত্র জানায়, সীমান্তঘেঁষা সড়কটি নির্মানের পর পর্যটকরা ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের সৌন্দর্য্য দেখতে দেখতে সাদাপাথর হয়ে জাফলং পৌঁছাতে পারবেন। পথিমধ্যে তারা সাদাপাথর, উৎমাছড়া, দমদমা ছড়া, বিছনাকান্দি, লক্ষ্মণছড়া, পান্থমাই, খাসিয়াপল্লী, জাফলং, মায়াবিঝর্ণা, সমতল চা বাগান, তামাবিল ও নলজুড়ি ঝর্ণা দেখার সুযোগ পাবেন। ভোরে বের হলে সারাদিনে এই ১৩টি পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে জাফলংয়ে রাত্রিযাপন করতে পারবেন।
আর পরদিন জাফলং থেকে সিলেট আসা পর্যন্ত ঘুরে দেখতে পারবেন ডিবিরহাওর, লালাখাল, জৈন্তারাজবাড়ি, রাতারগুল, খাদিম চা বাগান, খাদিম জাতীয় উদ্যান, হযরত শাহপরাণ (রহ.) ও হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার।
এ বিষয়ে এলজিইডি সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন খান জানান, পর্যটন শিল্প বিকাশে বিশেষ সড়কটি নির্মাণের কাজ শিগগির শুরু হবে। আগামী বছরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। এই সড়ক ছাড়াও সিলেটের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রকে একটি সমন্বিত সড়ক নেটওয়ার্কে আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
আপনার মন্তব্য