আজ শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৯ ইং

উৎসব-উদযাপনে যৌনসন্ত্রাস এবং যৌনসন্ত্রাসের উৎসব

মুনীর উদ্দীন শামীম  

৭ মার্চ ২০১৮। সারা ঢাকাজুড়ে বাংলাদেশের জন্মইতিহাসের এক মহাগৌরবময় দিন উদযাপনের নানা কলরব পর্যবেক্ষণ, পেশাগত জরুরি দায়িত্বপালন, অতিনগরায়িত শহরের বাড়তি যানজট ঠেলে সন্ধ্যায় বাসায় ফেরার পর ফেইসবুকে ঢুকেই প্রথমে চোখে পড়ে অদিতী বৈরাগীর উপর সংঘটিত গণযৌনসন্ত্রাসের ঘটনাটি। কলেজপড়ুয়া একটি কিশোরী মেয়ে তার উপর সংঘটিত নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে ক্ষোভে, কষ্টে, ঘৃণায় লিখেছে-আমি এ শুয়োরের দেশে আর থাকবো না, জয় বাংলা বলে যারা মেয়ে মলেস্ট করে তাদের দেশে আমি থাকবো না, থাকবো না, থাকবো না।

অদিতীর কথাগুলো পড়েই মনটা এতখানি খারাপ হয়ে যায় যে, কী করবো বুঝতে পারি না, আমি নিশ্চল-নিশ্চুপ হয়ে বসে থাকি। অনেকক্ষণ। যেন আমার করবার কিছু নেই, বলবার কিছু নেই, অথবা বলবার আছে কিন্তু ভাষা নেই, শব্দ নেই, অভিব্যক্তি নেই। আমার চোখের সামনে কেবল ভাসতে থাকে, অদিতীর চেয়ে কয়েক বছরের ছোট আমার নিজের মেয়েটির কথা। অদিতীর মতো তাকেও প্রতিদিন বাসা থেকে বেরুতে হয়, স্কুলে যেতে হয়। আবার বাড়ি ফিরতে হয়। এক আতঙ্কগ্রস্ত বাবা-অভিভাবক হিসেবে আমার চোখের সামনে ভাসতে থাকে আপাতত অদিতীর মুখ নয়; বরং আমার কাছের খুব-খুব প্রিয় মুখগুলো। আমার হাত-পা কাঁপতে থাকে ওদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে, ওদের নিরাপত্তার কথা ভেবে, ওদের সামাজিক গতিশীলতা-চলাফেরা সংকুচিত হওয়ার ভয়ে। কিশোরী বয়সে ওদের পাখির মতো উন্মুক্ত ডানাগুলো দেখা-অদেখা হায়েনার ভয়ে ক্রমশ কেটে পড়ছে বলে। আমার মন আরও খারাপ হতে থাকে, যখন আমি ভাবতে থাকি, ঘটনাটি ঘটেছে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উদযাপনের মহাআয়োজনে অংশ নিতে যাওয়া একদল ’রাজনৈতিক কর্মী’ দ্বারা। প্রকাশ্যে, দিনের আলোয়, এ রাজধানী ঢাকায়।

আমার ধারণা ৭ মার্চ যেসব মা-বাবা-অভিভাবক অদিতীর পোস্ট দেখেছেন, সংবাদটি শুনেছেন, তাঁদের বেশিরভাগেরই মন খারাপ হয়েছে, তাঁরা আঁতকে উঠেছেন, অদিতীর জায়গায় নিজনিজ কন্যাসন্তান-প্রিয়জনদের মুখ কল্পনা করে। জনপরিসরে ঘটা একটি ভয়ানক যৌনসন্ত্রাসের ঘটনার প্রতিবাদ-প্রতিরোধের কথা না ভেবে,ঘটনার শিকার ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের কষ্টের- ক্ষোভের কথা না ভেবে নিজনিজ প্রিয়জনদের নিয়ে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ার যৌক্তিকতা নিয়েও আমি ভাবতে থাকি। এর উত্তর অনুসন্ধানে আমার মনে পড়ে যায় অধ্যাপক আলী রিয়াজের ’ভয়ের সংস্কৃতি- বাংলাদেশে আতংক ও সন্ত্রাসের রাজনৈতিক অর্থনীতি’ নামক বইটির কথা। যেখানে রিয়াজ বলেছেন, বাংলাদেশে ’নির্মিয়মান, ইতোমধ্যে নির্মিত ও প্রবলভাবে বিরাজমান’ একটি সংস্কৃতির কথা। তাঁর ভাষায় এ সংস্কৃতির নাম ’ভয়ের সংস্কৃতি’। যার প্রধান উপাদান হচ্ছে- আতংক ও সন্ত্রাস (রিয়াজ, প্রথমা, ২০১৪, পৃষ্ঠা-১১)। আমার মনে হতে থাকে- পানিতে ডুবে যাওয়ার সময় শুধু নিজে খড়কুঁড়ো আঁকড়ে বেঁচে থাকার চেষ্টার মতো বিচ্ছিন্নতা ও ভয়ের সংস্কৃতির কালে সমষ্টির জন্য নয়; শুধু নিজ প্রিয়জন নিয়ে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে থাকাটাও একটি অবশ্যম্ভাবী প্রবণতা। আমি, আমরা সবাই এখন ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় সম্ভবত সে প্রবণতার মধ্যেই বসবাস করছি।

উৎসব-উদযাপনে যৌনসন্ত্রাস
অদিতী সহ অন্তত সাতজন নারী ৭ মার্চ সমাবেশ অভিমুখি মিছিলকারীদের হাতে নিপীড়ন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে তাঁদের ফেইসবুক স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেছেন (ডেইলি স্টার, ৯ মার্চ, পৃষ্ঠা-১৭)। আমাদের স্বাধীনতা ও বাংলাদেশের জন্মইতিহাসের সাথে সম্পৃক্ত ৭ মার্চের মতো একটি ঐতিহাসিক দিন উদযাপনের দিনে এ রকম ঘটনা ঘটার অভিযোগ ওঠায় অনেকেই একটু বেশি হতবাক হয়েছেন, বেশি কষ্ট পেয়েছেন আবার অনেকেই ঘটনার সত্যতা নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত সংশয় প্রকাশ করেছেন। বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের একটি ঐতিহাসিক দিনকে বিতর্কিত করার রাজনীতিক ষড়যন্ত্রের গন্ধ বা অভিপ্রায়ও খুঁজেছেন। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না যে, উৎসব-উদযাপনে নারীর বিরুদ্ধে যৌনসন্ত্রাসের ঘটনা এবারই প্রথম নয়; বরং বাংলাদেশের দীর্ঘসময় ধরে চলমান যৌনসন্ত্রাসের একটি প্রধান প্রবণতা উৎসব-উদযাপন নির্ভর। কী শহর, কী গ্রাম, কী ধর্মীয় উৎসব, কী সামাজিক-সাংস্কৃতিক উৎসব, আর কী রাজনৈতিক উৎসব- প্রায় সবক্ষেত্রেই নারীর প্রতি যৌনসন্ত্রাস ঘটার অতীত অনেক উদাহরণ রয়েছে। শুধু দু’একটি মনে করিয়ে দিতে চাই।

২০১৫ সালের পহেলা বৈশাখ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সংঘটিত গণযৌনসন্ত্রাসের ঘটনা কারও স্মৃতি থেকে মুছে যাবার কথা নয়, মুছেও যায় নি। এক সময় একুশের বইমেলার প্রবেশ পথ ছিল যৌনসন্ত্রাসের অন্যতম ক্ষেত্র। আমার এখনও মনে পড়ে, তখন আমি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করি। ২০১২ সালের কথা। আমার এক সময়ের সহকর্মী তাঁর বিয়ের প্রথম বছর জীবনসঙ্গীকে নিয়ে বইমেলায় গিয়েছিলেন। ২১ ফেব্রুয়ারির দিনে। বাংলা একাডেমি চত্বরে একদল বখাটে তরুণ কীভাবে ঘিরে ধরে তাঁর জীবনসঙ্গীকে বিচ্ছিন্ন করে হেনস্তা করার চেষ্টা করেছিল পরের দিন সে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে তিনি জানিয়েছিলেন, তিনি আর কখনও কোন নারীকে নিয়ে বইমেলায় যাবেন না। তবে আশার কথা হচ্ছে ব্যবস্থাপনার কারণে বইমেলার পরিস্থিতি উন্নত হয়েছে। বইমেলাকে ঘিরে এ ধরনের ঘটনার কথা এখন আর শোনা যায় না।

আমাদের কারও কারও মনে থাকবার কথা শাওন আক্তার বাঁধনের নাম। ১৯৯৯ সালে টিএসসিতে ইংরেজি নববর্ষ উদযাপন করতে গিয়ে ভয়াবহ যৌনসন্ত্রাসের শিকার হয়েছিলেন তিনি। সেদিন তাঁর উপর সংঘটিত গণযৌননির্যাতন চাপা পড়েছিল রাত আর দিনের ব্যাকরণে। সামাজিক উচিত-অনুচিতের ঘেরাটোপে। যৌনসন্ত্রাসীদের শাস্তির দাবি যতটা না উঠেছিলো, টিএসসির যৌনসন্ত্রাসীদের প্রতি যতটা না ঘৃণা প্রকাশিত হয়েছিল তার চেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছিল- বাঁধন কেন নারী হয়ে রাতের বেলা টিএসসিতে এসেছিলেন সে বিষয়ে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার-আমাদের শিক্ষাজীবনকালকে যদি মনে করার চেষ্টা করি, তবে বলতে দ্বিধা নেই, দেশের এ সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে বিভিন্ন বিভাগের নবীনবরণ সহ নানা উপলক্ষে আয়োজিত ব্যান্ডসংগীতের অনুষ্ঠানগুলি ছিল নারী নিপীড়নের অন্যতম ক্ষেত্র।

ক্যাম্পাসে ছাত্রসংগঠনের মিছিল থেকে যৌনহয়রানির ঘটনার উদাহরণও দুষ্প্রাপ্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে এ ধরনের কমবেশি অভিযোগ ছাত্রলীগ, ছাত্রদল এবং শিবির সম্পর্কে রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গত শতকের আশির দশকে ছাত্রীদের ওড়না কেড়ে নেয়ার ঘটনায় বিপুল নিন্দা কুড়িয়েছিল ছাত্রদল। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মঘট ডেকে কলাভবনে তালা ঝুলিয়েছিল শিবির। ১৯৯১ সালে। সে তালা ভাংতে গেলে সেসময় ছাত্রীদের ওড়না কেড়ে নিয়েছিল শিবির। জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতার যৌনসন্ত্রাসের ঘটনা তো ’কিংবদন্তী’তে রূপান্তরিত হয়েছে। আর হেফাজতের শাপলা চত্বরের সমাবেশে কর্তব্যরত এক নারী সাংবাদিককে শারীরিকভাবে প্রহারের ঘটনাতো সে দিনের।

বাণিজ্য মেলা, গ্রামীণ মেলা, পূজা, গায়ে হলুদ, বিয়ের উৎসব, ঈদের বাজারসদাই- কোনটাই এ যৌনহয়রানি ও যৌনসন্ত্রাস মুক্ত নয়। সব জায়গায় নারীরা, মেয়েরা নিপীড়নের আশংকা নিয়ে অংশগ্রহণ করে। আর ছেলেদের একটি অংশ যায় নিপীড়ক হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে। নারীর জন্য যৌনসন্ত্রাসের আশঙ্কামুক্ত উৎসবের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়ার উদাহরণ এখন পর্যন্ত বিরল।

বিশুদ্ধবাদীতা, দায়-চাপানো ও দায়-অস্বীকারের রাজনীতি
বাংলাদেশে সংঘটিত যৌনসন্ত্রাসের ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে যদি কোন রাজনৈতিক কর্মসূচি, বিশেষ দিবস, বিশেষ রাজনৈতিক দলের নাম যুক্ত থাকে, তখন ঐ যৌনসন্ত্রাস নিয়ে মূলধারার কিংবা সামাজিক গণমাধ্যমে অথবা নানা আলাপ-আলোচনায় যে প্রচার-প্রচারণা চলে, যেসব অভিমত প্রকাশিত হতে থাকে, তাতে অন্তত চারটি প্রবণতা দেখা যায়। সংশ্লিষ্ট ঘটনার অনতিবিলম্বে চারটি পক্ষ আত্মপ্রকাশ করে। যৌনসন্ত্রাসের সাথে কোনো রাষ্ট্রীয় কিংবা সামাজিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম থাকলেও একই ধরনের প্রবণতা, একই ধরনের পক্ষ-বিপক্ষ আমরা লক্ষ্য করি। প্রথম প্রবণতাটি হচ্ছে- ঘটনা অস্বীকার করা, ঘটনাটি যে ঘটেনি তার পক্ষে তথ্য-উপাত্ত-যুক্তি হাজির করার চেষ্টা করা,ঘটনা যদি অস্বীকার করা সম্ভব না হয় তাহলে ঘটনার সাংগঠনিক বা প্রাতিষ্ঠানিক দায় অস্বীকার করা। একই সাথে আনুষ্ঠানিক-অনানুষ্ঠানিক ক্ষমতার নানা উপাদান ব্যবহার করে অপরাধীকে আইন ও বিচারের আওতামুক্ত রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা। এ দলটি হচ্ছে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের কর্মী-নেতা-সমর্থক বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী। দ্বিতীয় প্রবণতাটি হচ্ছে- কয়েকজনের দ্বারা সংঘটিত কোনো একটি যৌনসন্ত্রাসের ঘটনাকে বিশেষ রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে প্রচার-প্রচারণার হাতিয়ারে পরিণত করার উদ্দেশ্যে ঘটনার দায় শতভাগ সংশ্লিষ্ট দল বা প্রতিষ্ঠানের উপর চাপানো। এরা মূলত রাজনৈতিক বিরোধীপক্ষ অথবা প্রতিষ্ঠান বিরোধীপক্ষ। এদের তৎপরতার কারণে বেশিরভাগ সময় মূল অপরাধীরা দল বা প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে চাপা পড়ে যায়। অপরাধটি ব্যক্তির বদলে দলের উপর গিয়ে পড়ে।

আসল ঘটনা চাপা পড়ে মূলবিষয় হয়ে দাঁড়ায় রাজনৈতিক বিরোধিতায়।তৃতীয় প্রবণতাটি হচ্ছে বিশুদ্ধবাদীতা। এটা কিছুটা সুশীল ঘরানার অবস্থান। এ পক্ষ ঘটনাটিকে বা ঘটনার অভিযোগটিকে বিশেষ দিবস বা প্রতিষ্ঠানের পবিত্রতা, চেতনার বিশুদ্ধতার সাথে মিলিয়ে বিচার করেন। তারপর কথিত পবিত্রতা বা বিশুদ্ধতাকে বিতর্কিত করার ষড়যন্ত্র তত্ত্ব¡ আবিস্কারের প্রয়াস চালান এবং ঘটনাটি আদৌ ঘটেছিল কি না-সে বিষয়ে নানা প্রশ্ন তুলে জনপরিসরে একটা বিশুদ্ধবাদী চেতনারক্ষার ডিসকোর্স হাজির করেন। এ পক্ষের অবস্থান, প্রচার-প্রচারণা শেষ পর্যন্ত প্রথম প্রবণতার পক্ষেই যায়। চতুর্থ দলটি হচ্ছেন- এ তিনটি পক্ষের বিপরীতে বেশিরভাগ সময় অসংগঠিত জনগোষ্ঠী, যারা এ ধরনের প্রতিটি ঘটনায় মন খারাপ করেন, বিচার চান, সুযোগ পেলে বিচারের পক্ষে অবস্থান নেন, প্রতিবাদ-প্রতিরোধ করতে চান, কিন্তু অসংগঠিত বলে বেশির ভাগ সময় তা করতে পারেন না। সাম্প্রতিক সময়ে এঁদের তৎপরতা, প্রতিবাদ-প্রতিরোধ সামাজিক গণমাধ্যমে যতখানি দৃশ্যমান, রাজপথে ততখানি নয়।

আগেই বলা হয়েছে অদিতী সহ অন্তত সাতজন নারী ৭ মার্চ সমাবেশ অভিমুখি মিছিলকারীদের হাতে নিপীড়ন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে তাঁদের ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। এঁদের অভিযোগগুলি নিয়ে সামাজিক প্রচারমাধ্যমে যে বিতর্ক, আলাপ আলোচনাগুলি হয়েছে সেগুলি বিশ্লেষণ করলে আমরা চারটি পক্ষের অস্তিত্বই খুঁজে পাবো। যারা প্রত্যক্ষ দলের সাথে যুক্ত তারা সরাসরি ঘটনাগুলিকে অস্বীকার করেছেন। যেসব নারী অভিযোগ তুলেছেন তাঁদের ফেইসবুক আইডি আসল কি নকল, রাজনৈতিক পরিচয় ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এমনকি কেউ কেউ তাঁদের ভাড়াটে বলেও আখ্যায়িত করেছেন। অন্যদিকে আরেকটি পক্ষ ঘটনাটি ফেইসবুকে আসার সাথে সাথে যতখানি সম্ভব, যত দ্রুত সম্ভব তা ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছেন এবং ব্যক্তি অপরাধীদের বদলে পুরো দায় দল ও দিবস উদযাপনের উপর চাপিয়েছেন এবং এ ধরনের কাজ দলটির অন্যতম রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য বলে প্রচার চালিয়েছেন। যাদের হাতে রাস্তায় মা-বোন নিরাপদ নন তাঁদের হাতে রাষ্ট্র কীভাবে নিরাপদ হতে পারে এমন প্রশ্নও তুলেছেন। অর্থাৎ যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদের বদলে পুরো বিষয়টিকে রাজনৈতিক বিরোধিতার হাতিয়ারে পরিণত করেছেন। পাশাপাশি আরেকটি পক্ষ এ ধরনের অভিযোগ ঐতিহাসিক ৭ মার্চকে বিতর্কিত করার প্রয়াস কি না সে প্রশ্ন বারবার সামনে নিয়ে এসেছেন। অদিতীর মূল পোস্টটি সরিয়ে ফেলার পর সে বিতর্ক তাঁরা আরও জোরেশোরে শুরু করেছিলেন। একবারও ভাবেন নি বা বিবেচনায় নেন নি যে, একটি কিশোরী মেয়ে আরও নানা সামাজিক কারণে তার পোস্টটি সরিয়ে ফেলতে পারে অথবা ফেলতে বাধ্য হতে পারে। তাঁরা এটাও ভাবেন নি যে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলের কর্মীদের হাতে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এ প্রথম নয়। আমরা একই ধরনের প্রবণতা দিনাজপুরের ইয়াসমীন ধর্ষণ ঘটনার ক্ষেত্রেও পর্যবেক্ষণ করেছি। সেসময়ের সরকারি দল বিষয়টি অস্বীকার করেছে, অভিযুক্ত পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা প্রথমে ইয়াসমীনের চরিত্র ও পরিচয় নিয়ে অপপ্রচার চালিয়েছে, অন্যদিকে যারা সেসময় বিরোধীদলে ছিলেন তাঁরা ঘটনাটিকে রাজনৈতিক বিরোধিতার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করেছেন। চট্টগ্রামের সীমা চৌধুরী, কুমিল্লার তনু, অথবা২০১৫ সালের পহেলা বৈশাখের ঘটনা পরবর্তী ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়াগুলির ক্ষেত্রেও আমরা কমবেশি কথিত প্রবণতাগুলিই দেখতে পাই।

এ প্রবণতাগুলির মধ্যে প্রথম তিনটি এসব ব্যক্তি কিংবা সংগঠিত যৌনসন্ত্রাসীদের বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করাবার ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ অন্তরায় হিসেবে কাজ করে। এ ধরনের প্রবণতা জেনে বা না জেনে শেষ পর্যন্ত অপরাধীর পক্ষেই যায়। রাজনীতিক ও আদর্শগত পক্ষপাতের কারণে আমরা প্রায়শ ভুলে যাই যে,যৌনসন্ত্রাসের দায় কোন দিবস বা উৎসবের নয়; যারা সন্ত্রাস চালিয়েছে তাদের। সুতরাং কোন ঐতিহাসিক দিন বা পবিত্র দিনের বিশুদ্ধতার প্রশ্ন তুলে যৌনসন্ত্রাসকে যদি অস্বীকার করা হয়, যৌনসন্ত্রাসের ঘটনা প্রকাশ করার কারণে যদি ষড়যন্ত্রের গন্ধ খোঁজা হয়-তবে যৌনসন্ত্রাসীদেরই উপকার করা হয়, সন্ত্রাসীদেরকেই নিরাপদে রাখার পরোক্ষ ব্যবস্থা করা হয়।

এখানে আরও একটি বিষয় উল্লেখ করা দরকার যে, কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিসমষ্টির কৃত অপরাধের দায় প্রথমত কোন সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানের উপর পড়া উচিত নয়। আবার একই সাথে এটাও মনে রাখা জরুরি যে, সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান সে দায় পুরোপুরি এড়াতেও পারে না, পারা উচিতও না। বিশেষ করে যখন ব্যক্তি বা ব্যক্তিসমষ্টি সাংগঠনিক বা প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা ও পরিচিতি কৃত-অপরাধের দায় এড়াতে ব্যবহার করেন। সাংগঠনিক বা প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার কারণে ব্যক্তির পক্ষে অপরাধ সংঘটন সহজ হয় অথবা সংশ্লিষ্ট সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান ব্যক্তির সাথে সংশ্লিষ্টতার কারণে সাংগঠনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ইমেজ রক্ষার নামে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে যৌনসন্ত্রাসীর পক্ষে দাঁড়ায়। কিন্তু দু:খজনক হলেও সত্য যে, বাংলাদেশে যৌনসন্ত্রাসের ক্ষেত্রে এ প্রবণতাটিও বেশ জোরালোভাবে উপস্থিত। যা যৌনসন্ত্রাসীদের বিচারের আওতায় আনতে একটি বড় বাধা হিসেবে কাজ করে।

যৌনসন্ত্রাসের উৎসব এবং সামাজিকায়নের বিসামাজিকায়ন বা বিকল্প সামাজিকায়ন
আগেই বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশের চলমান যৌনসন্ত্রাসের একটি প্রধান প্রবণতা উৎসব উদযাপন নির্ভর। যৌনসন্ত্রাসীদের একটি অংশ বিভিন্ন ধরনের জাতীয় ও সামাজিক উৎসবকে কার্যত যৌনসন্ত্রাসের উৎসব বিবেচনা করেই সুযোগের জন্য ওঁৎ পেতে থাকে। গ্রামীণ বিয়েশাদীর অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে জাতীয় দিবস উদযাপন-সর্বত্রই এদের বিচরণ রয়েছে। সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হচ্ছে এদের কেউকেউ চেতনায় ও অবচেতনায় নারী নিপীড়ন এবং যৌনসন্ত্রাসকে আনন্দ উদযাপনের অবশ্যম্ভাবী অংশ মনে করে। সফল হতে পারলে বন্ধুদের আড্ডায় সেসব কর্ম নিয়ে স্মৃতিচারণও করে থাকে। গত বছরে নিজের দেখা একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করতে চাই। ধানমন্ডিতে অবস্থিত মেয়েদের একটি বিদ্যালয়ে বাংলা নববর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠান চলছিল। কিছু সংখ্যক ছেলে, যাদের বয়স ১৫-১৮ বছর হবে, বিদ্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করছিল, কিন্তু কোনোভাবে সফল হতে না পেরে নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছিল, আমাদের এমনভাবে বাধা দিচ্ছে যেন আমরা ভেতরে গেলেই ধরে ধরে রেইপ করবো। এইযে ১৫-১৮ বছরের কিশোর, যাদের মধ্যে ইতোমধ্যে একটি মনোজগৎ তৈরি হয়েছে, যারা বিশ্বাস করতে শুরু করেছে যে, তাদের ধর্ষণের ক্ষমতা রয়েছে, তারা চাইলে ধর্ষণ করতে পারে। তাদের এ মনোজগতটি কীভাবে তৈরি হলো? এ একই ধরনের মনোজগতের কারণেই মূলত উৎসবগুলো কারও কারও জন্য যৌনসন্ত্রাসের উৎসব হয়ে ওঠে। নারী নিপীড়নের বিস্তৃত পরিসর হয়ে ওঠে।এ মনোজগতটি তৈরি হতে পেরেছে বলেই বা তৈরি হয় বলেই রাজপথের মিছিলের কর্মী হঠাৎ দলবদ্ধ যৌনসন্ত্রাসীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। অতএব যৌনসন্ত্রাসী ও নারী নিপীড়ক হয়ে বেড়ে উঠার বিভিন্ন প্রক্রিয়া ও উপায়গুলিকে উন্মুক্ত রেখে নিপীড়নমুক্ত সমাজের কথা আমরা কীভাবে ভাবতে পারি? আর এখানেই আমি মনে করি রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক দায়। দলের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের জেন্ডার সংবেদনশীল হিসেবে গড়ে তোলার দায়। নারীদের সহযোদ্ধা হিসেবে ভাববার মতো মনোজগৎ গড়ে তোলার দায়। অতএব ৭ মার্চের ঘটনার ব্যাপারে আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক যে বলেছেন, সমাবেশের বাইরে ঘটনার জন্য দলের দায় নেই তবে সরকারের দায় আছে, সেটি কোনোভাবে সমর্থনযোগ্য নয়। কারণ দলের কর্মীদের মধ্যে নারীর প্রতি সম্মানপ্রদর্শনের মনোভাব তৈরি করতে না পারা, দলের কর্মীদের নারীর প্রতি সংবেদনশীল ও নারীবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে না পারার দায় সংগঠনকেই নিতে হবে।

রাজনৈতিক দলের কর্মীদের কারও কারও যৌনসন্ত্রাসী হিসেবে গড়ে ওঠার আরেকটি কারণ, অন্তত আমার মনে হয়, সংগঠনগুলির জবাবদিহিহীনতা। দলের ভেতরে ও বাইরে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি চর্চার অভাব বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে ছাত্রসংসদ নির্বাচন না থাকায় ছাত্র সংগঠনগুলিকে কোন ধরনের জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হয় না। ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে সাংগঠনিক ইমেজ রক্ষা করা না করার বিষয়টিও গুরুত্ব পায় না। সুতরাং একটি রাজনৈতিক দলের কর্মী কোন নারী শিক্ষার্থীর সাথে অসদাচরণ করলে, যৌন নিপীড়নমূলক কাজের সাথে যুক্ত হলে, ছাত্রসংসদ নির্বাচনে তার কী বিরূপ প্রভাব পড়বে- সেটি নিয়ে এখন কোন ছাত্র সংগঠনকেই ভাবতে হয় না।

মনে রাখা দরকার-বিশ্বায়নের কালে সর্বগ্রাসী গণমাধ্যম যেখানে যৌনতা ফেরি করে বেড়ায়, যৌনসুড়সুড়ি দিয়ে মুনাফা তৈরি করে, যেখানে নিপীড়ক হয়ে বেড়ে উঠার সামাজিকায়ন প্রক্রিয়া শক্তিশালী, সেখানে চলমান সামাজিকায়ন প্রক্রিয়াকে যদি পাল্টে না দেয়া যায়, বিকল্প সামাজিকায়ন প্রক্রিয়া যদি চালু না করা যায়, তাহলে এ ধরনের পাশবিক ঘটনা আরও ঘটতে থাকবে। উৎসব উদযাপনে যৌনসন্ত্রাসের ঘটনা ঘটেছে বলে যদি উৎসবের কলেবর খাটো করে দেয়া হয় তবে তা ক্ষতের কারণ চিহ্নিত না করে শুধু মলম দিয়ে চিকিৎসা করার মতো হবে। তাতে প্রকৃত ক্ষত দূর হবে না। মলম দেয়া বন্ধ করলেই ক্ষত আবার জেগে উঠবে। যার প্রমাণ দিনে দুপুরে ঢাকার রাস্তায় যৌনহয়রানির ঘটনা।অতএব দরকার চলমান সামাজিকায়নের বিসামাজিকায়ন এবং একটি বিকল্প সামাজিাকয়ন প্রক্রিয়া-পরিবার, রাজনৈতিক দল, সমাজ, রাষ্ট্রে-সর্বত্রই। একই সাথে আইনের শাসনের যথাযথ প্রয়োগ। অপরাধীকে আইনের মুখোমুখি দাঁড় করানো।

তবু ভরসা পাই অদিতীদের দেখে
লেখাটি শেষ করতে চাই অদিতীকে অভিনন্দন জানিয়ে। স্রোতের বিপরীতে দাঁড়াবার সাহস দেখাবার জন্য। নারীর জন্য নিপীড়নকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠিত মূল্যবোধটি হচ্ছে-নারী সর্বংসহা, নিজের বিরুদ্ধে সংঘটিত নিপীড়নের ভয়াবহতা নিজের মধ্যে চেপে রাখা, জনপরিসরে অপ্রকাশিত রাখা, কারও কাছে না বলা, কেবল স্মৃতি ভারাক্রান্ত হয়ে থাকা, অনন্ত কষ্ট পাওয়া। অদিতী সে প্রতিষ্ঠিত মূল্যবোধটি নিমিষে ভেঙ্গে দিয়েছে। যৌনহয়রানির শিকার হওয়ার দায় ব্যক্তি নারীর নয়; প্রথমত নিপীড়কের, তারপর সমাজ ও রাষ্ট্রের, সুতরাং এর বিরুদ্ধে প্রতিকার চাওয়া, প্রতিবাদ করা যে অধিকার, সে অধিকার আদায়ের পথেই অদিতী অগ্রসর হয়েছে। যতটুকু জেনেছি অদিতী নানা সৃজনশীল কাজের সাথে যুক্ত; বিতার্কিক, অনেক বিতর্ক প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ বিতার্কিক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে, তাঁর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনেক সাংগঠনিক কাজের সাথে যুক্ত, তার মধ্যে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও অবিনাশী ৭১ নামে একটি সংগঠনও রয়েছে। এসব সৃজনশীল কাজের মাধ্যমেই হয়তো অদিতীর মধ্যে নির্যাতন-নিপীড়ন গোপনে মেনে নেয়া নয়; বরং প্রতিবাদ-প্রতিরোধ করা জরুরি- এ রকম মনোজগৎ তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশের মেয়েরা যতবেশি অদিতীর পথ অনুসরণ করবে, হয়রানি-নির্যাতন, যৌনসন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মুখ খুলবে, প্রতিবাদ-প্রতিরোধ করতে শিখবে ততবেশি এগুলো বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। অতএব এটি আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব-আমাদের মেয়েশিশুদের বেড়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় এ ধারণা দিতে হবে, সামাজিক জীবনদক্ষতা দিতে হবে যে, নিপীড়ন নির্যাতনে চুপ থাকা নয়; ঘটনা দ্রুত জানাতে হবে, ঘটনার প্রতিবাদ করতে হবে। প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। জানানো, প্রতিবাদ-প্রতিরোধের কোন বিকল্প নেই।

মুনীর উদ্দীন শামীম, গবেষক ও উন্নয়ন কর্মী; সুশাসন বিষয়ক একটি কারিগরি প্রকল্পে কর্মরত।

মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। sylhettoday24.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে sylhettoday24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।

আপনার মন্তব্য

লেখক তালিকা অঞ্জন আচার্য অসীম চক্রবর্তী আজম খান ১০ আজমিনা আফরিন তোড়া ১০ আফসানা বেগম আবু এম ইউসুফ আবু সাঈদ আহমেদ আব্দুল করিম কিম ২০ আব্দুল্লাহ আল নোমান আব্দুল্লাহ হারুন জুয়েল আমিনা আইরিন আরশাদ খান আরিফ জেবতিক ১৩ আরিফ রহমান ১৪ আরিফুর রহমান আলমগীর নিষাদ আলমগীর শাহরিয়ার ৪০ আশরাফ মাহমুদ আশিক শাওন ইমতিয়াজ মাহমুদ ৫৩ ইয়ামেন এম হক এখলাসুর রহমান ১৯ এনামুল হক এনাম ২৫ এমদাদুল হক তুহিন ১৯ এস এম নাদিম মাহমুদ ১৯ ওমর ফারুক লুক্স কবির য়াহমদ ৩১ কাজল দাস ১০ কাজী মাহবুব হাসান খুরশীদ শাম্মী ১২ গোঁসাই পাহ্‌লভী ১৪ চিররঞ্জন সরকার ৩৫ জফির সেতু জহিরুল হক বাপি ২৮ জহিরুল হক মজুমদার জান্নাতুল মাওয়া জাহিদ নেওয়াজ খান জুয়েল রাজ ৭৫ ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন ড. কাবেরী গায়েন ২২ ড. শাখাওয়াৎ নয়ন ডা. সাঈদ এনাম ডোরা প্রেন্টিস তপু সৌমেন তসলিমা নাসরিন তানবীরা তালুকদার দিব্যেন্দু দ্বীপ দেব দুলাল গুহ দেব প্রসাদ দেবু দেবজ্যোতি দেবু ২৬ নিখিল নীল পাপলু বাঙ্গালী পুলক ঘটক ফকির ইলিয়াস ২৪ ফজলুল বারী ৬২ ফড়িং ক্যামেলিয়া ফরিদ আহমেদ ৩৩ ফারজানা কবীর খান স্নিগ্ধা বদরুল আলম বন্যা আহমেদ বিজন সরকার বিপ্লব কর্মকার ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ১৬ ভায়লেট হালদার মারজিয়া প্রভা মাসকাওয়াথ আহসান ১০৬ মাসুদ পারভেজ মাহমুদুল হক মুন্সী মিলন ফারাবী মুনীর উদ্দীন শামীম ১০ মুহম্মদ জাফর ইকবাল ১১৭ মো. মাহমুদুর রহমান মো. সাখাওয়াত হোসেন মোছাদ্দিক উজ্জ্বল মোনাজ হক রণেশ মৈত্র ১২৪ রতন কুমার সমাদ্দার রহিম আব্দুর রহিম ১৭ রাজেশ পাল ১৯ রুমী আহমেদ রেজা ঘটক ৩২ লীনা পারভীন শওগাত আলী সাগর শাখাওয়াত লিটন শামান সাত্ত্বিক শামীম সাঈদ শারমিন শামস্ ১৪ শাশ্বতী বিপ্লব শিতাংশু গুহ শিবলী নোমান শুভাশিস ব্যানার্জি শুভ ২৪ শেখ মো. নাজমুল হাসান ২১ শেখ হাসিনা শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী সঙ্গীতা ইমাম সঙ্গীতা ইয়াসমিন ১৬ সহুল আহমদ সাইফুর মিশু সাকিল আহমদ অরণ্য সাব্বির খান ২৮

ফেসবুক পেইজ