আজ মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ইং

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, হাওরের মেডিকেল কলেজটি হাওরের রাজধানীতে দিন

এখলাসুর রহমান  

এইচএসসি পাশ করা নেত্রকোনার হাওর অঞ্চলের এক শিক্ষার্থীকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও ১৪ দল নেত্রী শেখ হাসিনা এক ভিডিও কনফারেন্সে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কিসে পড়তে চাও? ছেলেটি উত্তরে বললো, মেডিকেলে পড়তে চাই। তারই প্রেক্ষিতে নেত্রকোনায় মেডিকেল কলেজ স্থাপিত হল। হাওর পাড়ের মানুষের একটি মেডিকেল কলেজের স্বপ্ন দীর্ঘদিনের। এই স্বপ্নটি নেত্রকোনার সাংসদদের মাধ্যমে যদি সংসদে উত্থাপিত হতো তাহলে হয়তো সরকারের এই শেষবেলায় নয় তা অনেক আগেই বাস্তবায়িত হতো। কারণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সংসদেরও নেত্রী। দরিদ্র অটোচালকের অটো রিকশা চুরির সমস্যারও সমাধান করতে হয় প্রধানমন্ত্রীকে। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে তাকে ন্যায়বিচার পেতে হল। এটা কি সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের জন্য লজ্জাকর নয়?

হিজড়া সম্প্রদায়ের ঈদুল আজহায় কোরবানি দেয়ার স্বপ্নও পূরণ হয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে। অথচ যে এলাকার হিজড়ারা কোরবানির গরু কেনার ইচ্ছা ব্যক্ত করল ধর্মমন্ত্রীর বাড়িও সে এলাকায়। কই হিজড়ারা তো ধর্মমন্ত্রীর কাছে এ দাবী করতে আগ্রহী হলোনা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের লাগাতার উন্নাসিকতার প্রেক্ষিতে সকলের সকল কিছু প্রত্যাশাই আজ প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। এটা গণতন্ত্র ও খোদ প্রধানমন্ত্রীর জন্যও হিতকর নয়। একশ্রেণির অতি উৎসাহী তোষণকারীও প্রধানমন্ত্রীর সর্বময় কর্তৃত্ব প্রমাণের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকেও একশ্রেণির মতলববাজ ও তোষণবাজ মিলে তার একচ্ছত্র ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের প্রচার করেছিল। যার প্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধু হত্যার পরে এ কথা বলার সুযোগ পায় যে, এক নেতা এক দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ, একরাতে গোষ্ঠী শেষ। ইতিহাসের এই জঘন্যতম হত্যাকাণ্ডটিতে এরকম নেতিবাচকভাবে প্রচারের লজ্জা কার? ১৫ আগস্টের পর রেডিও-টিভিতে প্রচার হয় স্বৈরাচারী শাসকের পতন হয়েছে। খুনিরা কিন্তু সেদিন আওয়ামী লীগকে টার্গেট করেনি। সে রাতে আওয়ামী লীগের কোন নেতা খুন হয়নি। খুনিদের টার্গেট ছিল কেবলই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবার। কিন্তু কেন? বঙ্গবন্ধু কি পারিবারিক ক্ষমতায় রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন নাকি দলীয় ক্ষমতায়? তবে কেন তারা কেবলই তাঁকে ও তাঁর পরিবারকেই টার্গেট করল? অথচ অতি উৎসাহী কতিপয় বঙ্গবন্ধুর জীবদ্দশায় সারাক্ষণ তার ক্ষমতার পূজা করেছে। তাকে প্রতিষ্ঠিত করেছে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে। গণতন্ত্রে ব্যক্তি চর্চার প্রতিষ্ঠা ব্যক্তির জন্য কোথায় শুভকর হয়েছে?

তোয়াজকারী ও অতি উৎসাহীরা যুগে যুগেই ব্যক্তির ক্ষতির কারণ হয়েছে। মহাত্মা গান্ধীকে হত্যা করেছিল তারই দেহরক্ষী নাথুরাম গডসে। ইরাকি প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে যারা মহাক্ষমতাধর হিসেবে সর্বত্র প্রতিষ্ঠা করে তার ক্ষমতাচ্যুতির ক্ষেত্র সৃষ্টি করেছিল তাকে ধরিয়েও দিয়েছিল তাদেরই একজন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করেছিল যে খন্দকার মোশতাক তিনিও ছিলেন অতি উৎসাহী ও স্তুতিকার। বঙ্গবন্ধুর মায়ের মৃত্যুতে মাটিতে গড়াগড়ি দিয়ে কেঁদেছিলেন তিনি। বাসা হতে হাঁসের মাংস রান্না করে বঙ্গবন্ধুকে খাওয়াতে নিয়ে যেতেন তিনি। পরবর্তীতে তার ভূমিকা গোটা পৃথিবী দেখেছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাও কি স্তুতিবাজদের খপ্পরে পড়ে গেছেন?

১৯৮৮ সালে কবি নির্মলেন্দু গুণকে লেখা এক চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন:
বন্ধুবরেষু গুণ,
আপনার অনুরোধে কিছু ছবি পাঠালাম। তবে আমার একটা অনুরোধ রাখবেন। ত্রাণ বিতরণ করছি এধরনের কোন ছবি কবিতার বইয়ে ছাপাবেন না। মানুষের দুর্দশার ছবি যত পারেন ছাপান। আমার ধারণা এ ধরনের অর্থাৎ ত্রাণ বিতরণের ছবি টেলিভিশন ও খবরের কাগজে দেখে দেখে মানুষ বীতশ্রদ্ধ হয়ে গেছে। ওরা গরিব, কিন্তু সেটা কি ওদের অপরাধ? একশ্রেণি যদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ আহরণ না করত তাহলে এরা কি গরিব হতো? কার ধন কাকে বিলাচ্ছে? যা কিছু আছে সকলে মিলে ভাগ করে ভোগ করলে একের কাছে অপরের হাত পাতার প্রয়োজন হতো না।

ওদেরই সম্পদ লুট করে সম্পদশালী হয়ে আবার ওদেরই দুর্দশার সুযোগ নিয়ে সাহায্যদানের নামে হাতে তুলে দিয়ে ছবি ছাপিয়ে ব্যক্তিগত ইমেজ অথবা প্রতিষ্ঠা লাভের প্রয়াস আমি মানসিকভাবে কিছুতেই মেনে নিতে পারি না। আমার বিবেকে বাঁধে। তবুও অনেক সময় পারিপার্শ্বিক চাপে পড়ে অনেক কিছুই করতে হয়। আমিও করি। বিবেকের টুঁটি চেপে ধরে অনেক সময় সমাজ রক্ষার তাগিদে, সাথীদের অনুরোধ বা অপরের মান রক্ষার জন্য এ ধরনের কাজ বা ছবি তুলতে হয় বৈকি। তবে যে যাই দান করুক না কেন, বিলি করুক না কেন, এটা তো ওই গরিব মানুষগুলোর অধিকার, তাদেরই প্রাপ্য। ক্ষমতার দাপটে কেড়ে নেয়া ওদেরই সম্পদ অথবা ওদের পেটের ক্ষুধা দেখিয়ে দেশ-বিদেশ থেকে ভিক্ষে এনে এদের দান করা। এখানে ক্রেডিট নেয়ার সুযোগ কোথায়?

এই ক্রেডিট নিতে যাওয়াটা কি দুর্বলতা নয়? আত্মপ্রবঞ্চনা নয়? কতকাল আর বিবেককে ফাঁকি দেবে? এই গরিব মানুষগুলোর মুখের গ্রাস কেড়ে খেয়ে আবার এদেরই হাতে ভিক্ষে তুলে দিয়ে ছবি ছাপিয়ে ইমেজ তৈরির পদ্ধতি আমি পছন্দ করি না। আমি মনে করি যা দান করব তা নীরবে করব, গোপনে করব। কারণ এটা লজ্জার ব্যাপার, গর্ব করার ব্যাপার মোটেই নয়। গর্ব করার মতো কাজ হতো যদি এই সমাজটাকে ভেঙে নতুন সমাজ গড়া যেত।'
এ চিঠিতে পরিস্কারভাবে উঠে আসছে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে পারিপার্শ্বিক চাপের বিষয়টি। এই চিঠিটাও অতি উৎসাহী কিনা সে প্রশ্নও জাগে। কবিতার বইয়ে কি ত্রাণ বিতরণের ছবি দেয়া যায়? তবে এই চিঠিতে উঠে এসেছে ১৪ দল নেত্রী শেখ হাসিনার কাজ করে প্রচার ও ক্রেডিট না নিতে চাওয়ার বিষয়টি। কিন্তু অতি উৎসাহীরা রয়েছে সতত সক্রিয়।

নেত্রকোনায় তিনি একটি বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি মেডিকেল কলেজ দিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণ করা হল শেখ হাসিনার নামে এটাও নিশ্চয়ই তাঁর আগ্রহে নয় পারিপার্শ্বিকতার চাপেই। বিএনপির শাসনামলে বিমানবন্দরের নাম হলো জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। নামকরণে আগ্রহী অতি উৎসাহীরা কি তখন ভেবেছে যে এটি একদিন শাহ্‌জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে যাবে? জিয়া পরিবারকে তুষ্ট করতে যেয়ে পরবর্তী সময়ে কি তারা জিয়াকে অমর্যাদার কারণ হলোনা? জিয়ার নামে বিমানবন্দরের নামকরণটি কি খুব অনিবার্য ছিল? নামবদলের সময় অতি উৎসাহী নামকরণকারীদের কী ভূমিকা ছিল তখন? শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়েরও অনুরূপ পরিণতি যে হবেনা তার কি নিশ্চয়তা আছে?

মেডিকেল কলেজটির নামকরণ কী হবে? যে পারিপার্শ্বিকতা বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় করেছেন মেডিকেল কলেজটির ব্যাপারে তাদের বক্তব্য কী? নামকরণ কি নেত্রকোনা মেডিকেল কলেজ? যদি তা-ই হয় হাওরবাসীকে দেয়া মেডিকেল কলেজটি যে হাওরের রাজধানী মোহনগঞ্জে স্থাপিত হওয়ার আন্দোলন চলছে এর কী ভবিষ্যৎ? এ দাবী বাস্তবায়িত হলে তো মেডিকেল কলেজটি স্থাপিত হবে মোহনগঞ্জে আর নাম হবে নেত্রকোনা মেডিকেল কলেজ। তা কি শোভন হবে?

এ কলেজটি নিয়ে জনগণের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে এক ধূম্রজাল। হাওরের মানুষ মোহনগঞ্জে মেডিকেল কলেজটি স্থাপনের দাবিতে রাজধানী ঢাকায় ও বিভাগীয় শহর ময়মনসিংহে মানববন্ধনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। হাওরপাড়ের সমাজ কর্মী, শিক্ষক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক এমদাদুল ইসলাম খোকন বলেন, আমরা আন্দোলন করছিনা, সন্তান হিসেবে মানবতার মায়ের কাছে দাবী জানাচ্ছি, ভাই হিসেবে বোনের কাছে দাবী জানাচ্ছি। 'হাওর পাড়ের মানুষের এই দাবী কি পূরণ হবে?

বর্তমানে সর্ব শ্রেণির মানুষের একমাত্র প্রত্যাশার ভরসাস্থল হয়ে উঠছেন আপনি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আর এই মেডিকেল কলেজটি যেমন আপনার ইচ্ছায় হয়েছে তাই এর চূড়ান্ত নিষ্পত্তিও আপনার নির্দেশনাতেই হোক। হাওরপাড়ের মানুষের এই আন্দোলন প্রশমিত করতে পারেন একমাত্র আপনি এটাই বাস্তবতা হয়ে উঠছে। হাওরের মানুষ মেডিকেল কলেজের দাবীতে ঢাকায় মানববন্ধন করুক এটা আমরা চাই না। হাওরের মানুষকে দেয়া মেডিকেল কলেজটি হাওরের রাজধানী খ্যাত মোহনগঞ্জে কি হতে পারেনা?

সরকারের শেষ সময়ে গণবিক্ষোভ কাঙ্ক্ষিত নয়। তাই ত্বড়িত সিদ্ধান্ত নিয়ে মেডিকেল কলেজ নিয়ে সকল ধূম্রজাল, জল্পনা কল্পনা, ক্ষোভ, বিক্ষোভের অবসান হোক। অতি উৎসাহী হিসেবে নয় বাস্তবতার নিরিখেই এই প্রত্যাশা। দ্রুত কলেজটির নাম ও স্থান নির্ধারণ করে দিন। হাওরের মানুষ আপনার দিকেই চেয়ে আছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। তাদের প্রত্যাশা কলেজটির নামকরণ ও স্থান চূড়ান্ত করেই তবে এর কার্যক্রম শুরু হোক।

এখলাসুর রহমান, লেখক ও কলামিস্ট

মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। sylhettoday24.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে sylhettoday24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।

আপনার মন্তব্য

লেখক তালিকা অঞ্জন আচার্য অসীম চক্রবর্তী আজম খান ১০ আজমিনা আফরিন তোড়া ১০ আফসানা বেগম আবু এম ইউসুফ আবু সাঈদ আহমেদ আব্দুল করিম কিম ২০ আব্দুল্লাহ আল নোমান আব্দুল্লাহ হারুন জুয়েল আমিনা আইরিন আরশাদ খান আরিফ জেবতিক ১৩ আরিফ রহমান ১৪ আরিফুর রহমান আলমগীর নিষাদ আলমগীর শাহরিয়ার ৪০ আশরাফ মাহমুদ আশিক শাওন ইমতিয়াজ মাহমুদ ৫৩ ইয়ামেন এম হক এখলাসুর রহমান ১৯ এনামুল হক এনাম ২৫ এমদাদুল হক তুহিন ১৯ এস এম নাদিম মাহমুদ ২১ ওমর ফারুক লুক্স কবির য়াহমদ ৩১ কাজল দাস ১০ কাজী মাহবুব হাসান খুরশীদ শাম্মী ১২ গোঁসাই পাহ্‌লভী ১৪ চিররঞ্জন সরকার ৩৫ জফির সেতু জহিরুল হক বাপি ২৮ জহিরুল হক মজুমদার জান্নাতুল মাওয়া জাহিদ নেওয়াজ খান জুয়েল রাজ ৭৫ ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন ড. কাবেরী গায়েন ২২ ড. শাখাওয়াৎ নয়ন ডা. সাঈদ এনাম ডোরা প্রেন্টিস তপু সৌমেন তসলিমা নাসরিন তানবীরা তালুকদার দিব্যেন্দু দ্বীপ দেব দুলাল গুহ দেব প্রসাদ দেবু দেবজ্যোতি দেবু ২৬ নিখিল নীল পাপলু বাঙ্গালী পুলক ঘটক ফকির ইলিয়াস ২৪ ফজলুল বারী ৬২ ফড়িং ক্যামেলিয়া ফরিদ আহমেদ ৩৩ ফারজানা কবীর খান স্নিগ্ধা বদরুল আলম বন্যা আহমেদ বিজন সরকার বিপ্লব কর্মকার ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ১৬ ভায়লেট হালদার মারজিয়া প্রভা মাসকাওয়াথ আহসান ১০৮ মাসুদ পারভেজ মাহমুদুল হক মুন্সী মিলন ফারাবী মুনীর উদ্দীন শামীম ১০ মুহম্মদ জাফর ইকবাল ১১৭ মো. মাহমুদুর রহমান মো. সাখাওয়াত হোসেন মোছাদ্দিক উজ্জ্বল মোনাজ হক রণেশ মৈত্র ১২৫ রতন কুমার সমাদ্দার রহিম আব্দুর রহিম ১৭ রাজেশ পাল ১৯ রুমী আহমেদ রেজা ঘটক ৩২ লীনা পারভীন শওগাত আলী সাগর শাখাওয়াত লিটন শামান সাত্ত্বিক শামীম সাঈদ শারমিন শামস্ ১৪ শাশ্বতী বিপ্লব শিতাংশু গুহ শিবলী নোমান শুভাশিস ব্যানার্জি শুভ ২৪ শেখ মো. নাজমুল হাসান ২১ শেখ হাসিনা শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী সঙ্গীতা ইমাম সঙ্গীতা ইয়াসমিন ১৬ সহুল আহমদ সাইফুর মিশু সাকিল আহমদ অরণ্য সাব্বির খান ২৮

ফেসবুক পেইজ