আজ সোমবার, ২৭ মে, ২০১৯ ইং

স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট বাস্তবায়ন ও একটি বিশ্লেষণ

রহিম আব্দুর রহিম  

টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে জন প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ শ্লোগানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গর্ভনেন্স ইনোভেশন ইউনিট আয়োজিত ‘স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) বাস্তবায়ন বিষয়ক কর্মশালা সারা দেশের উপজেলা, জেলা এবং বিভাগীয় পর্যায় শুরু হয়েছে। এই কর্মশালার মূল্য উদ্দেশ্য ‘দেশের সার্বিক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকার জাতিসংঘ ঘোষিত ২০৩০ এজেন্ডা তথা টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এমডিজি) এবং নির্বাচনী ইশতেহার পর্যায়ক্রমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা। ২০১৬ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত মেয়াদের বৈশ্বিক এ উন্নয়ন এজেন্ডা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা প্রণয়নে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে যথেষ্ট অগ্রগতি সাধন করেছে। শুরু থেকেই সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সাফল্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে।

এসডিজি মূলত একটি বৈশ্বিক উন্নয়ন এজেন্ডা, যার বাস্তবায়ন একটি দীর্ঘ মেয়াদী বিষয়। যা যথাযথভাবে অর্জনের জন্য স্থানীয়করণ ও অগ্রাধিকার নির্ণয়ের বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় ‘গর্ভনেন্স ইনোভেশন ইউনিট’ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় তৃণমূলের উপজেলা, জেলা পর্যায়ের একটি সূচক নির্ধারণ করার জন্য প্রশিক্ষণ কর্মশালা অব্যাহত রেখেছেন। ১৭টি অভীষ্টের আওতায়, ১৬৯টি লক্ষ্যমাত্রা এবং ২৩২টি সূচক রয়েছে। এর মধ্যে অভীষ্ট-১, ‘সব ধরনের দারিদ্রের অবসান’, যার ৭টি লক্ষ্যমাত্রার আওতায় সূচক রয়েছে ১২টি। অভীষ্ট-২, ‘ক্ষুধার অবসান, খাদ্য নিরাপত্তা ও উন্নত পুষ্টিমান অর্জন এবং টেকসই কৃষির প্রসার’, যার ৮ লক্ষ্যমাত্রার আওতায় ১৩টি সূচক রয়েছে। অভীষ্ট-৩, ‘সকল বয়সী সকল মানুষের জন্য সু-স্বাস্থ্য ও কল্যাণ নিশ্চিতকরণ’, এর ১৩টি লক্ষ্যমাত্রার আওতার সূচক ২৬টি। অভীষ্ট-৪, ‘সকলের জন্য অর্ন্তভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং জীবনব্যাপী শিক্ষালাভের সুযোগ সৃষ্টি’, যার ১০টি লক্ষ্যমাত্রার আওতায় সূচক রয়েছে ১১টি। অভীষ্ট ৫, ‘জেন্ডার সমতা অর্জন এবং সকল নারী ও মেয়েদের ক্ষমতায়ন’, যার ৯টি লক্ষ্যমাত্রার আওতায় সূচক রয়েছে ১৪টি। অভীষ্ট-৬, ‘সকলের জন্য পানি ও স্যানিটেশনের টেকসই ব্যবস্থাপনা ও প্রাপ্যতা নিশ্চিতকরণ’, যার ৮টি লক্ষ্যমাত্রার

সূচক ১১টি। অভীষ্ট-৭, ‘সকলের জন্য সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য, টেকসই ও আধুনিক জ্বালানি সহজলভ্য করা’, যার ৫টি লক্ষ্যমাত্রার আওতায় ৬টি সূচক। অভীষ্ট-৮, ‘সকলের জন্য পূর্ণাঙ্গ ও উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান এবং শোভন কর্ম সুযোগ সৃষ্টি এবং স্থিতিশীল, অন্তর্ভুক্তি মূলক ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃত্তি অর্জন’, যার ১২টি লক্ষ্যমাত্রার আওতায় ১৭টি সূচক। অভীষ্ট-৯, ‘ অভিঘাত সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ, অর্ন্তভুক্তিমূলক ও টেকসই শিল্পায়নের প্রবর্ধন এবং উদ্ভাবনার প্রসারণ’ যার ৮টি লক্ষ্যমাত্রায় ১২টি সূচক রয়েছে। অভীষ্ট-১০, ‘অন্ত: ও আন্ত: দেশীয় অসমতা কমিয়ে আনা’ যার লক্ষ্যমাত্রা ১০টির আওতায় সূচক ১১টি। অভীষ্ট-১১, ‘অর্ন্তভুক্তিমূলক, নিরাপদ, অভিঘাত সহনশীল এবং টেকসই নগর ও জনবসতি গড়ে তোলা’, যার ১০টি লক্ষ্যমাত্রার আওতায় ১৫টি সূচক রয়েছে। অভীষ্ট-১২, ‘পরিমিত ভোগ ও টেকসই উৎপাদন ধরণ নিশ্চিত করা’, যার ১১টি লক্ষ্যমাত্রার আওতায় সূচক ১৩টি। অভীষ্ট-১৩, ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও এর প্রভাব মোকাবেলায় জরুরী কর্মব্যবস্থা গ্রহণ’, যার ৫টি লক্ষ্যমাত্রার সূচক রয়েছে ৭টি। অভীষ্ট-১৪, ‘টেকসই উন্নয়নের জন্য সাগর, মহাসাগর ও সামুদ্রিক সম্পদের সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবহার’, যার ৮টি লক্ষ্যমাত্রার আওতায় সূচক রয়েছে ১৩টি। অভীষ্ট-১৫, ‘স্থলজ বাস্তুতন্ত্রের পুনরুদ্ধার ও সুরক্ষা প্রদান এবং টেকসই ব্যবহারে পৃষ্ঠপোষণ, টেকসই বন ব্যবস্থাপনা, মরু করণ প্রক্রিয়ায় মোকাবেলা এবং ভূমির অবক্ষয় রোধ ও ভূমি সৃষ্টি প্রক্রিয়ায় পুনরুজ্জীবন এবং জীববৈচিত্র্য হ্রাস প্রতিরোধ’, যার ১২টি লক্ষ্যমাত্রার আওতায় ১৪টি সূচক রয়েছে । অভীষ্ট-১৬, ‘টেকসই উন্নয়নের জন্য শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তি মূলক সমাজ ব্যবস্থার প্রচলন, সকলের জন্য ন্যায় বিচার প্রাপ্তির পথ সুগম করা এবং সকল স্তরে কার্যকর, জবাবদিহিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তি মূলক প্রতিষ্ঠান বিনিময়’, যার ১২টি লক্ষ্যমাত্রার আওতায় সূচক রয়েছে ২৩টি। সর্বশ্রেষ্ঠ অভীষ্ট-১৭, ‘টেকসই উন্নয়নের জন্য বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব, উজ্জীবিত ও বাস্তবায়নের উপায় সমূহ শক্তিশালী করণ’, যার ১৯টি লক্ষ্যমাত্রার আওতায় ২৫টি সূচক রয়েছে।

১৭টি অভীষ্ট যেদিন এই এই পৃথিবীতে বাস্তবায়িত হবে. সেইদিন বলা সম্ভব ‘আমরাই পৃথিবীর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। সহস্রাব্দ অভীষ্ট বাস্তবায়ন সম্পর্কিত পঞ্চগড় জেলা পর্যায়ের সেমিনারটি গত ৭ মে জেলা প্রশাসকের দরবার কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সেমিনারে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ জয়নুল বারী মুখ্য আলোচক হিসাবে আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন। প্রাবন্ধিক সাবিনা ইয়াসমিন সেমিনারের শুরুতেই প্রাঞ্জল ভাষায় ‘ফাইভ পি’ সম্পর্কে ধারনা দেন। এর মধ্যে People (জনগণ), Peaceful (শান্তিপূর্ণ), Partnership (অংশীদারিত্ব), Planet (ধরিত্রী বা পৃথিবী), Prosperity (সফলতা বা উন্নতি), অর্থাৎ তিনি বোঝাতে চেয়েছেন’, বিশ্বের সকল জনগণ শান্তিপূর্ণ অংশীদারিত্বের মধ্য দিয়ে যেদিন ধরিত্রী বা পৃথিবী সাজাতে পারবেন সেইদিনই মানব সভ্যতার সার্বিক সফলতা বা উন্নতি ঘটবে।

সরকারি কর্মচারী, বেসরকারি উন্নয়নকর্মী, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, আইনজীবী, শিক্ষক, শিক্ষানুরাগী, শ্রমিক, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসহ বিভিন্ন স্তরের একশ জন ব্যক্তি সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত সেমিনারের গ্রুপ আলোচনায় উঠে আসে, পঞ্চগড়ের স্থানীয় একটি সূচক’, যেটি ধরিত্রী বা পৃথিবীর সম্পর্কিত স্থানীয় সমস্যা। অর্থাৎ পঞ্চগড়ের মূল্য সমস্যা অপরিকল্পিত পাথর ও বালি উত্তোলন, রাষ্ট্রীয় সম্পদের অবাধ লুটপাট, ৩৩টি নদ-নদী পঞ্চগড়ের জেলায় সবকটি নদীর নাব্যতা ও গতি পথ বিলুপ্ত হওয়া, নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের পঞ্চগড়, ভারত, নেপাল, ভুটান এবং চীনের প্রবেশদ্বার হলেও এখানে নেই সু-পরিকল্পিত পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন। অংশ গ্রহণকারীর মোট ৮টি গ্রুপের দলীয় আলোচনায় ঘুরে ফিরে উঠে এসেছে, পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড বন্ধের সুপারিশ, নদ-নদীগুলোর খনন এবং পর্যটন শিল্পের ক্ষেত্র সৃষ্টি ও উন্নয়নের কথা। সহস্রাব্দ-অভীষ্ট লক্ষ্যের মোট সূচক ৩৯টির সাথে সারা দেশের প্রত্যেক জেলার আর্থ-সামাজিক, অর্থনৈতিক, পারিপার্শ্বিক আবহাওয়ার বিচার বিশ্লেষণে ১টি সূচক নিয়ে মোট ৪০টি সূচকের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উন্নয়ন মূলক কাজ করতে সরকার বদ্ধপরিকর।

সরকার তার পরিকল্পনা অনুযায়ী সকল কিছুই বাস্তবায়ন করবে এটাই নিশ্চিত। তবে প্রতিটি জেলায় নির্ণয়কৃত স্থানীয় সূচকটিকে যদি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উন্নয়ন ফর্মের ১ম স্তরে সরকার ফেলতে পারেন, তবেই সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য এবং সম-সাময়িক জনসম্পৃক্ত উন্নয়ন ধারা অব্যাহত থাকবে এবং যা তৃণমূল পর্যায়ে ভুক্তভোগী মহলে প্রশংসা কুড়াবে। অব্যাহত সেমিনারগুলোতে কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের তৃণমূল পর্যায়ের কিষাণ-কিষাণীর উপস্থিতি এবং বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন কাজে সম্পৃক্তদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়, তবেই সহস্রাব্দ অভীষ্ট ‘শিকড় থেকে শিখরে’ পৌঁছবে এতে কোন সন্দেহ নেই।

রহিম আব্দুর রহিম, সাংবাদিক, কলাম লেখক, শিক্ষক ও নাট্যকার; ই-মেইল: [email protected]

মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। sylhettoday24.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে sylhettoday24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।

আপনার মন্তব্য

লেখক তালিকা অঞ্জন আচার্য অসীম চক্রবর্তী আজম খান ১০ আজমিনা আফরিন তোড়া আফসানা বেগম আবু এম ইউসুফ আবু সাঈদ আহমেদ আব্দুল করিম কিম ২০ আব্দুল্লাহ আল নোমান আব্দুল্লাহ হারুন জুয়েল আমিনা আইরিন আরশাদ খান আরিফ জেবতিক ১২ আরিফ রহমান ১৪ আরিফুর রহমান আলমগীর নিষাদ আলমগীর শাহরিয়ার ৩৯ আশরাফ মাহমুদ আশিক শাওন ইমতিয়াজ মাহমুদ ৪৮ ইয়ামেন এম হক এখলাসুর রহমান ১৯ এনামুল হক এনাম ২৪ এমদাদুল হক তুহিন ১৯ এস এম নাদিম মাহমুদ ১৪ ওমর ফারুক লুক্স কবির য়াহমদ ৩১ কাজল দাস ১০ কাজী মাহবুব হাসান খুরশীদ শাম্মী ১১ গোঁসাই পাহ্‌লভী ১৪ চিররঞ্জন সরকার ৩৫ জফির সেতু জহিরুল হক বাপি ২৮ জহিরুল হক মজুমদার জান্নাতুল মাওয়া জাহিদ নেওয়াজ খান জুয়েল রাজ ৬৫ ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন ড. কাবেরী গায়েন ২২ ড. শাখাওয়াৎ নয়ন ডা. সাঈদ এনাম ডোরা প্রেন্টিস তপু সৌমেন তসলিমা নাসরিন তানবীরা তালুকদার দিব্যেন্দু দ্বীপ দেব দুলাল গুহ দেব প্রসাদ দেবু দেবজ্যোতি দেবু ২৪ নিখিল নীল পাপলু বাঙ্গালী পুলক ঘটক ফকির ইলিয়াস ২৪ ফজলুল বারী ৪০ ফড়িং ক্যামেলিয়া ফরিদ আহমেদ ৩২ ফারজানা কবীর খান স্নিগ্ধা বদরুল আলম বন্যা আহমেদ বিজন সরকার বিপ্লব কর্মকার ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ১৪ ভায়লেট হালদার মারজিয়া প্রভা মাসকাওয়াথ আহসান ৯৭ মাসুদ পারভেজ মাহমুদুল হক মুন্সী মিলন ফারাবী মুনীর উদ্দীন শামীম ১০ মুহম্মদ জাফর ইকবাল ১০৫ মো. মাহমুদুর রহমান মো. সাখাওয়াত হোসেন মোছাদ্দিক উজ্জ্বল মোনাজ হক রণেশ মৈত্র ৮৪ রতন কুমার সমাদ্দার রহিম আব্দুর রহিম ১২ রাজেশ পাল ১৯ রুমী আহমেদ রেজা ঘটক ৩২ লীনা পারভীন শওগাত আলী সাগর শাখাওয়াত লিটন শামান সাত্ত্বিক শামীম সাঈদ শারমিন শামস্ ১৪ শাশ্বতী বিপ্লব শিতাংশু গুহ শিবলী নোমান শুভাশিস ব্যানার্জি শুভ ২৪ শেখ মো. নাজমুল হাসান ২১ শেখ হাসিনা শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী সঙ্গীতা ইমাম সঙ্গীতা ইয়াসমিন ১৫ সহুল আহমদ সাইফুর মিশু সাকিল আহমদ অরণ্য সাব্বির খান ২৮

ফেসবুক পেইজ