আজ রবিবার, ২৫ আগস্ট, ২০১৯ ইং

শিশুর পৃথিবীতে শিক্ষার অসহনীয় ভার

মো. মাহমুদুর রহমান  

একটি শিশু পৃথিবীতে আসে অমিত সম্ভাবনা নিয়ে। জন্মের পর শিশুর বেড়ে ওঠা শুরু হয়। এই বড় হওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই সম্ভাবনাও ধীরে ধীরে সীমিত হয়ে ওঠে। শিশুর মধ্যে সুপ্ত সম্ভাবনার সর্বোচ্চ ব্যবহারের জন্য শিশুটির পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে পালন করতে হয় গুরু দায়িত্ব। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের ব্যর্থতা শিশুর সম্ভাবনার দরজাগুলো বন্ধ করে দেয় ধীরে ধীরে। উপযুক্ত শিক্ষা ও পরিবেশ যখন শিশুবান্ধব হয় তখনই একটি শিশু প্রস্ফুটিত হয়, ছড়িয়ে দেয় সৌরভ।

বাস্তবতা বড়ই করুণ! এই মুহূর্তে পৃথিবীর অনেক শিশু- শিক্ষা বা উপযুক্ত পরিবেশের কথা ভাবতেও পারছে না। তাদের কাছে বেঁচে থাকার স্বপ্নই দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠেছে। প্রতিবেশি রাষ্ট্র মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা মুসলমান শিশুদের কথাই ভাবেন! মায়ের কুল থেকে শিশুকে দূরে ফেলে দিয়ে মাকে ধর্ষণ করছে মানব চেহারার জানোয়াররা! কিংবা ঘরের মধ্যে আগুনে ঝলসে যাওয়া মৃত শিশুর চেহারা চিন্তা করুন! নাফ নদীর তীরে মৃত রোহিঙ্গা শিশু তৌহিদের ছবি তো সারা বিশ্বের কাছে পরিচিত। তাই রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা শিশুদের কাছে শিক্ষা হয়তো কল্পনাবিলাস!

মায়ানমারকে পৃথিবীর একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে কেউ কেউ দেখতে পারেন। উগ্র বৌদ্ধদের দ্বারা রোহিঙ্গা নিধন- ধর্মীয় ও জাতিগত বিভেদ হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। তাহলে চিন্তা করুন ইয়েমেনের শিশুদের কথা। ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সৌদিআরবের যুদ্ধের ফলে ইয়েমেনের প্রতি দশটি শিশুর মধ্যে আটটি শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে। আর অপুষ্টিজনিত কারণে প্রতি দশ মিনিটে একটি শিশু মারা যাচ্ছে বলে আল জাজিরার রিপোর্টে উঠে এসেছে। উভয় দেশের ধর্মীয় পরিচয় একই। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের ধনী ব্যক্তিরা সারা পৃথিবীতে দান করে থাকেন। অথচ তাদেরই প্রতিবেশি ইয়েমেনের হতভাগ্য শিশুরা অপুষ্টিজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করছে। ফিলিস্তিনের শিশুদের কষ্টের কথা হারিয়ে গেছে সিরিয়ার আলেপ্পোর সাম্প্রতিক হত্যাযজ্ঞে।

যুদ্ধ বিগ্রহ ছাড়াও অনেক জায়গায় কর্পোরেট মুনাফার বলি হতে হচ্ছে শিশুদের। বাংলাদেশে বিষাক্ত প্যারাসিটামল সিরাপ খেয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনা সবারই জানা। ২০০৯ সালের জুলাই আগস্টে রীড ফার্মার ভেজাল প্যারাসিটামল খেয়ে যে ২৮ শিশুর মৃত্যুর জন্য মামলা হয়েছিল তাতে সব আসামিরা বেকসুর খালাস পেয়েছেন। শিশু মৃত্যুর বিষয়টি যিনি সবার নজরে আনলেন সেই ডা. মো. হানিফকে মামলায় সাক্ষী করা হয়নি। সঠিকভাবে আলামতও সংরক্ষণ করা হয়নি বলে বিজ্ঞ আদালত দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে পারেননি। ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনীর দ্বারা হত্যার শিকার অনেক যুবকের শিশু সন্তানরা পথ চেয়ে থাকত তাদের বাবা ফিরে আসার। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে আমাদের বিজয়ের ৪৫ বছর হয়ে গেছে। আবারও ফিরে এসেছে বিজয়ের সেই ডিসেম্বর মাস। তবুও অনেক শিশু তাদের গুম হওয়া পিতাকে ফেরত চাচ্ছে সরকারের কাছে। এদের অভিযোগের অঙ্গুলি স্বাধীন দেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দিকে!

এসব হতভাগ্য শিশুদের কথা চিন্তা করলে কষ্ট হয় ঠিকই তবুও থেমে থাকার সুযোগ নেই। যেসব শিশুরা নিরাপদ রয়েছে তাদেরকে উপযুক্ত শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। নতুবা মানব সভ্যতার অগ্রযাত্রা থেমে যাবে। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের কাণ্ডারি। এরা শিক্ষা বাঞ্ছিত হয়ে বড় হলে আমাদের ভবিষ্যতও অন্ধকার হয়ে যাবে। প্রজন্মের কথা চিন্তা করে পৃথিবীর সব জাতিই তাদের শিশুদের শিক্ষার বিষয়ে সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে থাকে।

আমাদের দেশেও ইদানিং শিশু শিক্ষার ব্যাপারে রাষ্ট্র ও অভিভাবকদের বেশ যতœশীল মনে হয়। শিক্ষার বিষয়ে এই আগ্রহের সুযোগে সমাজে বিভিন্ন কারিকুলামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি রয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা। এছাড়া ইংলিশ মিডিয়াম, কিন্ডার গার্টেনসহ বেসরকারি উদ্যোক্তাদের দ্বারা সম্পূর্ণ ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সব জায়গার মত সরকারি প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মান উন্নত হওয়ায় অভিভাবকদের শিশু শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রথম পছন্দ বেসরকারি বিভিন্ন মিডিয়ামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। যারা আর্থিকভাবে সচ্ছল নন শুধু তারাই এখন বাধ্য হয়ে শিশুদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করে থাকেন। তবে গ্রামাঞ্চলে এখনও পর্যাপ্ত ইংলিশ মিডিয়াম ও কেজি স্কুল না থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সন্তান ভর্তি করে থাকেন। অনেকেই আবার গ্রাম থেকে শহরমুখি হন শুধুমাত্র শিশুদের ভাল স্কুলে ভর্তি করার জন্য। প্রাথমিক শিক্ষা সিলেবাস ও পদ্ধতি সবার জন্য একই রকম করার বিষয়ে চিন্তা ভাবনা থাকলেও সরকার এখনও তা করতে সক্ষম হয়নি।

এই বেসরকারি বাহারি নামের ব্যবসায়িক প্রাক-প্রাথমিক বা প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও রয়েছে প্রতিযোগিতা। কোন প্রতিষ্ঠান কত বেশি পড়াশোনা করাতে সক্ষম তা নিয়ে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকদের রয়েছে নিজস্ব পরিকল্পনা। অভিভাবকরা নভেম্বর-ডিসেম্বর মাস এলে এ পরিকল্পনাগুলো পরখ করে সিদ্ধান্ত নেন কার সন্তান কোথায় ভর্তি করবেন। অবশ্য উঠতি টাকাওয়ালারা কোন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ছাড়াই কোন ধরনের যাচাই বাছাই ব্যতিরেকে শহরের সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রতিষ্ঠানে নিজ সন্তানকে ভর্তি করাই তাদের সামাজিক স্ট্যাটাস রক্ষার জন্য কর্তব্য মনে করেন।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এ প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে শিশুদের পিঠে তুলে দেয় ভারি বইয়ের ব্যাগ। এ ব্যাগে বইয়ের সাথে অনেকগুলো খাতাও রাখতে হয়। খাতাগুলো আবার নির্দিষ্ট লাইব্রেরি থেকে কিনতে ন্যায্য দামের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি দাম দিয়ে। এখানে ওষুধ কোম্পানি থেকে বেশিরভাগ ডাক্তারের কমিশন ব্যবসার মতো ছাত্র বেতনের বাইরে বই খাতার দাম থেকেও একটু কমিশন ব্যবসা! যাক ব্যবসা তো হলই কিন্তু শিশুদের মেরুদণ্ড যে বাঁকা হয়ে যাচ্ছে সে বিষয়ে শিক্ষা ব্যবসায়ীদের চিন্তা করার সুযোগ নেই! এটা শুধু বাংলাদেশ নয় ভারত, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ সমস্যা রয়েছে।

সম্প্রতি মহামান্য হাইকোর্ট একটি রিটের নিষ্পত্তি করতে গিয়ে নির্দেশ দিয়েছেন প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের কাছে কোন বইয়ের ব্যাগ থাকবে না। আর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বইয়ের ব্যাগের ওজন হতে হবে ছাত্রের ওজনের দশ ভাগের এক ভাগ। এ নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে ৬ মাসের মধ্যে আইন প্রণয়নের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আশা করা যায় আদালতের আদেশ মেনে সবাই শিশুর ওপর থেকে বইয়ের বোঝা কমাতে সচেষ্ট হবেন।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে অসচেতনতার কারণে অভিভাবকরা শিশুর মাথায় কিছু অদৃশ্য বোঝা চাপিয়ে দেন। দৃশ্যমান বইয়ের বোঝা থেকেও অভিভাবকদের প্রত্যাশার বোঝা শিশুদের বেশি ক্ষতি করে। অনেকেই ধরে একটি শিশু স্কুলে ভর্তির পরই নিয়মিত পড়াশোনা করতে হবে। তাদের খেয়ালই থাকে রুটিন মেনে পড়াশোনা করলে শিশু আর শিশু থাকে না। শৈশবে থাকবে খেলাধুলা, দুষ্টুমির ফাঁকে ফাঁকে শিশুকে ধীরে ধীরে পড়াশোনায় অভ্যস্ত করার অভিভাবক চেষ্টা। এ চেষ্টা এমন হতে হবে যাতে শিশু বিরক্ত না হয়। তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে পড়তে বাধ্য করা যাবে না। এতে শিশুটি হয়তো স্থায়ীভাবে পড়াশোনাকে বিরক্তিকর কাজ ভেবে এ ব্যাপারে নেতিবাচক হয়ে বড় হতে পারে। এতে শিশুটির পড়াশোনা নাও হতে পারে জীবনে। সব শিশুর সব বিষয়ে সমান আগ্রহ হয় না। দেখা যায় কোন শিশু স্কুলের পড়াশোনাকে প্রথম থেকেই খুবই আগ্রহের সঙ্গে নিচ্ছে। এতে তার পরীক্ষার ফলাফলও ভাল হচ্ছে। একই ক্লাসের অন্য শিশুটি হয়তো একই বয়সে সমান মনোযোগি নয়। ফলে তার রেজাল্ট অপেক্ষাকৃত খারাপ হয়। এখন যার রেজাল্ট খারাপ হল সেই শিশুর অভিভাবক যদি এ নিয়ে শিশুটিকে তিরস্কার করেন তাহলে হয়ত শিশুটির মনে হীনমন্যতা দেখা দিতে পারে। শিশুর পরীক্ষার ফলাফল যা-ই হোক তাকে প্রশংসা করুন। নতুবা হিতে বিপরীত হতে পারে। এভাবে অভিভাবকরা কিছু অদৃশ্য বোঝা শিশুদের মাথায় তুলে দেন যার ফলে একটি শিশুর পুরো ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

যুদ্ধ বিগ্রহ থেকে শিশুর জীবন বাঁচানো অনেক কঠিন হলেও স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে বসবাসরত একটি শিশুর শিক্ষার ভারকে সহনীয় করা অনেক সহজ। স্কুল কর্তৃপক্ষ শিশুর পিঠের বোঝা সহনীয় করার পাশাপাশি অভিভাবকরা সচেতন হয়ে শিশুর উপর থেকে পড়াশোনার অদৃশ্য চাপ কমালে একটি শিশুর শৈশব রক্ষা হয়। জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আজকের শিশুদের আনন্দময় শৈশবের উপর এ বিষয়টি সবার মাথায় রাখতে হবে।

মো. মাহমুদুর রহমান, ব্যাংকার। ইমেইল : [email protected]

মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। sylhettoday24.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে sylhettoday24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।

আপনার মন্তব্য

লেখক তালিকা অঞ্জন আচার্য অসীম চক্রবর্তী আজম খান ১০ আজমিনা আফরিন তোড়া আফসানা বেগম আবু এম ইউসুফ আবু সাঈদ আহমেদ আব্দুল করিম কিম ২০ আব্দুল্লাহ আল নোমান আব্দুল্লাহ হারুন জুয়েল আমিনা আইরিন আরশাদ খান আরিফ জেবতিক ১২ আরিফ রহমান ১৪ আরিফুর রহমান আলমগীর নিষাদ আলমগীর শাহরিয়ার ৩৯ আশরাফ মাহমুদ আশিক শাওন ইমতিয়াজ মাহমুদ ৪৯ ইয়ামেন এম হক এখলাসুর রহমান ১৯ এনামুল হক এনাম ২৫ এমদাদুল হক তুহিন ১৯ এস এম নাদিম মাহমুদ ১৬ ওমর ফারুক লুক্স কবির য়াহমদ ৩১ কাজল দাস ১০ কাজী মাহবুব হাসান খুরশীদ শাম্মী ১১ গোঁসাই পাহ্‌লভী ১৪ চিররঞ্জন সরকার ৩৫ জফির সেতু জহিরুল হক বাপি ২৮ জহিরুল হক মজুমদার জান্নাতুল মাওয়া জাহিদ নেওয়াজ খান জুয়েল রাজ ৭১ ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন ড. কাবেরী গায়েন ২২ ড. শাখাওয়াৎ নয়ন ডা. সাঈদ এনাম ডোরা প্রেন্টিস তপু সৌমেন তসলিমা নাসরিন তানবীরা তালুকদার দিব্যেন্দু দ্বীপ দেব দুলাল গুহ দেব প্রসাদ দেবু দেবজ্যোতি দেবু ২৫ নিখিল নীল পাপলু বাঙ্গালী পুলক ঘটক ফকির ইলিয়াস ২৪ ফজলুল বারী ৫৩ ফড়িং ক্যামেলিয়া ফরিদ আহমেদ ৩২ ফারজানা কবীর খান স্নিগ্ধা বদরুল আলম বন্যা আহমেদ বিজন সরকার বিপ্লব কর্মকার ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ১৫ ভায়লেট হালদার মারজিয়া প্রভা মাসকাওয়াথ আহসান ১০১ মাসুদ পারভেজ মাহমুদুল হক মুন্সী মিলন ফারাবী মুনীর উদ্দীন শামীম ১০ মুহম্মদ জাফর ইকবাল ১১১ মো. মাহমুদুর রহমান মো. সাখাওয়াত হোসেন মোছাদ্দিক উজ্জ্বল মোনাজ হক রণেশ মৈত্র ৯৮ রতন কুমার সমাদ্দার রহিম আব্দুর রহিম ১৬ রাজেশ পাল ১৯ রুমী আহমেদ রেজা ঘটক ৩২ লীনা পারভীন শওগাত আলী সাগর শাখাওয়াত লিটন শামান সাত্ত্বিক শামীম সাঈদ শারমিন শামস্ ১৪ শাশ্বতী বিপ্লব শিতাংশু গুহ শিবলী নোমান শুভাশিস ব্যানার্জি শুভ ২৪ শেখ মো. নাজমুল হাসান ২১ শেখ হাসিনা শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী সঙ্গীতা ইমাম সঙ্গীতা ইয়াসমিন ১৬ সহুল আহমদ সাইফুর মিশু সাকিল আহমদ অরণ্য সাব্বির খান ২৮

ফেসবুক পেইজ