আজ মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং

‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ এক আদর্শের জীবন্ত প্রতীক

রহিম আব্দুর রহিম  

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন বিশাল চিত্তের, মহা-মানুষ, রাজনীতির মহাকবি, আদর্শের প্রতীক, বাবা-মার সু-সন্তান, সমাজ রাষ্ট্রের দরদী বন্ধু, অসাম্প্রদায়িক চেতনার পাঞ্জেরি। তাঁকে নিয়ে নানা জনের নানা বিশ্লেষণ। অসমাপ্ত আত্মজীবনী, শেখ মুজিবুর রহমান গ্রন্থের ভূমিকা লেখতে গিয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন, ‘এই মহান নেতা নিজের হাতে স্মৃতি কথা লেখে গেছেন, যা তাঁর মহাপ্রয়াণের ঊনত্রিশ বছর পর হাতে পেয়েছি। সে লেখা তাঁর ছোটবেলা থেকে বড় হওয়া, পরিবারের কথা, ছাত্রজীবনের আন্দোলন, সংগ্রামসহ তাঁর জীবনের অনেক অজানা ঘটনা জানার সুযোগ এনে দেবে। তাঁর বিশাল রাজনৈতিক জীবনের এক বিচিত্র অভিজ্ঞতা এই গ্রন্থে তাঁর লেখনির ভাষায় আমরা পাই। তিনি যা দেখেছেন, উপলব্ধি করেছেন এবং রাজনৈতিক ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন সবই সরল সহজ ভাষায় প্রকাশ করেছেন। তাঁর এই সংগ্রাম অধ্যবসায় ও আত্মত্যাগের মহিমা থেকে যে সত্য জানা যাবে, তা আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। ইতিহাস বিকৃতির কবলে পড়ে যারা বিভ্রান্ত হয়েছেন, তাদের সত্য ইতিহাস জানার সুযোগ করে দেবে। গবেষক ও ইতিহাসবিদদের কাছে এই গ্রন্থ মূল্যবান তথ্য ও সত্য তুলে ধরবে।

শেখ হাসিনা বইটির ভূমিকা লেখেন ২০০৭ সালের ৭ আগস্ট ঢাকার শেরেবাংলা নগর সাবজেলে বসে। যে বইটির ভূমিকা পড়েই যে কোন পাঠক আকৃষ্ট হবেন। প্রথম থেকে শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত বইটি আমি পড়িনি, তবে হাতের কাছে বইটি রেখেছি। প্রিয় নেতা, প্রিয় মানুষের লেখা নিয়ে প্রকাশিত বইটি সুযোগ পেলেই ইচ্ছামতো পাতা উল্টিয়ে পড়ি। আমার মনে হয়েছে, বঙ্গবন্ধু কত সালে কোথায় জন্ম গ্রহণ করেছেন, তাঁর বাবা মার নামধাম এবং মৃত্যু কাহিনী জেনে নেওয়ার পর, বঙ্গবন্ধুর উপর আর কোন বই পড়ার দরকার আছে বলে মনে করি না।

‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী-শেখ মুজিবুর রহমান’, গ্রন্থ পড়লেই শেখ মুজিবুর রহমান কী ছিলেন, তিনি বাঙালি জাতির কত বড় নেয়ামক, জাতির ইতিহাসের কোন নির্দেশক তা বোঝা সম্ভব। আত্মজীবনী লেখাটি শুরু হয় যেভাবে, ‘বন্ধুবান্ধবরা বলে, “তোমার জীবনী লেখ, সহকর্মীরা বলে ‘রাজনৈতিক জীবনের ঘটনাগুলি লিখে রাখ, ভবিষ্যতে কাজে লাগবে। আমার সহধর্মিণী একদিন জেলগেটে বসে বলল, “বসেই তো আছ’, লেখ তোমার জীবন কাহিনী, বললাম, লিখতে যে পারি না। আর এমন কি করেছি যা লেখা যায়....।” প্রারম্ভিক প্যারার শেষ লাইনে বলেছেন, “রেনু আরও একদিন জেলগেটে বসে আমাকে অনুরোধ করেছিল তাই আজ লিখতে শুরু করলাম।” তাঁর এই শব্দ চয়ন, প্রারম্ভিকতা প্রমাণ করে, ‘পৃথিবীর যা কিছু সৃষ্টি চির কল্যাণ কর, অর্ধেক তার এনেছে নারী অর্ধেক তার নর।’ কবি নজরুলের এই বাণী জাতির পিতার জীবনালেখ্যের আষ্টে-পৃষ্টে জড়িয়ে আছে। মহান নেতার মহান কাজে বঙ্গমাতার অনুপ্রেরণা, সাহস, ধৈর্য, সমান্তরাল।

আত্মজীবনীর শুরুটা ছিলো, “আমার জন্ম হয় ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে। আমার ইউনিয়ন হলো ফরিদপুর জেলার দক্ষিণ অঞ্চলের সর্বশেষ ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নের পাশেই মধুমতী নদী। মধুমতী খুলনা ও ফরিদপুর জেলাকে ভাগ করে রেখেছে।” তার লেখনির শুরু অংশের ভাষা জ্ঞান থেকে বুঝতে বাকি থাকে না তিনি কোমল চিত্তের, শিশু সুলভ মনের অধিকারী, প্রকৃতি ও সৌন্দর্যের পূজারী। বাংলা ভাষাবিজ্ঞানীদের গবেষণার বিষয়, তিনি মধুমতী নদীর লিঙ্গান্তর করতে গিয়ে বানানের ভুলটিও করেনি। এতে করে আমি একজন বাংলা সাহিত্যের ছাত্র হিসাবে স্পষ্ট বলতে চাই, তিনি একজন ভাষাবিজ্ঞানীও বটে। ‘মধুমতী ধানসিঁড়ি নদীর তীরে/নিজেকে হারিয়ে যেনো পাই ফিরে ফিরে।’ আমি মনে করি এই গানটিতে যেন বঙ্গবন্ধুকে খুঁজে পাবার আকুতিই উঠে এসেছে।

আত্মজীবনী বইটির ১৬ পৃষ্ঠায় এক জায়গায় উল্লেখ করেছেন, “ইসলামী কলেজে আমি খুবই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছি।” উজ্জ্বল নীতি-নৈতিকতা ও আদর্শের প্রতীক বঙ্গবন্ধু ছাত্র রাজনীতি করতে গিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মন জয় করেন, তাঁর আদর্শ, নীতি-নৈতিকতা ও বলিষ্ঠ চরিত্রই তাঁকে জনপ্রিয় করে তুলেছে, সাধারণের ভালোবাসাকে বুকে ধরেই মাটি মানুষের আন্দোলনে সম্পৃক্ত হতে পেরেছিলেন বলেই তিনি রাজনীতির বরপুত্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছেন।

আত্মজীবনীর ১১ পৃষ্ঠায় শেখ মুজিবুর রহমান এর ছাত্র জীবনের ১৯৩৮ সালের একটি ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি স্পষ্টত উল্লেখ করেন, “তখনকার দিনে শতকরা ৮০টি দোকান হিন্দুদের ছিলো। আমি এ খবর শুনে আশ্চর্য হলাম। কারণ আমার কাছে তখন হিন্দু মুসলিম বলে কোন জিনিস ছিলো না। হিন্দু ছেলেদের সাথে আমার খুবই বন্ধুত্ব ছিলো। একসাথে গান-বাজনা, খেলাধুলা, বেড়ান, সবই চলত।” তার এই বর্ণনা প্রমাণ করে, তিনি সর্বকালের সকল যুগের সাম্প্রদায়িকতাকেই ঘৃণা করেছেন। অসাম্প্রদায়িক চেতনায় তিনি তাঁর শৈশব কৈশোর পার করেছেন। যে কারণে তিনি ধর্ম নিরপেক্ষ রাজনীতির প্রবক্তা হিসাবে বিশ্বসভ্যতায় জায়গা করে নিতে পেরেছেন। তিনি যে গান গাইতে পারতেন এটা অনেকেই জানেন না। তাঁর এই উক্তি থেকেই বুঝতে বাকি থাকে না, তিনি শৈশব, কৈশোরে গ্রাম বাংলার আরও দশজন শিশুর মতই প্রকৃতি গত শিক্ষা নিয়ে বেড়ে উঠেছেন। তিনি ১৯৩৪ সালে যখন সপ্তম শ্রেণি’র শিক্ষার্থী, তখন থেকেই ব্রতচারী নৃত্যে অংশগ্রহণ করেন। আমরা জানি, শিশুদের দেশ প্রেমিক করে গড়ে তুলতেই ব্রতচারী নৃত্য করানো হয়। তিনি আত্মজীবনীর ৮ পৃষ্ঠার এক জায়গায় উল্লেখ করেছেন,‘ছোট সময়ে আমি খুবই দুষ্ট প্রকৃতির ছিলাম, খেলাধুলা করতাম, গান গাইতাম এবং খুব ভালো ব্রতচারী করতে পারতাম।’ বঙ্গবন্ধুর এই উক্তি আমাদের নির্দেশ করে, একটি দেশ প্রেমিক জাতি গঠন করতে হলে, শিশুদের ‘শৈশব’ শিশুদের ফিরিয়ে দেওয়া অনিবার্য। বর্তমানে শিশুরা আজ শিক্ষার নামে যেভাবে নির্যাতিত হচ্ছে; বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে তা কিভাবে উপলব্ধি করতেন, তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। পড়ালেখার পাশাপাশি আদর্শিক মানুষ, জন দরদী নেতা হতে হলে, বাবা-মার অনুপ্রেরণা ও প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সমর্থনের প্রয়োজন রয়েছে।

অসমাপ্ত আত্মজীবনীর ১৪ পৃষ্ঠায় তিনি উল্লেখ করেন, “আব্বা আমাকে বাধা দিতেন না, শুধু বলতেন লেখাপড়ার দিকে নজর দিবে।” তার এই উক্তি প্রমাণ করে পড়ালেখার পাশাপাশি রাজনীতি করাটা একটি নৈতিক শিক্ষা। অথচ আজ অপরাজনীতির জালে ফেঁসে সুষ্ঠু রাজনীতি চর্চা বিলুপ্তির পথে। বঙ্গবন্ধু বিনয়ী, ভদ্র, নম্র ছিলেন, এটা যেমন সত্য, তিনি সকল অন্যায় অনাচার নিপীড়ন শোষণ-শাসনের বিরুদ্ধে ছিলেন তীব্রদ্রোহী, এর প্রমাণ মিলে অসমাপ্ত আত্মজীবনীর ২৯ পৃষ্ঠায়। তিনি উল্লেখ করেন, “তিনি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কোটারি করেছেন, ভালো কর্মীদের জায়গা দেয় নাই। কোন হিসাব নিকাশও কোন দিন দাখিল করে নাই। শহীদ সাহেব আমাকে হঠাৎ বলে বসলেন, “Who are you? You are nobody” আমি বললাম, “If I am nobody, then why you have invited me? You have no right to insult me. I will prove that I am some body. Thank your sir, I will near come to you again” এই কথা বলে চিৎকার করতে করতে বৈঠক ছেড়ে বের হয়ে এলাম।”

তাঁর এই বক্তব্য আরও প্রমাণ করে, নিজেদের মধ্যকার অগণতান্ত্রিক চর্চার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হওয়ার। আবেগ তাড়িত কোন সিদ্ধান্তই রাজনৈতিক আদর্শে পড়ে না। রাজনীতি মানেই অন্যায় অসুন্দরের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে যখন জেলে যান, ঠিক ওই মুহূর্তে জেল সংলগ্ন মুসলিম গার্লস স্কুলের শিক্ষার্থীরা বঙ্গবন্ধু ও তাঁর সহযোদ্ধাদের মুক্তির দাবীতে মিছিল করত। গ্রেফতার হওয়ার পাঁচ দিনের মাথায় বঙ্গবন্ধু ও সামসুল হক সাহেব কারামুক্ত হন।

অসমাপ্ত আত্মজীবনী গ্রন্থের ৯৩ পৃষ্ঠার শেষাংশে তিনি উল্লেখ করেন, ‘যে পাঁচদিন আমরা জেলে ছিলাম, সকাল দশটায় মেয়েরা স্কুলের ছাঁদে উঠে স্লোগান দিতে শুরু করত। আর চারটায় শেষ করত। ছোট্ট ছোট্ট মেয়েরা একটুও ক্লান্ত হত না। ‘রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই, বন্দি ভাইদের মুক্তি চাই,’ ‘পুলিশ জুলুম চলবে না।’ এই উক্তি প্রমাণ করে, তাঁর সকল প্রকার গঠন মূলক আন্দোলনে শিশু কিশোর, ভাই-বোনদের অবদান স্মরণীয়। আজও যা ইতিহাসে স্থান পায় নি। অথচ বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনীতে তা বর্ণিত হওয়ায় শিশু কিশোররা ইতিহাসে পাতায় শুধু জায়গাই পায় নি, ইতিহাসের পাতাকে আরও একধাপ সমৃদ্ধ করেছে। ভাষা আন্দোলনের এক পর্যায় শোষকরা নানা কৌশল অবলম্বন করে। শুরু হয় ধর্মের অপব্যবহার। তীক্ষ্ণ দৃষ্টি সম্পন্ন রাজনীতিবিদ বঙ্গবন্ধু তা সহজেই উপলব্ধি করেন। যার সাক্ষ্য তিনি আত্মজীবনী গ্রন্থের ৯৯ পৃষ্ঠায় দিয়ে গেছেন। বলেছেন, “পূর্ব পাকিস্তানের ধর্মভীরু মুসলমানদের ইসলামের কথা বলে ধোঁকা দেওয়া যাবে বলে ভেবেছিল, কিন্তু পারে নাই। যে কোন জাতি তার মাতৃভাষাকে ভালোবাসে। মাতৃভাষার অপমান কোন জাতি কোন কালেই সহ্য করে নাই। এই সময়ে সরকার দলীয় মুসলিম’লীগ নেতারা উর্দুর জন্য জানমাল কোরবানি করতে প্রস্তুত হয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু জনসমর্থন না পেয়ে একটু ঘাবড়িয়ে পড়েছিলেন। তারা শেষ ‘তাবিজ’, নিক্ষেপ করলেন। জিন্নাহকে ভুল বোঝালেন। এরা মনে করলেন জিন্নাহকে দিয়ে উর্দুর পক্ষে বলাতে পারলেই আর কেউ এর বিরুদ্ধাচরণ করতে সাহস পাবে না।”

১৯৪৯ সালের উপনির্বাচনে মুসলিম’লীগের বিরুদ্ধে নির্বাচন করতে গিয়ে যে অর্থের প্রয়োজন হয় তা ছাত্র ও দলীয় কর্মীরা কিভাবে জোগাড় করেছিলেন। তার বর্ণনা দেন তিনি আত্মজীবনীর ১১৫ পৃষ্ঠায়। তিনি উল্লেখ করেন “ছাত্র ও কর্মীরা ঘড়ি কলম বিক্রি করেও টাকা দিয়ে ছিলো।” তার এই বাক্য প্রমাণ করে দেশের জন্য ছাত্র-জনতা বঙ্গবন্ধুকে কি পরিমাণ বিশ্বাস করতেন, ভালোবাসতেন। শুধু তাই নয়, রাজনীতি যে ত্যাগের জন্য, ভোগের জন্য নয় তারই প্রমাণ করতে গিয়ে তিনি তাঁর জীবনের কোন ঘটনাই আত্মজীবনীতে বর্ণনা করতে দ্বিধা করেন নি। আমরা জানি, মিথ্যা বলা ও তথ্য গোপন রাখা সমান অপরাধ। মহান নেতা যেমন সত্য বলেছেন তেমনি তথ্য গোপন রাখেন নি। উদার মনের বিশাল নেতা, বঙ্গবন্ধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে কখনো শত্রু মনে করেন নি। ১৯৫১ সালে দাঙ্গায় যখন মহিউদ্দিন তারই সমর্থিত সরকার কর্তৃক গ্রেফতার হন, বঙ্গবন্ধুর সাথে জেল খাটেন। ওই জেলে বসেই মহিউদ্দীন সাহেব তার রাজনৈতিক জীবনের দুঃখ কষ্ট, ভুল ভ্রান্তি বর্ণনা করেন। দরদী বঙ্গবন্ধুই মহিউদ্দীন সাহেবের মুক্তির জন্য আন্দোলন করার ম্যাসেজ জেলের বাইরে পাঠান।

অসমাপ্ত আত্মজীবনীর ১৯৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে, “ শহীদ সাহেব আমাকে খুবই আদর করলেন, ডাক্তার সাহেব দের ডেকে বললেন, আমার দিকে বিশেষ নজর দিতে। আমি মহিউদ্দীনের কথা তুললাম, শহীদ সাহেব আমার দিকে আশ্চর্য হয়ে চেয়ে রইলেন এবং বললেন, ‘ তুমি বোধ হয় জান না, এই মহিউদ্দীনই আমার বিরুদ্ধে লিয়াকত আলী খানের কাছে এক মিথ্যা চিঠি পাঠিয়ে ছিলো। যখন বরিশালে যাই, শান্তি মিশনের জন্য সভা করতে ১৯৪৮ সালে। আবার সেই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাও করেছে ১৯৫১ সালে।’ আমি বললাম, ‘স্যার মানুষের পরিবর্তন হতে পারে, কর্মীতো ভাল ছিল, আপনি তো জানেন, এখন জেলে আছে, আমার সাথেই আছে। আমি আপনাকে বলছি আপনি বিশ্বাস করুন, ওর অনেক পরিবর্তন হয়েছে। ভাল পথে আনতে পারলে, দেশের অনেক কাজ হবে। আমরা উদার হলে তো ক্ষতি নাই। আমার জন্য যখন মুক্তি দাবী করবেন ওর নামটাও একটু নিবেন, সকলকে বলে দিবেন।’ শহীদ সাহেব ছিলেন সাগরের মত উদার। যেকোনো লোক তাঁর কাছে একবার যেয়ে হাজির হয়েছে সে যত বড় অন্যায়ই করুক না কেন, তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।”

১৯৬৯ এর পাঁচ ডিসেম্বর শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিক উপলক্ষে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় বঙ্গবন্ধু পূর্ব বাংলার নামকরণ করেন, ‘বাংলাদেশ’। তিনি বলেন, “এক সময় এই দেশের বুক হইতে মানচিত্রের পৃষ্ঠা হইতে ‘বাংলা’ কথাটির সর্বশেষ চিহ্নটুকু চিরতরে মুছিয়া ফেলার চেষ্টা করা হইয়াছে। একমাত্র ‘বঙ্গোপসাগর’ ছাড়া আর কোন কিছুর নামের সাথে বাংলা কথাটি অস্তিত্ব খুঁজিয়া পাওয়া যায় নাই। জনগণের পক্ষ হইতে আমি ঘোষণা করিতেছি- আজ হইতে পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশটির নাম ‘পূর্ব পাকিস্তানের পরিবর্তে শুধুমাত্র ‘বাংলাদেশ’।” বঙ্গবন্ধুর এই ঘোষণাই আজ বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশ নামে সার্বভৌমত্বের রাষ্ট্রীয় পরিচয় বহন করছে।

বঙ্গবন্ধু জাতির বিবেক, ন্যায়ের প্রতীক, স্বাধীন বাংলার অগ্নিমশাল অন্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্রদ্রোহী, সত্যের মাইল ফলক, ইতিহাসের হিমালয়, মানবতার মহাসমুদ্র, তিনিই হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, ‘বাংলা মায়ে’র রক্তখচিত পতাকা। তুমিই জাতির পিতা, তুমিই সর্বকালের মহানায়ক, শান্তির দূত, মুক্তির পথ ও পাথেয়। তোমাকে স্মরি...।

রহিম আব্দুর রহিম, সাংবাদিক, কলাম লেখক, শিক্ষক ও নাট্যকার; ই-মেইল: [email protected]

মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। sylhettoday24.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে sylhettoday24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।

আপনার মন্তব্য

লেখক তালিকা অঞ্জন আচার্য অসীম চক্রবর্তী আজম খান ১০ আজমিনা আফরিন তোড়া আফসানা বেগম আবু এম ইউসুফ আবু সাঈদ আহমেদ আব্দুল করিম কিম ২০ আব্দুল্লাহ আল নোমান আব্দুল্লাহ হারুন জুয়েল আমিনা আইরিন আরশাদ খান আরিফ জেবতিক ১২ আরিফ রহমান ১৪ আরিফুর রহমান আলমগীর নিষাদ আলমগীর শাহরিয়ার ৩৯ আশরাফ মাহমুদ আশিক শাওন ইমতিয়াজ মাহমুদ ৫০ ইয়ামেন এম হক এখলাসুর রহমান ১৯ এনামুল হক এনাম ২৫ এমদাদুল হক তুহিন ১৯ এস এম নাদিম মাহমুদ ১৮ ওমর ফারুক লুক্স কবির য়াহমদ ৩১ কাজল দাস ১০ কাজী মাহবুব হাসান খুরশীদ শাম্মী ১১ গোঁসাই পাহ্‌লভী ১৪ চিররঞ্জন সরকার ৩৫ জফির সেতু জহিরুল হক বাপি ২৮ জহিরুল হক মজুমদার জান্নাতুল মাওয়া জাহিদ নেওয়াজ খান জুয়েল রাজ ৭৩ ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন ড. কাবেরী গায়েন ২২ ড. শাখাওয়াৎ নয়ন ডা. সাঈদ এনাম ডোরা প্রেন্টিস তপু সৌমেন তসলিমা নাসরিন তানবীরা তালুকদার দিব্যেন্দু দ্বীপ দেব দুলাল গুহ দেব প্রসাদ দেবু দেবজ্যোতি দেবু ২৬ নিখিল নীল পাপলু বাঙ্গালী পুলক ঘটক ফকির ইলিয়াস ২৪ ফজলুল বারী ৬০ ফড়িং ক্যামেলিয়া ফরিদ আহমেদ ৩২ ফারজানা কবীর খান স্নিগ্ধা বদরুল আলম বন্যা আহমেদ বিজন সরকার বিপ্লব কর্মকার ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ১৫ ভায়লেট হালদার মারজিয়া প্রভা মাসকাওয়াথ আহসান ১০১ মাসুদ পারভেজ মাহমুদুল হক মুন্সী মিলন ফারাবী মুনীর উদ্দীন শামীম ১০ মুহম্মদ জাফর ইকবাল ১১২ মো. মাহমুদুর রহমান মো. সাখাওয়াত হোসেন মোছাদ্দিক উজ্জ্বল মোনাজ হক রণেশ মৈত্র ১০৭ রতন কুমার সমাদ্দার রহিম আব্দুর রহিম ১৬ রাজেশ পাল ১৯ রুমী আহমেদ রেজা ঘটক ৩২ লীনা পারভীন শওগাত আলী সাগর শাখাওয়াত লিটন শামান সাত্ত্বিক শামীম সাঈদ শারমিন শামস্ ১৪ শাশ্বতী বিপ্লব শিতাংশু গুহ শিবলী নোমান শুভাশিস ব্যানার্জি শুভ ২৪ শেখ মো. নাজমুল হাসান ২১ শেখ হাসিনা শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী সঙ্গীতা ইমাম সঙ্গীতা ইয়াসমিন ১৬ সহুল আহমদ সাইফুর মিশু সাকিল আহমদ অরণ্য সাব্বির খান ২৮

ফেসবুক পেইজ