আজ শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৯ ইং

ফরিদপুর সিটি ও বিভাগ : গুজব বনাম বাস্তবতা

দেব দুলাল গুহ  

গত কয়েকদিন ধরেই ফেসবুকে ও ফরিদপুরে লোকজনের মুখে মুখে যে খবরটি রটেছে, তা হলো আজকেই সিটি কর্পোরেশন আর বিভাগ হয়ে যাবে ফরিদপুর। যেন খোদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীই যা জানেন না, ফরিদপুরের কিছু লোক তা জানেন। আজ জানা গেলো, ফরিদপুর এখনও সিটি কর্পোরেশন বা বিভাগ--দুইটার কোনোটাই হয় নাই। তবে অদূর ভবিষ্যতে হয়তো হবে। তার আগেই উত্তেজিত ও অতি উৎসাহী হয়ে সবকিছুর দাম আরেক দফা বাড়াবেন না প্লিজ! আমরা যারা শুধু বেতনের টাকায় চলি অথবা যারা খেটে খাওয়া মানুষ, তাদের কষ্ট হয়। তবে যারা 'আঙুল ফুলে কলাগাছ' হয়েছেন, তাদের কথা আলাদা।

মূল খবর হলো, 'শর্ত সাপেক্ষে' ত্রয়োদশ সিটি কর্পোরেশনের অনুমতি পেয়েছে ফরিদপুর। এর মানে হলো, সিটি কর্পোরেশন হতে হলে ফরিদপুরকে কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে প্রধান শর্তটা হলো, আগে একটি পূর্ণ বিভাগ হওয়ার সকল শর্ত পূরণ করতে হবে ফরিদপুরকে। গণমাধ্যম হতে প্রাপ্ত তথ্যমতে, এখন থেকে বিভাগ ছাড়া সিটি কর্পোরেশন না দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রীপরিষদ সচিব মহোদয়। আগে যা হবার হয়ে গেছে। ফরিদপুরকে সিটি কর্পোরেশন হতে হলে আগে বিভাগ হতে হবে। বিভাগ নাহলে সিটি কর্পোরেশন হবে না।

গত নির্বাচনের আগে ফরিদপুর এসে জনসভায় যেমনটি ঘোষণা দিয়েছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সেমতে বৃহত্তর ফরিদপুর নিয়ে গঠিত বিভাগটির নাম হবে 'পদ্মা'। তবে সেই বিভাগের হেড কোয়ার্টার কোথায় হবে তা বলা হয়নি। সেই জনসভার পর এক শ্রেণির স্বার্থান্বেষী মহল এমনকি কিছু সাংবাদিকরাও যেভাবে রটিয়ে দিয়েছিলেন সিটি হয়ে গেছে বিভাগ হয়ে গেছে, গত কয়েকদিন ধরেও তেমনটা লক্ষ্য করেছি। এটা নিছক জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ানোর অপচেষ্টা ছাড়া কিছু নয়। খোঁজ নিয়ে দেখবেন এরা সবাই কোনো না কোনোভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত অথবা অসৎ কোনো ব্যবসার সাথে সরাসরি জড়িত।

তবে আজ ফরিদপুর সিটি কর্পোরেশন আর বিভাগ হওয়ার খবর আমরা প্রথম পাই 'জেলা প্রশাসন, ফরিদপুর' নামের পেইজ থেকেই প্রথম। আমার জানা নেই আসলেই এটা ডিসি অফিসের কেউ চালান কিনা। না চালালে আংশিক সত্য খবর যারা রটাচ্ছে তাদেরকে শনাক্ত করা জরুরি। পরে অবশ্য পোস্টটি মুছে ফেলা হয়েছে। এমনকি ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র শেখ মাহতাব আলী মেথুর ফেসবুক আইডি ও স্থানীয় নেতাকর্মীদেরকেও ফেসবুকে উল্লাস প্রকাশ করে ফরিদপুর-৩ আসনের এমপি মহোদয়কে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করতে দেখেছি। শহরে চলছে একে-অন্যকে মিষ্টিমুখ করানোর ধুম।

বৃহত্তর ফরিদপুর নিয়ে একটা বিভাগ হলে যেমন ভালো হয়, আবার দেশের রাজধানী ঢাকার সাথে একই বিভাগে আছি এটাও কম মর্যাদার বিষয় নয়। আলাদা বিভাগ হলেও ফরিদপুর তার হেড কোয়ার্টার হওয়ার সম্ভাবনা কতটা? সেক্ষেত্রে রাজধানীর সাথে থাকার সুবিধা হারাবো আমরা। আর পদ্মা সেতুটা হয়ে গেলে ঢাকার সাথে দূরত্বটা আমাদের আরও কমে আসবে। তখন প্রতিদিন ঢাকা যেয়ে-এসে অফিসও করা যাবে, মেটানো যাবে সব প্রয়োজন।

বিভাগ সে যাই হোক, সকলের স্বার্থে যেটা ভালো হয় সেটা মেনে নিতে হলে অবশ্যই মেনে নেবো। তবে আমি সিটি কর্পোরেশন বা বিভাগ হওয়ার আগেই সবকিছুর দাম কয়েক দফা বাড়ানোর বিরুদ্ধে। আমার অন্তত চলতে কষ্ট হয়। বাকিদের কথা জানি না। তবে আমি অপরিকল্পিত নগরায়ণের বিরুদ্ধে। আচ্ছা, ফরিদপুর শহরের অধিকাংশ মানুষের গড় ইনকাম কত? সেটার সাথে সামঞ্জস্য রেখেই জীবনযাত্রার ব্যয় নির্ধারিত হোক এবং সিটি-বিভাগ হোক।

ফরিদপুরে গত কয়েক বছরে যেভাবে আঙুল ফুলে কলাগাছদের সংখ্যা বেড়েছে, সেভাবেই বেড়েছে উঁচু ভবন আর অপরিকল্পিত নগরায়ণ। গত ১০ বছর আগের ও পরের শহরের অভ্যন্তরে রিকশাভাড়া থেকে শুরু করে সবকিছুর দামের ব্যবধান কি সারা দেশের মতই হয়েছে? যদি একই হারে বেড়ে থাকে, তাহলে আমার কিছু বলার নেই। কিন্তু আমাকে একজন জানালেন সিটি কর্পোরেশন হওয়ার অনেক আগে থেকেই (এখনও হয়নি কিন্তু!) আমরা সিটি কর্পোরেশনের মতো ট্যাক্স দেই! কেন দেই?

বিষয়টা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যেন একজন রটিয়ে দিলো 'চিলে কান নিয়ে গেছে, আর আমরাও তা বিশ্বাস করে কানে হাত দিয়ে না দেখেই চিলের পিছে দৌড়াচ্ছি!' দেশের প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দেওয়ার আগেই কয়েক বছর ধরে ফরিদপুরের কেউ কেউ রটিয়ে দিচ্ছেন ফরিদপুর বিভাগ/সিটি হচ্ছে, আজ হচ্ছে.. কাল হচ্ছে..'।

আপনাকে একজন যা বুঝাবে, আপনি সাতপাঁচ না ভেবে তাই বুঝবেন-- ফরিদপুরের মানুষ কি এতটাই বোকা?! নিশ্চয়ই না। গুজবে কান দিবেন না এবং গুজব ছড়াবেন না। সম্প্রতি ভোলায় ফেসবুক আইডি হ্যাক করে ঘটানো ঘটনা, নাসিরনগর-রামু গুজবে কান দেওয়ার ভয়াবহ পরিণতিকেই স্মরণ করিয়ে দেয়। আজকাল ফেসবুকে রটানো অপপ্রচার দেখে মাঝে মাঝে মনে হয়, 'বানরের গলায় মুক্তার মালা'র মতো হয়তো আমরা এখনও ফেসবুক ব্যবহারে পুরোপুরি যোগ্য ও দক্ষ হয়ে উঠতে পারিনি।

দেব দুলাল গুহ, প্রভাষক, লেখক ও কলামিস্ট। ইমেইল: [email protected]

মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। sylhettoday24.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে sylhettoday24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।

আপনার মন্তব্য

লেখক তালিকা অঞ্জন আচার্য অসীম চক্রবর্তী আজম খান ১০ আজমিনা আফরিন তোড়া ১০ আফসানা বেগম আবু এম ইউসুফ আবু সাঈদ আহমেদ আব্দুল করিম কিম ২০ আব্দুল্লাহ আল নোমান আব্দুল্লাহ হারুন জুয়েল আমিনা আইরিন আরশাদ খান আরিফ জেবতিক ১৩ আরিফ রহমান ১৪ আরিফুর রহমান আলমগীর নিষাদ আলমগীর শাহরিয়ার ৪০ আশরাফ মাহমুদ আশিক শাওন ইমতিয়াজ মাহমুদ ৫৩ ইয়ামেন এম হক এখলাসুর রহমান ১৯ এনামুল হক এনাম ২৫ এমদাদুল হক তুহিন ১৯ এস এম নাদিম মাহমুদ ১৯ ওমর ফারুক লুক্স কবির য়াহমদ ৩১ কাজল দাস ১০ কাজী মাহবুব হাসান খুরশীদ শাম্মী ১২ গোঁসাই পাহ্‌লভী ১৪ চিররঞ্জন সরকার ৩৫ জফির সেতু জহিরুল হক বাপি ২৮ জহিরুল হক মজুমদার জান্নাতুল মাওয়া জাহিদ নেওয়াজ খান জুয়েল রাজ ৭৫ ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন ড. কাবেরী গায়েন ২২ ড. শাখাওয়াৎ নয়ন ডা. সাঈদ এনাম ডোরা প্রেন্টিস তপু সৌমেন তসলিমা নাসরিন তানবীরা তালুকদার দিব্যেন্দু দ্বীপ দেব দুলাল গুহ দেব প্রসাদ দেবু দেবজ্যোতি দেবু ২৬ নিখিল নীল পাপলু বাঙ্গালী পুলক ঘটক ফকির ইলিয়াস ২৪ ফজলুল বারী ৬২ ফড়িং ক্যামেলিয়া ফরিদ আহমেদ ৩৩ ফারজানা কবীর খান স্নিগ্ধা বদরুল আলম বন্যা আহমেদ বিজন সরকার বিপ্লব কর্মকার ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ১৬ ভায়লেট হালদার মারজিয়া প্রভা মাসকাওয়াথ আহসান ১০৬ মাসুদ পারভেজ মাহমুদুল হক মুন্সী মিলন ফারাবী মুনীর উদ্দীন শামীম ১০ মুহম্মদ জাফর ইকবাল ১১৭ মো. মাহমুদুর রহমান মো. সাখাওয়াত হোসেন মোছাদ্দিক উজ্জ্বল মোনাজ হক রণেশ মৈত্র ১২৪ রতন কুমার সমাদ্দার রহিম আব্দুর রহিম ১৭ রাজেশ পাল ১৯ রুমী আহমেদ রেজা ঘটক ৩২ লীনা পারভীন শওগাত আলী সাগর শাখাওয়াত লিটন শামান সাত্ত্বিক শামীম সাঈদ শারমিন শামস্ ১৪ শাশ্বতী বিপ্লব শিতাংশু গুহ শিবলী নোমান শুভাশিস ব্যানার্জি শুভ ২৪ শেখ মো. নাজমুল হাসান ২১ শেখ হাসিনা শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী সঙ্গীতা ইমাম সঙ্গীতা ইয়াসমিন ১৬ সহুল আহমদ সাইফুর মিশু সাকিল আহমদ অরণ্য সাব্বির খান ২৮

ফেসবুক পেইজ