আজ মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শিক্ষকদের হত্যার হুমকি

ভায়লেট হালদার  

সর্বশেষ গত ২৩ জুলাই  ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা সদরের সরাইল গ্রামের বাসিন্দা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আরো দু’জন শিক্ষককে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ সূত্রে জানা যায় সরাইল থানা ভবনের অদূরে অবস্থিত আইডিয়াল প্রি-ক্যাডেট স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুশীল চন্দ্র  দেব ও সহকারী শিক্ষক তুষ্টি দেবকে গত শনিবার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি মোবাইল ফোনে হত্যার হুমকি দেয়া হয়।

‘শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড’, শিক্ষা ছাড়া কোন জাতি উন্নতি করতে পারেনা। এ মানুষ জাতির কারিগর হলো শিক্ষক। একটি শিশুকে জন্মদান করে পিতামাতা, কিন্তু তাকে মানুষরূপে গড়ে তোলে তার শিক্ষকেরা। তাই পিতামাতার পরেই অভিভাবকের আসনটি শিক্ষকের প্রাপ্য।

একটি রাষ্ট্রে একের অধিক রাজনৈতিক দল থাকে। সে রাষ্ট্রে নানান বর্ণের মানুষ বিভিন্ন ধর্মমতে বিশ্বাসী মানুষ বসবাস করে। কিন্তু রাষ্ট্রের আইন সব নাগরিকের জন্য সমান। রাষ্ট্রের সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার অধিকার দলমত নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের একই।

আজ বাংলাদেশে মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষকেরা লাঞ্ছিত হচ্ছে, বঞ্চিত হচ্ছে, সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছে। আর এসবই করা হচ্ছে ধর্মের দোহাই দিয়ে। এটা নতুন কোন ঘটনা নয়। ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান দু’টো আলাদা দেশে ভাগ হয়ে যাবার পর থেকেই চলে আসছে এই নির্যাতন, সংখ্যালঘু নিধনের নামে চলছে মানুষ নিধন। এক শ্রেণীর পাকিস্তানপন্থী মানুষের সাথে হাত মিলিয়েছে এ দেশের কিছু কুলাঙ্গার। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হলেও থেমে যায়নি এ ষড়যন্ত্র।

দেশভাগের পরে পাকিরা নিজের দেশে পাকিস্তানে ভাল নেই, ধর্মকে রাজনীতিতে ব্যবহার করে দাঙ্গা/হাঙ্গামার মাধ্যমে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। অথচ ভারতীয়রা নিজের দেশে ভারতে ভাল আছে, বাংলাদেশীরাও বাংলাদেশে ভাল আছে। তাই বাংলাদেশকে অচল করে দিতে পাকিদের সাথে হাত মিলিয়েছে এ দেশের কিছু লোক, আমরা জেনেছি ১৯৪৭ সালে 'রায়ট’ শব্দটি ব্যবহার করে হিন্দুদের হত্যা করা হয়েছে, ১৯৭১ সালেও ইসলাম ধর্মকে ব্যবহার করে হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ব্যাপক হারে হত্যা করা হয়েছে এবং আজও তা চলছে। তবে এই অত্যাচারের ধরন বদলেছে। বাংলাদেশ থেকে অসংখ্য হিন্দু পরিবার দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে বা তাদেরকে বাধ্য করা হয়েছে। এ দেশে হিন্দু ধর্ম রক্ষার নামে কোন মুসলমানকে হত্যা করা হয়নি, তাহলে ইসলাম ধর্ম রক্ষার নামে কেন হিন্দুদের উপর অত্যাচার করা হবে?

এ দেশ তো হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান... সকলের দেশ। বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক দেশ, এর ইতিহাস দীর্ঘ । ধর্মের নামে এ দেশে আগুন জ্বালাচ্ছে কারা? এ দেশ ধীরে ধীরে সাম্প্রদায়িক হয়ে উঠেছে। একদল উগ্রবাদী গোষ্ঠী মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। এরা নিজেদের স্বার্থে ধর্মকে ব্যবহার করছে। বহুমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা বাতিল করে মাদ্রাসাভিত্তিক একমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার গভীর চক্রান্ত চলছে। যার শিকার হচ্ছে ভিন্ন ধর্মমতে বিশ্বাসী শিক্ষকেরা। আর এদের খপ্পরে পড়েছে এ দেশের সাধারণ সরল ধর্মভীরু মানুষেরা। যার ফলে দেখতে পাচ্ছি ধর্মভীরু মানুষেরা হয়ে উঠছে উগ্র ধর্মান্ধ।

কোমলমতি শিশুদের শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত করে অজ্ঞ, মূর্খ, কুসংস্কারের বেড়াজালে বন্দি করে বানাতে চাইছে সন্ত্রাসী, তারা নিজেরা ক্ষমতার সিংহাসনে বসে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে, সাধারণ মানুষ যত কম শিক্ষিত হবে তাদের ক্ষমতার সিংহাসন তত পাকাপোক্ত হবে।  

সম্প্রতি শুরু হয়েছে ধর্ম ব্যবহার করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে চাকরীতে আসা শিক্ষক নির্যাতনের ঘটনা। ঘটনায় প্রকাশ পেয়েছে মাস দুই আগে থেকে বিচ্ছিন্নভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানের বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ইসলাম ও নবী মোহাম্মদকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ তুলেছে স্থানীয়রা। গত ৬ এপ্রিল তপন চন্দ্র বাড়ৈ নামে একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোরান নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ আনে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী ও এলাকার লোকজন। তাকে স্কুল থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঠিক তার চার দিনের মাথায় ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক নবী মোহাম্মদকে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে মনোহরগঞ্জ উপজেলার উত্তর হাওড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের কম্পিউটার ও আইসিটি বিভাগের শিক্ষিকা সঞ্চিতা রানী সাহাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করেছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক, পাশের মসজিদের মাইকে এমন প্রচারণা চালিয়ে নারায়ণগঞ্জ বন্দরের পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে মে মাসে লাঞ্ছিত করেছে স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের অনুসারীরা।

বাংলাদেশে পাঠ্যসূচীর বাইরে কোন বিষয় নিয়ে স্কুলশিক্ষক ক্লাসে শিক্ষার্থীদের সাথে খোলামেলা আলোচনা করে না। স্কুলের শিক্ষকেরা যখন ক্লাসরুমে প্রবেশ করে, তারা ক্লাসের পাঠ্যবইয়ের উপর গুরুত্ব দেন, আমাদের দেশে শিক্ষক ও স্কুলের শিক্ষার্থীদের সাথে কোন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়না কখনোই। বরং ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকের মাঝে বেশ দূরত্ব বজায় রেখেই পাঠ্যবইয়ের বাইরে অন্য কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয় না। আর স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বয়সের বিরাট ব্যবধান থাকায় সম্পর্কের দূরত্ব বাড়ে, তাছাড়া গ্রামের স্কুল হলে তো কথাই নেই। যদি কোন শিক্ষার্থী কোন বিষয়ে প্রশ্ন করে থাকে তবে তার উত্তর শিক্ষকেরা দিয়ে থাকে, পাঠ্যবইয়ের বাইরে হলে বাংলাদেশের শিক্ষকেরা বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই এড়িয়ে যেতে চেষ্টা করে। এমন ঘটনা নারায়ণগঞ্জের পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষসহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ কেউই টের পেল না! একদিন পরে এলাকার লোকজন মারফত স্কুল কর্তৃপক্ষ জানতে পারলো! বিষয়টি রহস্যময় নয় কি?

বাগেরহাটের হিজলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণপদ মহলী ও বিজ্ঞান শিক্ষক অশোক কুমার ঘোষাল- এই যে দুজন শিক্ষক, যারা ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে গত এপ্রিল থেকে এখনও সাজা খাটছেন, তারা নাকি ধর্ম ও নবী মোহাম্মদকে নিয়ে কটূক্তি করেছেন, কিভাবে করলেন? কেন করলেন? কোনটা উক্তি আর কোনটা কটূক্তি?

কোন শিক্ষার্থী কি তাকে প্রশ্ন করেছিল ধর্ম বিষয়ে? যদি ধর্ম নিয়ে কোন শিক্ষার্থী প্রশ্ন করে থাকে তবে হিন্দু শিক্ষকের কাছে ইসলাম সম্পর্কে কেন প্রশ্ন করবে? কোন কারণ ছাড়াই একজন শিক্ষক ক্লাসের মধ্যে ধর্ম নিয়ে কথা বলতে শুরু করে দিয়েছিলেন? যদি কোন শিক্ষক এটা করে থাকে তাহলে সঙ্গে সঙ্গে কোন শিক্ষার্থী প্রতিবাদ কেন করলো না? ঐদিনই কেন স্কুল কর্তৃপক্ষ বা অন্য কোন শিক্ষককে কেন জানলো না? কেন প্রধান শিক্ষকের কাছে স্কুল ত্যাগের পূর্বে শিক্ষার্থীরা সাথে সাথে অভিযোগ করলো না? কেন একদিন পরে কিছু শিক্ষার্থী নিয়ে এলাকার মানুষ সব একত্রিত হয়ে প্রতিবাদ করতে শুরু করলো? এক রাতের মধ্যে এতগুলো মানুষকে কে সংগঠিত করলো? এর পিছনে কারা আছে? কি উদ্দেশ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শিক্ষকের উপর এসব অভিযোগ আনা হচ্ছে সারাদেশে? এর সত্যতা কতটুকু?

অভিযোগে অভিযুক্তকারীকে বরখাস্ত করে সরাসরি কারাগারে পাঠিয়ে দিল ভ্রাম্যমাণ আদালত!!! এই কুচক্রী জঙ্গিদের সাথে একাত্ম হয়ে নিজের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য ধর্মকে ও সাধারণ মানুষের অসচেতনবোধকে ব্যবহার করছে আমাদের চারপাশের একদল লোভী মানুষ। বেশ কয়েক বছর আগেই একটি উগ্রপন্থি রাজনৈতিক দল এদেশের পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত হিন্দু লেখকদের কবিতা-গল্প বাতিল করার দাবি জানিয়েছিল এবং আজও তা অব্যাহত আছে। হিন্দু লেখকদের লেখা গল্প, কবিতা পাঠ্যপুস্তক থেকে বাতিলের জন্য রাজপথে আন্দোলনে নেমেছে তারা। মাইকে আযান দিয়ে মুসল্লিদের নামাজ পড়ার আহ্বান জানানো হয়, মাইক ব্যবহার করা হয় যাতে সকলে আযান শুনতে পায় ও নামাজ পড়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে সৃষ্টিকর্তার আরাধনা সময়মত করতে পারে। কিন্তু আজ অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে মসজিদের মাইক। মসজিদের মাইক ব্যবহার করে ইসলাম ধর্ম অবমাননার ডাক দিয়ে সাধারণ জনগণকে একত্রিত করে অন্য পক্ষের ওপরে হামলার উদ্দেশ্যে প্রস্তুতি নেওয়া হয়। আর এই সাধারণ জনতা না বুঝে না শুনে এদের ফাঁদে পা দিয়ে ধর্মরক্ষার যুদ্ধের নামে নিপীড়নে অংশগ্রহণ করে। ধর্মের নামে উল্টাপাল্টা ফতোয়া দিয়ে সাধারণ জনতাকে উত্তেজিত করে তোলে এক শ্রেণীর ধর্ম ব্যবসায়ীরা। তোমরা তোমাদের ধর্ম রক্ষা নয় বরং সমাজের নেতৃস্থানীয় মানুষের কাজ হাসিলের স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছে। এ বাড়াবাড়ি আর কতকাল চলবে জনতা?

যে শিক্ষকেরা আজ ধর্ম অবমাননার অভিযোগের শিকার হয়ে বন্দি, হয়ত একদিন তারা মুক্ত হয়ে ফিরেও আসবে। কিন্তু মুক্ত হয়ে আসা শিক্ষকদের যে জঙ্গিগোষ্ঠী মেরে ফেলবে না- এর গ্যারান্টি কে দেবে? তারা ফিরে পাবে কি আগের মতো স্বাভাবিক জীবন? সম্মানহানির লজ্জা ও অপমানিত হয়ে স্বাভাবিক হয়ে বাঁচতে পারবে কি তারা এ সমাজে? এই শিক্ষকেরা ও তাদের পরিবার কতটুকু সামাজিকভাবে হেয় হয়েছে তা কি কেউ ভেবেছে? পারবে কি তারা নিরাপদে নিশ্চিন্তে বসবাস করতে এ দেশে? আশেপাশের পাড়াপড়শির টিপ্পনীতে পদে পদে বাঁধাগ্রস্ত বা একঘরে হবে না পরিবারগুলোর সদস্যরা এমন নিশ্চয়তা কে দেবে? কেন আমরা ঠেলে দিচ্ছি তাদের নিরাপত্তাহীন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে? এর দায় কার?

১৯৭১ এ বাংলার জনতা একত্রে জেগে উঠেছিল মা-মাটি-দেশ রক্ষা করতে, চেয়েছিল স্বাধীনতা। কথা ছিল সুখে-দুখে, বিপদে-আপদে এদেশের মানুষ একে অপরের পাশে এসে দাঁড়াবে। এ দেশের মানুষ যে ধর্মের বা বর্ণের হোক না কেন তাদের মধ্যে ছিল ভ্রাতৃত্ববোধ, ছিল সহমর্মিতা। আরো ছিল অসাম্প্রদায়িক প্রীতির বন্ধন। তবে সে বাঁধন আজ খুলে যাচ্ছে কেন?

বাংলাদেশে এখন মুসলিম সম্প্রদায় সংখ্যাগরিষ্ঠ (৯০.৪%)। কখনো তো সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দ্বারা মুসলিম জনগোষ্ঠী নির্যাতিত হয়নি। তাহলে আজ কেন ইসলাম ধর্মের ধুয়ো তুলে চলছে সংখ্যালঘু নির্যাতন? স্কুলে স্কুলে চলছে হিন্দু সম্প্রদায়ের শিক্ষকদের অপসারণ করে জেলহাজত বাস।

এখন বাংলাদেশে নারী নির্যাতন, শিশু নির্যাতন, মানুষ হত্যা এ সবই করা হচ্ছে ধর্মের দোহাই দিয়ে। এখনো হিটলিস্টের তালিকায় আছে বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ। মতাদর্শগত বিরোধের কারণে কিংবা এই জঙ্গিগোষ্ঠীর সাথে সহমত পোষণ না করলে তাকেই হত্যা করা হচ্ছে। আর তাদের সাথে মদদ যোগায় সাধারণ জনতা।

১৯৭১ এ ইসলাম ধর্মকে পুঁজি করা হয়েছিল, আজও হচ্ছে। তবে সেদিন আর এই দিনের মধ্যে ব্যাপক ফারাক। সেদিন মানুষ স্বপ্ন দেখছিল একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের, ঝাঁপিয়ে পড়েছিল দেশকে বিদেশী শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করতে। আর আজ স্বাধীন দেশের মানুষ ধর্ম রক্ষার যুদ্ধে যেন নেমেছে, মানবতাবোধ ও ভাতৃত্ববোধ বিসর্জন দিয়ে ভাইয়ের রক্তে হাত রঞ্জিত করছে আরেক ভাই।

বাংলাদেশ থেকে ইসলাম ধর্মের নাম মুছে দেবার মত কোন শত্রু তো নেই, তবে কিসের জন্য সাধারণ মুসলমানেরা ইসলাম রক্ষায় মাঠে নেমেছে? প্রতিটি রাজনৈতিক দল ও মতের একটি আদর্শ বা নীতিমালা থাকে, নেতারা তা বাস্তবায়নের জন্য নিজেদের ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার জন্য সাধারণ মানুষকে দলে টানে ও তাদের ব্যবহার করে। এদের প্রত্যেকের স্বপ্ন আলাদা হলেও উদ্দেশ্য কিন্তু এক। নিজেদের চাওয়া-পাওয়া বাস্তবায়নের জন্য অন্যের স্বপ্ন কেড়ে নেওয়াই যেন তাদের এখন এক একটি স্বপ্ন।

আমাদের সকলকে এর বিপক্ষে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে হবে। নয়তো এ দায় এ লজ্জা সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায় কিভাবে এড়াবে? ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোকে নিষিদ্ধ করতে হবে। এবং রাজনীতিতে সুস্থতা ফিরিয়ে আনতে হবে যেখানে রাজনৈতিক নেতারা প্রকৃতঅর্থে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে জনগণের সেবা করবেন।

মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। sylhettoday24.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে sylhettoday24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।

আপনার মন্তব্য

লেখক তালিকা অঞ্জন আচার্য অসীম চক্রবর্তী আজম খান ১০ আজমিনা আফরিন তোড়া আফসানা বেগম আবু এম ইউসুফ আবু সাঈদ আহমেদ আব্দুল করিম কিম ২০ আব্দুল্লাহ আল নোমান আব্দুল্লাহ হারুন জুয়েল আমিনা আইরিন আরশাদ খান আরিফ জেবতিক ১২ আরিফ রহমান ১৪ আরিফুর রহমান আলমগীর নিষাদ আলমগীর শাহরিয়ার ৩৯ আশরাফ মাহমুদ আশিক শাওন ইমতিয়াজ মাহমুদ ৫০ ইয়ামেন এম হক এখলাসুর রহমান ১৯ এনামুল হক এনাম ২৫ এমদাদুল হক তুহিন ১৯ এস এম নাদিম মাহমুদ ১৮ ওমর ফারুক লুক্স কবির য়াহমদ ৩১ কাজল দাস ১০ কাজী মাহবুব হাসান খুরশীদ শাম্মী ১১ গোঁসাই পাহ্‌লভী ১৪ চিররঞ্জন সরকার ৩৫ জফির সেতু জহিরুল হক বাপি ২৮ জহিরুল হক মজুমদার জান্নাতুল মাওয়া জাহিদ নেওয়াজ খান জুয়েল রাজ ৭৩ ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন ড. কাবেরী গায়েন ২২ ড. শাখাওয়াৎ নয়ন ডা. সাঈদ এনাম ডোরা প্রেন্টিস তপু সৌমেন তসলিমা নাসরিন তানবীরা তালুকদার দিব্যেন্দু দ্বীপ দেব দুলাল গুহ দেব প্রসাদ দেবু দেবজ্যোতি দেবু ২৬ নিখিল নীল পাপলু বাঙ্গালী পুলক ঘটক ফকির ইলিয়াস ২৪ ফজলুল বারী ৬০ ফড়িং ক্যামেলিয়া ফরিদ আহমেদ ৩২ ফারজানা কবীর খান স্নিগ্ধা বদরুল আলম বন্যা আহমেদ বিজন সরকার বিপ্লব কর্মকার ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ১৫ ভায়লেট হালদার মারজিয়া প্রভা মাসকাওয়াথ আহসান ১০১ মাসুদ পারভেজ মাহমুদুল হক মুন্সী মিলন ফারাবী মুনীর উদ্দীন শামীম ১০ মুহম্মদ জাফর ইকবাল ১১২ মো. মাহমুদুর রহমান মো. সাখাওয়াত হোসেন মোছাদ্দিক উজ্জ্বল মোনাজ হক রণেশ মৈত্র ১০৭ রতন কুমার সমাদ্দার রহিম আব্দুর রহিম ১৬ রাজেশ পাল ১৯ রুমী আহমেদ রেজা ঘটক ৩২ লীনা পারভীন শওগাত আলী সাগর শাখাওয়াত লিটন শামান সাত্ত্বিক শামীম সাঈদ শারমিন শামস্ ১৪ শাশ্বতী বিপ্লব শিতাংশু গুহ শিবলী নোমান শুভাশিস ব্যানার্জি শুভ ২৪ শেখ মো. নাজমুল হাসান ২১ শেখ হাসিনা শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী সঙ্গীতা ইমাম সঙ্গীতা ইয়াসমিন ১৬ সহুল আহমদ সাইফুর মিশু সাকিল আহমদ অরণ্য সাব্বির খান ২৮

ফেসবুক পেইজ