আজ বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং

ইনবক্স, আদারবক্স, স্ক্রিনশট ও নারী-পুরুষ সম্পর্কের দ্বন্দ্বের ভেতর-বাহির

কাজল দাস  

বাঙলা অন্তর্জালে বরাবরের মতই নারী-পুরুষের গোপন সম্পর্ক ফাঁস হয়ে যাবার ঘটনা অহরহ ঘটছে । আর এটি আমাদের প্রথাগত সমাজে খুবই লোভনীয় বিষয়। আর এক্ষেত্রে আইকনিক কারো সম্পর্কে কিছু উন্মোচিত হলে তো সবাই গ্যালারিতে বসে পরেন। আইন দিয়ে ও এর নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

সবাই খুব উৎসুক ও আগ্রহী এই সব ক্লিক নিয়ে। যে কোন কিছুই দ্রুত ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে এখানে। বিভিন্ন সস্তা  অনলাইন পত্রিকা, ফেসবুক পেইজগুলো এইসব বিষয়কে অনেক বেশি এন্ডোর্স বাড়িয়ে দিচ্ছে। 

এবারো দেখা যাচ্ছে, একজন জনৈক তরুণ আমলা , যিনি ৩০ তম বিসিএস পরীক্ষার মেধাতালিকায় জাতীয়ভাবে প্রথম হয়েছিলেন, বিভিন্ন নারীদের সাথে তাঁর সংলাপ এখন অনলাইনের হটকেইক। কিন্তু শুরুটা আসলে অন্য কিছু দিয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাগিং  ইস্যু নিয়ে তিনি কথা বলেছিলেন, তাঁর সূত্র ধরেই চলে এসেছে বিভিন্ন নারীদের সাথে তাঁর সংলাপের স্ক্রিনশট।

কারো ব্যক্তিগত জীবনের চোরাগলি উঁকি দিয়ে পরখ করা নেহায়েত নিচু মানের অপকর্ম ছাড়া কিছুই হতে পারে না। এমনকি এটি একজন ব্যক্তির নিরাপত্তাজনিত বিষয়ের দিক থেকে মারাত্মক ক্রিমিনাল অফেন্সও বটে। কিন্তু যখন একটি সংলাপের স্ক্রিনশট সামনে চলে আসে, কোন ভিডিও ফাঁস হয়ে যায়, যখন দেখা যায় একজন পুরুষ নানানভাবে ব্যক্তিগত সম্পর্কের চর্চা করছেন, নিজেকে নানান দিক থেকে আড়াল করছেন, আবার অনেক নারীও সেখানে জড়িয়ে যাচ্ছেন। তাঁরা কোন বাচ বিচারে যাচ্ছেন না একান্ত অনুভূতি শেয়ারের ক্ষেত্রে, বা কেউ একজনের কাছে আরেকজনকে ডিপ্রাইভড ভাবছেন, বা কেউ এক্সক্লুসিভ বিষয় নিয়ে প্রতারণা করছেন, তখন এইসব নানান কারণে-আমাদের কাছে তখন ঐ সুনির্দিষ্ট ব্যক্তির চেয়ে বরং সামাজিক যোগাযোগ কিভাবে আমাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ককে প্রভাবিত করছে, এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে।

আমি এখানে কোন ব্যক্তির জীবনের গোপনীয়তা বা সততা অসততা নিয়ে বিচার করতে লিখছি না, আমার কাছে আসল ব্যাপার হল-বাংলা অনলাইন আসার পরে, বিশেষ করে ২০০৬ সাল থেকে ফেসবুকের যাত্রার পরে, এবং তাঁর সাথে ভাইভার, মেসেঞ্জার, ইউটিউব এইসব ডিভাইস আসার পর  কিভাবে আমাদের সমাজে ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্যাটার্নগুলো মোড় নিচ্ছে, তাঁর মৌলিক প্রবণতাগুলো আমাদের জন্য ওয়াকিবহাল থাকা ভাল। এতে করে সম্পর্ক, যৌন সম্পর্ক এবং অন্যান্য সামাজিক সম্পর্ককে আমরা ভাইরাল বা হটকেইক হয়ে যাওয়া থেকে সুরক্ষা দিতে পারবো। এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরকেও  সুরক্ষার জন্য ট্রেস করা যাবে।

এই যে অনলাইনের ইনবক্স , আদারবক্স বা স্ক্রিনশট ফাঁস হচ্ছে। এইগুলো আসলে কেন আমাদের আমাদের মনোযোগ নিচ্ছে? নিচ্ছে তাঁর কারণ- আমাদের সমাজ এখনো সম্পর্কের দিক থেকে রক্ষণশীল। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক এখানে নিষিদ্ধ। প্রকাশ্যে চুমু খাওয়া অপরাধ। বিবাহ বহির্ভূত নারী-পুরুষ সম্পর্ক রীতিমত নিন্দনীয়, ঘৃনাহ্য। যৌনতার দিক থেকে সমাজ খুবই অবদমিত পর্যায়ে। কেবলমাত্র বিয়ে এখানে একমাত্র লিগ্যালাইজড সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশন এর বাইরে রয়েছে সীমিতভাবে অরক্ষিত ও অপেশাদার ব্রতেল হাউজ। কিন্তু সমাজ আটকে নাই কোনভাবেই। তাঁর সাহিত্যে-শিল্পে-কবিতায় গানে এখন মুখরিত অবারিত প্রেম ও যৌনতায়। তাঁর সিনেমাগুলো এখন অনেক নান্দনিক প্রেমের পসরা সাজাচ্ছে একই সাথে উলটোদিকে এই সিনেমাতে স্থূল যৌনতার সুড়সুড়িতে ভর্তি। এখানে বিদেশী অনেক টিভি চ্যানেল উন্মুক্ত। হিন্দি-তামিল আর কোরিয়ান সিনেমায় খুল্লমখুল্লা নাচ গানে বাজার ভরপুর। এখানে  পাইরিরেসি নীল মুভি বিক্রি হচ্ছে দেদারছে। পর্ণো সাইটে ভিড় বাড়ছে। গুগলে সার্চ দিলেই অশ্লীল কন্টেন্ট আগে হাইলাইটেড হচ্ছে।

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনগুলো ছেয়ে আছে নারীদের অপ্রয়োজনীয় দেহ প্রদর্শনীতে। কি প্রয়োজন কি অপ্রয়োজন সবখানেই নারীর শারীরিক উপস্থিতি এখন আমাদের বাঙলা বদ্বীপের বিজ্ঞাপনগুলোর মুখ্য কন্টেন্ট। এই যে এ্যাপিয়ারেন্সি তাঁর থেকে বুঝা যাচ্ছে-আমাদের সমাজ উন্মুখ হয়ে আছে উন্মুক্ত হবার জন্য,তার খোলস থেকে বের হবার জন্য, স্বাভাবিক নারী-পুরুষের সম্পর্কের দিকে যাবার জন্য, যৌনতাকে মোরালিটির হাত থেকে ইরেলিভেন্ট করার জন্য, এইসব বিষয়ের অনিয়ন্ত্রিত প্রকাশই আসলে তারই লক্ষণ মাত্র। কিন্তু এর বিপরীতে আমাদের সমাজের এসেন্সটা কিন্তু খুব দুর্বল।


আমাদের এই সামাজিক সম্পর্ক বুঝার জন্য একটি ভালো মাপকাঠি এখন সোশাল মিডিয়া, সোশাল কমিউনিকেশনের সাথে হিউম্যান রিলেশন।  ইনবক্স, আদারবক্স, স্ক্রিনশট,  ভিডিও  এই গুলো মানবসভ্যতার এক মহা বিস্ময় আমাদের সমাজে আজ।  কোথা থেকে একটা করে ফাঁস হয়, যেন ওয়াটারল্যুর কামানের গোলা ফাটে একেকটা আর উন্মোচিত হয় ব্যক্তির মনোজগতের অজানা অধ্যায়। এই গুলো বর্তমান সময়ে সোশাল মিডিয়ার যুগে বাংলাদেশের নারী-পুরুষের যৌন সম্পর্কের এক্স-রে কপি। এখান থেকে আমাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক খুব ভালো করে অনুধাবন করা যায়।

এই যে উন্মোচিত কন্টেন্ট, যেগুলো প্রকাশিত হওয়া মাত্র হৈহৈ শুরু হয়ে যায় তাঁর কারণ কি-কারণ হল আমাদের অবদমিত কামনার প্রকাশ। এই বিষয়গুলো আমরা নিজেদের জীবনে প্রায় সবাই করে থাকি;কিন্তু প্রকাশ করিনা কিংবা প্রকাশ করার মত সামাজিক অবস্থান বিদ্যমান নেই। সেজন্য এই স্ক্রিনশট বা ইনবকস আদারবক্স থেকে আমাদের সম্পর্ক বুঝা ও ব্যাখ্যার কিছু ইতিবাচক দিক খুঁজে পাওয়া যায়।  এটি আমাদের যৌন সম্পর্কের বিভিন্ন দিক উন্মোচন করে দিচ্ছে। আমাদের পার্ভাশনের নানান দিক দেখিয়ে দিচ্ছে। আমাদের যৌন জীবনের যে জিঘাংসা, অস্থির বিবমিষা, এই বিষয়গুলো সোশাল নেটের জালে আটকে যাচ্ছে। এইগুলো আমাদের চোখের সামনে আঙ্গুল দিয়ে ব্যক্তির মনের গভীরতম ক্ষত, বিক্ষিপ্ত যৌন ভাবনা, অপরিতৃপ্ত কামনার অবদমন থেকে জন্ম নেয়া অচরিতার্থ কামের আস্ফালন সব দেখিয়ে দিচ্ছে। আসলে আমরা যা প্রত্যক্ষ করছি তা আমাদের আন্তঃব্যাক্তিক সম্পর্কগুলোর জন্য এক নতুন বোঝাপড়ার দিকে নিয়ে যাচ্ছে আমাদের। এই বিষয়টাই আমার লেখার মূল ধর্তব্য আসলে।

মোটাদাগে আমাদের রক্ষণশীল সমাজে, ব্যক্তিগত সম্পর্ক খুবই অবিকশিত এবং আন্ত:ব্যক্তি সম্পর্ক যেমন-প্রেম বা ভালবাসা বা বিয়ে পরবর্তী সম্পর্কগুলো খুবই আড়াল করা। আমি বলছি না, এইগুলো এনে ধরে ধরে পাবলিকলি ডিসপ্লে করে দেখাতে হবে, এটা নয় ওটা করতে হবে কিন্তু যা হচ্ছে না তা হল এই সম্পর্ক চর্চার ক্ষেত্রে সঠিক কোন মার্জিত দিক দিয়ে আগানো, এটি প্রকটভাবে অনুপস্থিত আমাদের সমাজে। এখানে ভাবার বিষয় আছে।

ধরে ধরে সবার ইনবক্সকে বিশ্লেষণ করে সম্পর্ক বিচার  কোন সুস্থ কাজ নয়; কিন্তু যেসব ইনবক্স মাঝে মধ্যে প্রকাশিত হয়ে জনসম্মুখে চলে আসে তা থেকে আমাদের সম্পর্কের অনেক অসংগতি সামনে চলে আসে। আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় সমাজের গভীরের ক্ষত। একইভাবে দেখা যায় যে, ইনবক্সে যে আদারবক্স থাকে সেখানেও আটকে পড়ে অনেক কিছু। বিশেষ করে অনেক নারীদের আদারবক্স তাঁরা মাঝেমধ্যে ওপেন করে দেখেন, পুরুষের অশ্রাব্যতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। কেউ নারীকে সেক্সের অফার করছেন, কেউ তোষামোদ করে সুন্দরী বলছেন, কেউ তার স্তনের দিকে ইংগিত করছেন, তাকে জিজ্ঞেস করছেন-রেট কত, এই রকম নানান মন্তব্যে অনেক আতংক সহকারে প্রকাশ করেন প্রতিদিন। এখান থেকে নারীর প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ পাচ্ছে অবলীলায়। কারো সাথে কারও কোন পরিচয় নেই, সম্বোধন নেই কিন্তু খুব সহজেই পুরুষরা নারীকে বিভিন্ন মন্তব্য করে যাচ্ছেন। মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা না থাকা, নারীকে শরীর হিসেবে দেখার পুরুষতান্ত্রিক মজ্জাগত সংস্কৃতি খুব সুন্দরভাবে আটকা পড়ে যাচ্ছে এই অন্তর্জালে। এই জন্য এটা সমাজবিজ্ঞানী বা মনোবিজ্ঞানীদের কাছে আগ্রহের বিষয় বৈকি।

নারী-পুরুষের একান্ত সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমরা যে এই আচরণ করছি সেটা আসলে কেন ঘটছে? তাঁর সামাজিক বা মনস্থাত্বিক জায়গাটা আসলে কোথায়। এটা আমাদের দেখা জরুরি।

একটা বিষয় সোশাল মিডিয়া করে দিচ্ছে আর তা হল পলায়নবাদিতা। আমরা ইনবক্স বা আদারবক্সের গোপন দরজা দিয়ে নানান কিছু করে বেড়াচ্ছি। আমাদের বাইরে এক কিন্তু ভেতরে আরেক। এই ডুয়ালিটির জায়গা অবশ্যই অন্তর্জালের কারণে হচ্ছে। সেজন্য স্বক্ষেত্রে ব্যক্তির মূল্যবোধ সম্পন্ন ক্রিয়াটাই মূল নিয়ামক।  ফেসবুকের একাউন্ট আপনার, এই জগতের অধীশ্বর আপনি, আপনার ইনবক্স দিয়ে আপনি কি করছেন-তা একান্ত বিষয় তবুও এখানে নিজস্ব ইচ্ছার সাথে ঔচিত্য অনুচিতের যোগসাজশ থাকা দরকার।

অন্যদিকে এখানে কিছু বিষয়কে ভাবা যায়। আমাদের সমাজে নারী-পুরুষ সম্পর্কের ক্ষেত্রে গোপনীয়তা (রক্ষণশীলতা অর্থে) রক্ষা করা খুবই আধিপত্য বিস্তার করে আছে। পরিবার, ধর্ম, সমাজ এমনকি কাছের বন্ধু-বান্ধবদের কাছেও প্রেম বা ভালবাসার সম্পর্ক প্রকাশ করার জন্য নির্ভরযোগ্যতা কম। কিন্তু সম্পর্ক সবসময় স্বীকৃতি প্রত্যাশা করে। এই যে, গোপনীয়তার চর্চা এটি ব্যক্তির মনোজগতে ক্রিয়া করে দৃঢ়ভাবে। এখানে ব্যক্তি অনেক দ্বন্দ্বে ভুগে। সেজন্য তাঁর আচরণ অনেক অপ্রত্যাশিত হয়। সে খুব দ্রুত গোপন সম্পর্ককে অস্বীকার করতে পারে। এড়িয়ে চলতে পারে। যা থেকে অনেক নারী বা পুরুষ সহপাঠীর কাছ থেকে প্রতারণার শিকার হন।

অভ্যস্ততা আরেকটি বিবেচ্য বিষয়। আমাদের সমাজে নারী-পুরুষের সাধারণ সুন্দর সম্পর্ক দেখে, বা তাদেরকে একসাথে অন্তরঙ্গ দেখে আমরা অভ্যস্ত নই। সেজন্য দুজন নারী-পুরুষ দেখলেই আমরা তাদেরকে সবার আগে প্রেম বা ভালবাসায় সম্পর্কিত বলে ধরে নেই। আবার ধরেন-নারীদের যে একটু স্বল্প বসনা পোশাক পড়া বা তাঁর ইচ্ছামত কাপড় পরা, এটি আমরা দেখে এতো অনভ্যস্ত যে যদি গ্রামে কোন মেয়ে জিন্স পড়ে তাহলেও আমরা যেমন তাঁর দিকে দল বেঁধে তাকাই বা মন্তব্য করি তেমনি শহরে যদি কোন নারী স্লিভলেস পড়ে হাঁটেন তাঁর দিকেও আমরা ড্যাবড্যাব করে তাকাই। তাকাই কারণ আমরা এইভাবে দেখিনি কোনদিন। এটা আমাদের অবচেতনে নাই যে একজন তাঁর স্বাধীনতা মত কাপড় পরতে পারেন। যে কোন দুজন নারী পুরুষ ঘুরতে পারেন। আড্ডা দিতে পারেন। সিনেমা দেখতে যেতে পারেন। এটি হতেই পারে। আমাদের এই অভ্যস্ততা আসলে গড়ে উঠেনি। সেজন্য নারী-পুরুষ সম্পর্ক কোন এ্যাডাপ্টিবিলি অর্জন করছেনা আমাদের সমাজে। এই অভ্যস্তটা বাড়া দরকার আমাদের।

ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে ব্যক্তিস্বাধীনতা ও আত্ম মূল্যবোধের বিকাশটা ও আমাদের গড়ে তুলতে হবে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ব্যক্তিগত মূল্যবোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে খুব অপ্রতুল। এমনকি এখানে ব্যক্তি স্বাধীনতার গড়ে উঠার জন্য শিক্ষা মাধ্যম নিয়ামক ভূমিকা পালন করছেনা। দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা যেমন নিজের স্ত্রীকে সন্দেহ করেন, হত্যা করেন, ছাত্রী ধর্ষণ করেন, নির্যাতন করেন, একই ব্যাপার ছাত্রদের মাঝে ও কাজ করছে। আমরা সামাজিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের জায়গাকে শ্রদ্ধা দেখাতে পারছিনা। অন্য একজন ব্যক্তির সম্পর্ককে স্পেইস দিচ্ছি না। রক্ষনশীল্ভাবে দেখছি। যে কারো সম্পর্ক তা যতদিন পর্যন্ত কার ক্ষতি বা সমাজের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছেন তাঁকে সম্মান জানাতে শিখছি না। কেউ প্রেম  করছে, এটিকে তাঁর একান্ত নিজস্ব ব্যাপার হিসেবে দেখতে হবে। এটি না থাকলে ব্যক্তি নানান পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়ায় পড়ে। আবার ব্যাক্তস্বত্তার দুর্বল বিকাশ থাকলে একই ব্যক্তি নানান জনের সাথে প্রতারণা করে বেড়ায়। সে সম্পর্ককে সম্মান জানাতে পারে না। এই জায়গা থেকে একজন একাধিক জনের প্রতারণা করে, মিথ্যাচার করে। সম্পর্কের ক্ষেত্রে মানুষের বাঁক বদল হতেই পারে;কিন্তু এটাকে প্রকাশ করার জন্য বা কারো সাথে আর একসাথে থাকা যাচ্ছে না বা অনেক দিনের সম্পর্ককে  আর টেনে নেওয়া যাচ্ছে না বা ধরেন শারীরিক বা প্রেম ভালবাসা চলে গেলেও পূর্বের ব্যক্তিটির সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা এগুলোর চর্চা আমাদের সমাজে হচ্ছেনা। সেজন্য জন্ম নিচ্ছে, সন্দেহ, মিথ্যাচার, পার্ভারশন, এমনকি ধর্ষণের মত ঘটনাও। এটা সার্বিক অর্থেই আমাদের সম্পর্ক চর্চার ক্ষেত্রে অবিকশিত মূল্যবোধের প্রকাশ।

তবেঁ এটা ঠিক আমরা অনেকখানিই আগাতে পারছি, কেউ কেউ আমরা ভাবছি, চিন্তা করছি, লিখছি। সবচেয়ে বড় কথা হল-সামাজিক পরিসরে এইসব আলাপ চলছে। আলোচনা হচ্ছে বিতর্ক হচ্ছে। নারী-পুরুষ সম্পর্কের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাচ্ছে। যদি সামাজিক সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি করা যায়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উদারনৈতিকতা বাড়ানো যায়, ব্যক্তিগত সম্পর্ককে মূল্যায়ন করতে শিখি, প্রেম বা ভালবাসাকে স্বীকৃতি দিতি পারি, যৌন সম্পর্ককে ট্যাবুর বাইরে থেকে দেখতে পারি, তাহলে এইভাবে আগানোর মধ্যে দিয়ে একটা প্রত্যাশিত নারী-পুরুষ সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে।


কাজল দাস, অনলাইন এক্টিভিস্ট

মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। sylhettoday24.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে sylhettoday24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।

আপনার মন্তব্য

লেখক তালিকা অঞ্জন আচার্য অসীম চক্রবর্তী আজম খান ১০ আজমিনা আফরিন তোড়া আফসানা বেগম আবু এম ইউসুফ আবু সাঈদ আহমেদ আব্দুল করিম কিম ২০ আব্দুল্লাহ আল নোমান আব্দুল্লাহ হারুন জুয়েল আমিনা আইরিন আরশাদ খান আরিফ জেবতিক ১২ আরিফ রহমান ১৪ আরিফুর রহমান আলমগীর নিষাদ আলমগীর শাহরিয়ার ৩৯ আশরাফ মাহমুদ আশিক শাওন ইমতিয়াজ মাহমুদ ৫০ ইয়ামেন এম হক এখলাসুর রহমান ১৯ এনামুল হক এনাম ২৫ এমদাদুল হক তুহিন ১৯ এস এম নাদিম মাহমুদ ১৮ ওমর ফারুক লুক্স কবির য়াহমদ ৩১ কাজল দাস ১০ কাজী মাহবুব হাসান খুরশীদ শাম্মী ১২ গোঁসাই পাহ্‌লভী ১৪ চিররঞ্জন সরকার ৩৫ জফির সেতু জহিরুল হক বাপি ২৮ জহিরুল হক মজুমদার জান্নাতুল মাওয়া জাহিদ নেওয়াজ খান জুয়েল রাজ ৭৪ ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন ড. কাবেরী গায়েন ২২ ড. শাখাওয়াৎ নয়ন ডা. সাঈদ এনাম ডোরা প্রেন্টিস তপু সৌমেন তসলিমা নাসরিন তানবীরা তালুকদার দিব্যেন্দু দ্বীপ দেব দুলাল গুহ দেব প্রসাদ দেবু দেবজ্যোতি দেবু ২৬ নিখিল নীল পাপলু বাঙ্গালী পুলক ঘটক ফকির ইলিয়াস ২৪ ফজলুল বারী ৬০ ফড়িং ক্যামেলিয়া ফরিদ আহমেদ ৩২ ফারজানা কবীর খান স্নিগ্ধা বদরুল আলম বন্যা আহমেদ বিজন সরকার বিপ্লব কর্মকার ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ১৫ ভায়লেট হালদার মারজিয়া প্রভা মাসকাওয়াথ আহসান ১০২ মাসুদ পারভেজ মাহমুদুল হক মুন্সী মিলন ফারাবী মুনীর উদ্দীন শামীম ১০ মুহম্মদ জাফর ইকবাল ১১২ মো. মাহমুদুর রহমান মো. সাখাওয়াত হোসেন মোছাদ্দিক উজ্জ্বল মোনাজ হক রণেশ মৈত্র ১০৮ রতন কুমার সমাদ্দার রহিম আব্দুর রহিম ১৬ রাজেশ পাল ১৯ রুমী আহমেদ রেজা ঘটক ৩২ লীনা পারভীন শওগাত আলী সাগর শাখাওয়াত লিটন শামান সাত্ত্বিক শামীম সাঈদ শারমিন শামস্ ১৪ শাশ্বতী বিপ্লব শিতাংশু গুহ শিবলী নোমান শুভাশিস ব্যানার্জি শুভ ২৪ শেখ মো. নাজমুল হাসান ২১ শেখ হাসিনা শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী সঙ্গীতা ইমাম সঙ্গীতা ইয়াসমিন ১৬ সহুল আহমদ সাইফুর মিশু সাকিল আহমদ অরণ্য সাব্বির খান ২৮

ফেসবুক পেইজ