০১ মার্চ, ২০১৫ ১২:৫১
ফুলে ফুলে শেষ শ্রদ্ধা জানালো হলো। বুয়েট আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলায় রাখা অভিজিৎ রায়ের মরদেহ ঢাকা পড়ে ফুলেল শ্রদ্ধায়। শোকাহত জনতার কণ্ঠে প্রতিধ্বনীত হয়েছে বিচারের দাবী আর ‘কলম চলবে’-এ প্রত্যয়।
বিজ্ঞান লেখক ও মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ রায়কে শেষ প্রদ্ধা জানাল হাজার লোক। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলায় রোববার বিজ্ঞানমনস্ক লেখক ও ব্লগারকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, মুক্ত ও প্রগতিশীল চিন্তার মানুষ, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন ফুল দিয়ে তাঁকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গ থেকে লাশবাহী একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে অভিজিৎ রায়ের মরদেহ প্রথমে তাঁর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বুয়েটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সকাল ১০টা ২০ মিনিটে তাঁর মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার সামনে নিয়ে যাওয়া হয়।
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের তত্ত্বাবধানে শ্রদ্ধা নিবেদনের কার্যক্রম শুরু হয়। ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হারুনুর রশিদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মীজানুর রহমানর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক।
মুক্ত ও প্রগতিশীল চিন্তার বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক সংগঠন ও মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। অভিজিৎ রায়ের বাবা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অজয় রায়সহ তাঁর পরিবারের সদস্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, সৈয়দ হাসান ইমাম, নাসির উদ্দীন ইউসুফ, গোলাম কুদ্দুস, শাহরিয়ার কবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আমজাদ আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অভিজিৎ রায়ের মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে মিলন চত্বরের উল্টো দিকের ফুটপাতে রাখা হয়, যেখানে বর্বর ও নৃশংস হামলায় অকাল মৃত্যু হয় সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী এই লেখকের। সর্ব সাধারণের শ্রদ্ধা জানানো শেষে রোববার বেলা ১২টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে তার আনা হয় ওই হামলাস্থলে, যেখানে দুদিন আগে বইমেলা থেকে ফেরার পথে তাকে হত্যা করা হয়। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসংলগ্ন ওই রাস্তায় মরদেহ রাখার সময় অভিজিতের হামলাকারীদে শিগগির গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন উপস্থিত বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। সেখানে প্রায় ৩০ মিনিট রাখার পর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় বাবা অধ্যাপক অজয় রায়ের সিদ্ধেশ্বরীর বাসায় এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়েছে। পরে তাঁর মরদেহ গবেষণার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বইমেলা থেকে ফেরার পথে অভিজিৎ রায় ও তাঁর স্ত্রী বন্যা জঙ্গিগোষ্ঠীর আক্রমণের শিকার হন। তাঁর মাথা ও পিঠে চাপাতি দিয়ে কুপিয়েছে সন্ত্রাসীরা। হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত ডাক্তারেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থলেই অভিজিৎ রায়ের মাথার মগজ পড়ে থাকতে দেখা যায়, স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে বন্যা হারান তাঁর হাতের আঙুল। মারাত্মক আহত বন্যাকে ঢামেক থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্যে স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে লেখালেখির কারণে তিনি জীবননাশের হুমকি পেয়ে আসছিলেন।
আপনার মন্তব্য