২৬ জুন, ২০২৬ ০৫:৩৯
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির স্টেডিয়ামে ৫৫ হাজার দর্শককে সাক্ষী রেখে এক অবিশ্বাস্য রূপকথা লিখল ইকুয়েডর। ম্যাচের শুরুতে পিছিয়ে পড়েও চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশ (নকআউট পর্ব) নিশ্চিত করেছে লাতিনের দলটি। ঐতিহাসিক এই জয়ের পর সেরা তৃতীয় স্থানধারী দলগুলোর একটি হিসেবে পরের রাউন্ডে যাওয়ার পথে ভালোভাবে টিকে রইল তারা। তবে ম্যাচ হারলেও গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই নকআউটে যাচ্ছে জার্মানি।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ছিল পুরোপুরি জার্মানদের। মাত্র দুই মিনিটের মাথায় ফ্লোরিয়ান উইর্টজের নিখুঁত পাস থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিচের কোণে নিখুঁত শটে বল জড়িয়ে দেন লেরয় সানে। ২ মিনিটের মধ্যেই ১-০ গোলে এগিয়ে যায় জার্মানি।
তবে এই গোলটি নিয়ে ইকুয়েডরের খেলোয়াড়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা যায়। তাদের দাবি ছিল—আক্রমণ শুরুর মুহূর্তে জার্মানির আলেকজান্ডার পাভলোভিচ পা তুলে পেদ্রো ভিতেকে ফাউল করেছিলেন। রেফারি অবশ্য সেই দাবি নাকচ করে গোলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন।
পিছিয়ে পড়ে দমে যায়নি ইকুয়েডর। গোল খাওয়ার ঠিক সাত মিনিট পর, অর্থাৎ ম্যাচের ৯ম মিনিটে পেদ্রো ভিটের অ্যাসিস্ট থেকে বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের চোখধাঁধানো শটে বল ডানদিকের নিচের কোণায় পাঠান নিলসন অ্যাঙ্গুলো। ১০ মিনিটের আগেই ম্যাচে ফেরে ১-১ সমতা। এরপর প্রথমার্ধে আর কোনো গোল না হওয়ায় সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কাই হাভার্টজ ডি-বক্সে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পেয়েছিল জার্মানি। তবে ভিএআর রিভিউতে দেখা যায় আক্রমণের শুরুতে সানে ফাউল করেছিলেন, ফলে পেনাল্টটির সিদ্ধান্ত বাতিল করেন রেফারি।
ম্যাচের বয়স যখন ৭৭ মিনিট, তখন ডানপ্রান্ত থেকে আসা এক কর্নার থেকে কেভীন রদ্রিগেজ হেডে বল ফ্লিক করে নামিয়ে দেন। আর সেখানে ওত পেতে থাকা গনসালো প্লাতা দুর্দান্ত এক ভলিতে ম্যানুয়েল নয়্যারকে পরাস্ত করে বল জালের ছাদে জড়িয়ে দেন। ৭৮ মিনিটে ২-১ গোলে এগিয়ে যায় ইকুয়েডর। গোলের পর গ্যালারিতে থাকা কোচ, বদলি খেলোয়াড় ও স্টাফদের উল্লাসে পুরো স্টেডিয়াম মেতে ওঠে। শেষ মুহূর্তে দলের রক্ষণভাগ জমাট করতে তোরেস ও কাইসেদোকে মাঠে নামান ইকুয়েডর কোচ। শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধান ধরে রেখে ঐতিহাসিক জয় তুলে নেয় তারা।
আপনার মন্তব্য