১৫ মে, ২০২৫ ২১:৪০
সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতির এক বোর্ড নিয়ে 'স্ত্রীর পদোন্নতির বোর্ডের সভাপতি হলেন সহ-উপাচার্য স্বামী' শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদটি বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন জানিয়ে প্রতিবাদলিপি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বুধবার (১৪ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সৈয়দ ছলিম মোহাম্মদ আব্দুল কাদির সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।
প্রতিবাদ লিপিতে উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে বিভিন্ন পদে শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি এবং সদস্যগণ নির্ধারিত থাকেন। এসব ক্ষেত্রে কারা নিয়োগ বোর্ডে থাকবেন তা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারিত করে দেওয়া হয়েছে। কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর এখতিয়ার নেই যে, তা নিজ ইচ্ছেমত নির্ধারণ করা।
এতে আরও বলা হয়, প্রকাশিত সংবাদে যাদের বরাত দিয়ে মন্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে, তাদের নিয়োগ বোর্ড গঠনের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ধারণা বা মন্তব্য করার অধিকার নেই। প্রকাশিত সংবাদে বাছাই বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হবার পূর্বেই এ ধরনের হীন প্রচেষ্টা থেকে বিরত থাকার জন্যে নির্দেশক্রমে সংশ্লিষ্ট সকলকে বলা যাচ্ছে।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ঘেঁটে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সংবিধি-১৯৮৭-এর ১৪নং অনুচ্ছেদে কর্মকর্তা নিয়োগ বোর্ড গঠন নিয়ে ধারা ২ (১) (ক)-তে উল্লেখ আছে যে, ‘উপাচার্য কর্মকর্তা নিয়োগ বা পদোন্নতি বোর্ডের চেয়ারম্যান হবেন। তবে শর্ত থাকে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের যদি কোনো উপ-উপাচার্য থাকেন, তাহলে তিনিই হবেন এ বোর্ডের চেয়ারম্যান।
চেয়ারম্যানের পাশাপাশি কোষাধ্যক্ষ, একাডেমিক কাউন্সিল কর্তৃক মনোনীত একজন ডীন, সিন্ডিকেট কর্তৃক মনোনীত একজন বিশেষজ্ঞসহ দুইজন ব্যক্তি, চ্যান্সেলর কর্তৃক মনোনীত একজন ব্যক্তি উক্ত বোর্ডের সদস্য হবেন।
এক্ষেত্রে প্রার্থীর রক্তের সম্পর্কিত কিংবা নিকট আত্মীয় বা বোর্ডের কোন সদস্যের আত্মীয়, ছেলে, মেয়ে, স্ত্রী কেউ প্রার্থী থাকলে সে বোর্ডের চেয়ারম্যান অথবা সদস্য হিসেবে উক্ত ব্যক্তিরা থাকতে পারবেন না এমন কোন শর্ত বিশ্ববিদ্যালয় আইনে উল্লেখ নেই। তাই উক্ত বোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের শর্ত মেনেই গঠিত বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে এই নিয়োগ বোর্ড নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাঁদা ছুড়াছুঁড়ি করছেন এমন অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে প্রকাশিত সংবাদে এক শিক্ষকের মন্তব্য নিয়ে একাধিক সিনিয়র শিক্ষক বলেন, কোন নিয়োগ বোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন মেনে গঠিত হলে সেক্ষেত্রে কোন যদি, কিন্তু থাকার কথা না। তবে বিশ্ববিদ্যালয় আইন পরিপন্থী হলে সেটা ভিন্ন বিষয়।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হওয়ার পূর্বে বোর্ড সম্পর্কিত অযাচিত, বিভ্রান্তিকর ও বিরূপ মন্তব্য করা শিক্ষক-কর্মকর্তা বা যে-কারও নৈতিকতা বিরোধী কর্মকাণ্ড বলে মনে করছেন শিক্ষকরা। এমন মন্তব্য বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করায় পায়তারা বলেও মনে করছেন একাধিক শিক্ষক। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো, অপপ্রচার, অযাচিত মন্তব্যকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
আপনার মন্তব্য