নাদির আহমেদ, শাবিপ্রবি

২১ আগস্ট, ২০২৫ ১১:০৮

অচল শাকসু: শিক্ষার্থীদের ভাবনা ও প্রত্যাশা

শিক্ষাঙ্গনে নেতৃত্ব গড়ে তোলা, গণতন্ত্র চর্চা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার অন্যতম মাধ্যম হলো নির্বাচিত ছাত্র সংসদ। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) প্রতিষ্ঠার পর কয়েকবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও গত ২৭ বছর ধরে এটি সম্পূর্ণ অচল অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি ও সমস্যাগুলো তুলে ধরার মতো কোনো কার্যকর প্ল্যাটফর্ম আর নেই।কার্যক্রম না থাকায় শিক্ষার্থীদের মতামত ও অংশগ্রহণের সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন অনেকে। শাকসুকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের রয়েছে নানা প্রত্যাশা ও ভাবনা।

মমিনুর রশিদ শুভ, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ
শাকসুর মাধ্যমে আমরা চাই একটি শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে উঠুক, যেখানে সকল শিক্ষার্থী সমানভাবে অংশগ্রহণ করবে এবং নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।

আমরা আশাবাদী, আসন্ন ছাত্র সংসদে নারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করবে। তারা তাদের হল সমস্যা, একাডেমিক সমস্যা এবং ক্যাম্পাসভিত্তিক নানা বিষয় সাহসিকতার সাথে তুলে ধরবে এবং অধিকার আদায়ে আরও সচেতন হয়ে উঠবে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি শাকসু নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক, যা গণতান্ত্রিক চেতনা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সাদিয়া আঞ্জুম শৌমি, এফইটি বিভাগ
শাকসু সবসময়ই শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার জায়গা। ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক লেজুড়বিহীন নেতৃত্ব এখন সময়ের দাবি। যেকোনো পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি দৃঢ় ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব অপরিহার্য। আমরা আশা করি, শাকসু সেই নেতৃত্ব ফিরিয়ে আনবে এবং নতুন নেতৃত্ব সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায় প্রতিষ্ঠায় সোচ্চার হবে। সঠিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং শিক্ষার্থীদের রাজনীতি সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা অত্যন্ত জরুরি। শাবিপ্রবির প্রতিটি শিক্ষার্থীর অভিন্ন দাবি, প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে যেন নিরপেক্ষভাবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

সাদিয়া তানজিম আলভী, সমাজকর্ম বিভাগ
শাকসু গঠন হোক সৎ নিরপেক্ষ ছাত্রদের নিয়ে। যারা শিক্ষার্থীদের কথা ভাববে, সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলবে। কোনোপ্রকার তোষামোদকারীর জায়গা যেন শাকসুতে না হয়। ক্যাম্পাস আবার প্রাণচঞ্চল হোক,কালচার ফিরে আসুক শাকসুর হাত ধরে।

হেদায়েত আলী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ
আমাদের জুলাই আন্দোলনের ৯দফায় ৭ম ও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি ছিল “দলীয় লেজুড়ভিত্তিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ এবং ছাত্র সংসদ চালু করতে হবে”। কিন্তু আন্দোলন পরবর্তী রাজনৈতিক সংগঠন গুলোর অনিচ্ছায় তা সম্ভব হচ্ছে না। তবে শাকসু চালু হলে ক্যাম্পাসে দলীয় রাজনীতির একক আধিপত্য এবং হলের সিট দখল কেন্দ্রীক রাজনীতির অপসংস্কৃতি থেকে শিক্ষার্থীরা মুক্তি পাবে। সেই সাথে ক্যাম্পাসে নিয়মতান্ত্রিক ছাত্র রাজনীতি বিরাজ করবে এবং শিক্ষার্থীরা শাকসুর মাধ্যমে নিজেদের দাবি-দাওয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে সহজে আদায় করতে পারবে। শিক্ষার্থীদের কাছে দলীয় রাজনীতির পরিবর্তে শাকসু হয়ে ওঠতে পারে গণতন্ত্র চর্চা এবং নেতৃত্ব তৈরির প্রধান মাধ্যম। এজন্য সুষ্ঠু নেতৃত্ব ধারা বজায় রাখার জন্য নিয়মিত শাকসু নির্বাচন চাই।

আশিকুর রহমান আশিক, বাংলা বিভাগ
শাকসু নির্বাচন দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকায় আমাদের মতো সাধারণ শিক্ষার্থীরা সবসময় নেতৃত্বশূন্যতার শূন্যতা অনুভব করি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা সমস্যা—আবাসন সংকট, পরিবহন সংকট, ক্যাম্পাসে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা—এসব বিষয়ে সরাসরি শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে কথা বলার জন্য কোনো গণতান্ত্রিক মঞ্চ নেই।একজন সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে আমার প্রত্যাশা, নির্বাচন এমনভাবে হবে যাতে প্রত্যেক শিক্ষার্থী নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, ভয়ভীতি ছাড়া অংশ নিতে পারে এবং নির্বাচনের পর শাকসু সত্যিকার অর্থে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হয়ে কাজ করে।

সজিব আহমেদ, পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগ
শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি হলো শাকসু নির্বাচন। এটি শিক্ষার্থীদের অধিকার ও সমস্যা নিয়ে সরাসরি কথা বলার একটি বৈধ প্ল্যাটফর্ম। আমাদের প্রত্যাশা হলো যোগ্য, শিক্ষার্থীবান্ধব ও সৃজনশীল নেতৃত্ব গড়ে তুলতে পারবে এমন প্রার্থী যেন শাকসুর নেতৃত্বে আসেন। আবাসন সংকট, পরিবহন, ক্যাম্পাস নিরাপত্তা, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও গবেষণা সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়ে শাকসু কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করি। শাকসু নির্বাচন শুধু বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই গণতান্ত্রিক চর্চা ফিরিয়ে আনবে না, বরং দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তুলতেও অবদান রাখবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত