১০ জানুয়ারি, ২০২৬ ১১:৪১
ছবি: সংগৃহীত
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-শাকসু নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দুই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুখোমুখি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল ‘সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য’ থেকে জিএস পদে প্রার্থী হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মারুফ বিল্লাহ।
একই পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন শাখা ছাত্রদলের আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জুনায়েদ হাসান।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের মধ্যে ‘অঘোষিতভাবে’ সভাপতি রাহাত জামান ও সাধারণ সম্পাদক নাঈম সরকার মিলে একটি পক্ষ এবং সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. সোহাগ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মারুফ বিল্লাহ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফফান মিলে অন্য একটি পক্ষ বিদ্যমান।
আলাদা পক্ষ হিসেবে কাজ করার কারণে ২০২৫ সালের বছরের অগাস্টে সোহাগকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের এক বিজ্ঞপ্তিতে সাময়িক অব্যাহতিও দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে শাকসু নির্বাচনের অনেক আগে থেকেই এই পক্ষটি স্টুডেন্ট রাইটস ফোরাম, ইমার্জেন্সি মেডিসেন সাস্ট, বিজয়-২৪ প্ল্যাটফর্মের অধীনে মেডিকেল ক্যাম্প, কুইজ প্রতিযোগিতা ও শিক্ষাবৃত্তিসহ নানা কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ভাষ্য, এসব কর্মসূচির বিবেচনায় নিয়ে মারুফ বিল্লাহকে জিএস ও আফফানকে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে প্রার্থী ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।
এদিকে ছাত্রদলের বিদ্রোহী প্রার্থী জুনায়েদ হাসান প্রথমে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাহাত জামানের সঙ্গে রাজনৈতিক পথচলা শুরু করলেও, পরে তিনি নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করে নেন।
শাকসু নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় তাকে দলীয় প্যানেল থেকে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক সম্পাদক পদে মনোনয়ন দেওয়ার কথা থাকলেও, শেষ পর্যন্ত তিনি সেই পদে মনোনয়ন জমা দেননি। ফলে ছাত্রদল ওই পদ ছাড়াই প্যানেল ঘোষণা করতে বাধ্য হয়।
দলীয় প্যানেলে নির্বাচন না করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জিএস পদে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে জুনায়েদ হাসান বলেন, “ছাত্র সংসদ কোনো দলীয় ফ্রেমওয়ারর্কে আবদ্ধ না। এটা স্বতন্ত্র একটা প্লাটফর্ম।
“এ স্বতন্ত্র প্লাটফর্মে দলমতের ঊর্ধ্বে শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করার লক্ষ্যে যে কেউ এখানে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাঈম সরকার বলেন, “আমরা দলীয় সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে একটা ইনকুলেসিভ প্যানেল দিয়েছি। এখন কেউ দলীয় এ প্যানেলের বাইরে নির্বাচন করলে দল অবশ্যই তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে।
“আমরা তার (জুনায়েদ) গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছি। আমরা প্রত্যাশা রাখি, সে খুব শীগ্রই আমাদের প্যালেনকে সমর্থন দিয়ে তার অবস্থান থেকে সরে আসবে।”
নাঈম সরকারের বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ছাত্রদলের স্বতন্ত্র প্রার্থী জুনায়েদ হাসান বলেন, “দল যে সিদ্ধান্ত নেক, এটা দলের ডিসিশন। নির্বাচনের ক্ষেত্রে দলীয় কোনো নির্দেশনা আমি অন্তত মনে করি না যে পালন করা অত্যাবশ্যক।
“এ পথটা শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করার যথোপযুক্ত জায়গা। ওই দিক বিবেচনা করে আমার দাঁড়ানো দলের বাইরে গিয়ে।”
তিনি আরও বলেন, “দল থেকে তো রিকোয়েস্ট করছিলো যেন আমি প্রার্থীতা প্রত্যাহার করি। এই বিষয়টা তো আমি করি নাই। আমার স্ট্রেন্থ পয়েন্ট হল পূর্বে আমি শিক্ষার্থীদের যে কোনো সমস্যায় পাশে ছিলাম।
“আমি গেলে তারা ভালো সাপোর্ট পাবে। তাদের পাশে আমি সৎভাবে থাকতে পারব।”
এ সব বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের জিএস প্রার্থী মারুফ বিল্লাহ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
আপনার মন্তব্য