১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৪:৪৪
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-শাকসু নির্বাচন নিয়ে জটিলতা ও অনিশ্চয়তা কিছুতেই কাটছে না। কয়েক দফা তফসিল পরিবর্তনের পর মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) এ নির্বাচন হওয়ার কথা।
তবে ভোটগ্রহণের একদিন আগে বিএনপিপন্থি আটজন শিক্ষক নির্বাচন কমিশন থেকে পদত্যাগ করেছেন।
এদিকে, নির্বাচন স্থগিত চেয়ে স্বতন্ত্র এক ভিপি প্রার্থীর হাইকোর্টে করা রিটের শুনানি আজ হওয়ার কথা। অপরদিকে, শাকসু নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠানের দাবি ও নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করছেন শিবির সমর্থিত প্যানেলসহ বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থী ও শিক্ষার্থীরা।
বিএনপিপন্থী আট শিক্ষকের পদত্যাগ : শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-শাকসু নির্বাচনের একদিন আগে বিএনপিপন্থি আটজন শিক্ষক নির্বাচন কমিশন থেকে পদত্যাগ করেছেন।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) শাবিপ্রবির সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের শিক্ষক মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ বিষয়টি জানান জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. আশরাফ উদ্দিন।
এসময় অন্য শিক্ষকদেরও দায়িত্ব পালন না করার আহ্বান করেন তিনি।
জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. আশরাফ উদ্দীন সংবাদ সম্মেলনে বলেন,আমরা প্রশাসনের আচরণে বিব্রত বোধ করছি। ভাইসচ্যান্সেলরকেও জানিয়েছি এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন করবেন কি-না।
তিনি বলেন, নির্বাচন পরিচালনায় হয়তো দুইশ শিক্ষক লাগবে। এখান থেকে আমাদের মতের সঙ্গে একাত্মতা যারা পোষণ করে, তারা সরে আসবে।”
এই শিক্ষক আরও বলেন, ‘আমরা এখানে জাতীয়তাবাদী শিক্ষকেরা এখানে আছি। শাবিপ্রবির নির্বাচন যেন সুষ্ঠু ও সবার অংশগ্রহণে হয়, সে জন্য চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছি ৫ আগস্টের পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা হল দখল করা হলো। হলে ওঠার জন্য একটা নীতিমালা তৈরি করে আবার তারাই সেই নীতিমালা বাতিল করে দিয়েছে। ইউটিএলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হলো, নির্বাচন বন্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘এখন নির্বাচন বন্ধে শিক্ষকদের একটা অংশই ষড়যন্ত্র করছে আমাদের এই ট্যাগিং দেওয়া হয়েছে। আমরা যদি নির্বাচন পরিচালনা করি, তাহলে জাতীয়তাবাদী শিক্ষকদের দোষ দেওয়া হবে।’
অধ্যাপক ড. আশরাফ উদ্দীন বলেন, ‘ইলেকশন কমিশন গঠন হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তন হয়েছে। ভিসি মহোদয় এককভাবে তারিখ ঘোষণা দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন গঠন হয়েছে। ভিসি মহোদয় ১৫ জনের নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন। বিএনপিপন্থি শিক্ষকেরা নির্বাচনের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বক্তব্য বা বিবৃতি দেই নাই। গত ৫ তারিখ শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটা চিঠি আসে। নির্বাচন স্থগিত করতে অনুরোধ করা হয়। এই চিঠির বিষয়ে আমরা শিক্ষকেরা জানি না। আমরা আশা করছিলাম ভিসি মহোদয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আতিকুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম, অধ্যাপক ড.ইফতেখার আহমেদ, অধ্যাপক ড. সালমা আক্তার প্রমুখ।
এ ব্যাপারে শাকসু নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “আটজন শিক্ষক পদত্যাগ করেছে শুনেছি। এখনো কোনো অফিসিয়াল ডকুমেন্টস পায়নি। তবে আমাদের নির্বাচনের স্বাভাবিক কার্যক্রম চলমান আছে।”
হাইকোর্টে রিট, ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ: শাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দুদিন আগে রোববার শাকসু নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভ।
রিট আবেদনে জানানো হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সব ধরনের নির্বাচন বন্ধ রাখার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের একটি নির্দেশনা রয়েছে। এ অবস্থায় শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন আয়োজন আইনসংগত নয় বলে রিটে উল্লেখ করা হয়।
এই রিটের শুনানি সোমবার হওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে, সঠিক সময়ে নির্বাচনের সোমবার সকাল থেকে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন শিবির সমর্থিত পানেলের প্রার্থীসহ শিক্ষাথীরা। বিভিন্ন হল ও একাডেমিক ভবনের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা। তারা দ্রুত নির্বাচন আয়োজন এবং আইনি জটিলতা নিরসনের দাবি জানান।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন পর শাকসু নির্বাচন আয়োজন করা হলেও শেষ মুহূর্তে তা বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ছাত্রশিবির সমর্থিত দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য প্যানেলের জিএস পদপ্রার্থী মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, হাসিনার আমলে পেশি শক্তির বলে দীর্ঘ কয়েক দশক ছাত্র সংসদ নির্বাচন হতে দেওয়া হয়নি। এখনো একটা গোষ্ঠী নিজেরা দেউলিয়া হয়ে নানান অজুহাতে শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার হরন করতে চাচ্ছে। আমরা এটি কোনভাবেই মেনে নেব না। শিক্ষার্থীদের পক্ষে রায় না আসা পর্যন্ত বাসায় ফিরবো না। আশাকরি আজকে হাইকোর্ট শিক্ষার্থীদের পক্ষেই রায় দিবে।'
এদিকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজনের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অন্যদিকে শাকসু নির্বাচনের প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারসহ তিন দফা দাবিতে রোববার থেকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবন ঘেরাও করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সোমবারও অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছে তারা।
তাদের দাবি, বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ প্রভাবে শাবিপ্রবি ছাত্র সংসদ নির্বাচন বিষয়ে নির্বাচন কমিশন একটি ‘নজিরবিহীন ও বিতর্কিত’ প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। সংগঠনটির মতে, এই প্রজ্ঞাপন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য একটি অশনিসংকেত।
এদিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ইসির প্রজ্ঞাপনের প্রতিবাদ জানালেও ২০ জানুয়ারি শাকসু নির্বাচন দাবি করেছেন ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মোস্তাকিম বিল্লাহ।
ফেসবুক পোস্টে মোস্তাকিম বিল্লাহ লেখেন, ‘আপনারা জানেন আজকে ইসি ভবনের সামনে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল থেকে ইসি ভবন ঘেরাও কর্মসূচি দেয়া হয়েছে। আমরা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, আমাদের সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য প্যানেল কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সব সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য নয়। আমাদের এ প্যানেল ছাত্রদলের কোনো একক প্যানেল নয়, এখানে অর্ধেকের মতো স্বতন্ত্র প্রার্থীও আছে। আমি এ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী হিসেবে স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, আমরা সবাই শাকসুর পক্ষে এবং শাকসু চাই। কেউ যদি শাকসুর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় বা নিতে চায়, আমরা তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে বাধ্য হব। আমরা ২০ তারিখে শাকসু আদায় করে ছাড়ব।’
প্রসঙ্গত, শাকসু নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রকাশিত চুড়ান্ত প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সংসদে ৯৭ জন প্রার্থী বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সহসভাপতি (ভিপি) পদে ৪ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ৭ জন ও সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সংসদে মোট ২৩টি পদ রয়েছে। অপর দিকে হল সংসদে পদ রয়েছে ৯টি।
আপনার মন্তব্য