নিজস্ব প্রতিবেদক

০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:০৫

সিলেটে কিশোরীকে নির্যাতন: গ্রেপ্তার ৩ জন নারী নির্যাতন মামলায় কারাগারে

সিলেট নগরের উপশহরে এক কিশোরীকে কোমরে শিকল বেঁধে সড়কে ঘোরানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ৩ জনকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মামলা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

আটকৃতরা হলেন- মহানগরীর শাহজালাল উপশহর এলাকার সি ব্লকের মো. জাকির হোসেন (৪৩) ও তার ভাই মো. মোজাক্কির হোসেন (৪০) এবং একই এলাকার মো. বুরহান উদ্দিন (৪৫)।

শাহপরাণ (রহ.) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আহমদ জানান, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে তিনজনকে শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম জানান, এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়েছে। মামলার পর তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ওই কিশোরীর কোমরে শিকল বেঁধে রাস্তায় হাঁটানো নিয়ে মঙ্গলবার রাতে সংবাদ প্রকাশ করে সিলেটটুডে। এরপর ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। পরে এ ঘটনায় নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। মঙ্গলবার রাতেই অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় ৩ জনকে আটক করে পুলিশ।

সিলেটটুডের প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, সিলেট নগরের শাহজালাল উপশহর এলাকা থেকে গত রাতে এক কিশোরীকে (১৬) আটক করে স্থানীয় কিছু লোক। ওই কিশোরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি স্থানীয় একটি দোকানের ক্যাশ বাক্স চুরির চেষ্টা করছিলেন। পরে তাকে শাহপরাণ (রহ.) থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন স্থানীয়রা। যদিও থানায় ওই কিশোরীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেননি আটককারীরা।

মঙ্গলবার এ ঘটনার একটি ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তাতে দেখা যায় ওই কিশোরীকে কোমড়ে শিকল বেঁধে টেনে নিয়ে চলছেন এক যুবক। এসময় ওই কিশোরীটি অঝোরে কেঁদে চলছেন। তাকে বেশ কিছুটা পথ শিকল বেঁধে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে উপশহর ডি-ব্লক মসজিদ মার্কেট এলাকার সড়কে শেকল বেঁধে ওই মেয়েকে টেনে নেওয়া হয়। এর আগে মসজিদ মার্কেট এলাকা থেকে তাকে আটক করেন স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ কয়েকজন।

মসজিদ মার্কেট এলাকার ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপশহর ডি-ব্লক মসজিদ মার্কেট এলাকার একটি দোকানে ক্যাশ বাক্স চুরির চেষ্টা করেন এক কিশোরী। এ সময় ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা মিলে ওই কিশোরীকে আটক করেন।

এসময় প্রথমে তাকে মারধর করে শেকল বেঁধে সড়কে হাঁটানো হয় বলে জানা গেছে।

কিশোরীকে শেকল বেঁধে সড়কে ঘুরানো প্রসঙ্গে ওসি তখন বলেছিলেন, এ বিষয়টি আমার জানা নেই। কেউ এমন কাজ করে থাকলে তারা অন্যায় করেছেন।

এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুদীপ্ত অর্জুন সিলেটটুডেকে বলেছিলেন, ফৌজদারি কার্যবিধি-র ৫৯ ধারা মতে কোনো সাধারণ নাগরিক আমলযোগ্য অপরাধ সংগঠনকারীকে আটক করতে পারেন। কিন্তু তাকে অনতিবিলম্বে পুলিশের কাছে অথবা নিকটবর্তী থানায় হস্তান্তর করতে হবে।

সুদীপ্ত বলেন, কেউ তা না করে যদি আটককৃত ব্যক্তিকে নিজে কোনোরূপ শাস্তি প্রদান করেন, বা কোমরে শেকল বেঁধে জনসমক্ষে হাঁটান বা কোনো ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন, তাহলে এরূপ আচরণ বা কাজ আইন পরিপন্থী এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত