সিলেটটুডে ডেস্ক

০৫ মে, ২০২৬ ০৩:২৯

তামিল সিনেমার নায়ক থালাপতি বিজয় নির্বাচনেও বিজয়ী

সি জোসেফ বিজয় মূল নাম হলেও সবাই চেনে তাকে থালাপতি বিজয় নামে। তামিল চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক থালাপতি বিজয়কে এত দিন পর্দায় দেখা গেছে নানা বীরোচিত ভূমিকায়। নায়ক চরিত্রে ক্ষমতাবানদের দম্ভ তিনি চূর্ণ করেছেন শৌর্যের স্বাক্ষর রেখে। এবার তিনি রাজনীতির ময়দানেও জয় করলেন মানুষের হৃদয়।

দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার সুপরাস্টার থালাপতি বিজয় (সি. জোসেফ বিজয়) প্রথমবারের মতো তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচন অংশ নিয়ে বাজিমাৎ করেছেন। জিতেছেন নিজে, সঙ্গে দলকে নিয়ে গেছেন সরকারগঠনের দ্বারপ্রান্তে।

তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে তার দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে) সরকার গঠনের পথে এগিয়ে আছে।

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে দীর্ঘ কয়েক দশকের দ্রাবিড়ীয় আধিপত্যে ইতি টেনে এক ঐতিহাসিক উত্থান ঘটল এই অভিনেতা-রাজনীতিকের।

বিজয়ের এই সাফল্যের মূলে রয়েছে তার ব্যক্তিগত ক্যারিশমা এবং ‘বিকল্প রাজনীতি’র প্রতিশ্রুতি। প্রচারের মাধ্যমে দ্রাবিড়ীয় ভাবাদর্শকে সরাসরি আক্রমণ না করে বরং তাকে আধুনিক ও কার্যকর করার কথা বলেছিলেন বিজয়। এই কৌশলী অবস্থান এবং তৃণমূল স্তরে শক্তিশালী ফ্যান ক্লাবের সাংগঠনিক শক্তি তার প্রচলিত প্রথা ভাঙার লড়াইয়ে গতি বাড়িয়েছে।

নির্বাচনে জিততে তিনি বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এর মধ্যে আছে, স্নাতকদের জন্য মাসে ৪ হাজার রুপি ভাতা, নারীদের জন্য ২ হাজার ৫০০ রুপি সহায়তা এবং বিয়ের উপহার হিসেবে সোনা ও শাড়ি। এছাড়া তিনি সরকারি পরীক্ষাগুলো সময়মতো নেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছেন।

তিনি সম্পদের দিক থেকেও আলোচনায় ছিলেন। নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৬২৪ কোটি রুপি, যা দেখে বোঝা যায় এই নির্বাচনের সবচেয়ে ধনী প্রার্থীদের একজন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি আলোচনায় ছিলেন, বিশেষ করে তার স্ত্রী সঙ্গীতার সঙ্গে বিচ্ছেদের খবরের কারণে।

বিজয়ের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছে সফল চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার থেকে। তবে তার পথে কিছু চ্যালেঞ্জও ছিল। যেমন ২০২৫ সালের কারুর স্ট্যাম্পিড-সংক্রান্ত তদন্ত। তবুও তিনি কোনো জোটে না গিয়ে একাই লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) ‘আদর্শগত শত্রু’ ও ডিএমকেকে ‘রাজনৈতিক শত্রু’ বলেছেন।

বর্তমান শাসক দল দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাঝগমকে (ডিএমকে) সরাতে ‘হুইসেল রেভলিউশনের’ ডাক দেন। তার এই সিদ্ধান্ত কিছুটা ১৯৯১ সালে জয়ললিতার দুই আসনে লড়ার কৌশলের মতো। তবে বর্তমান তৃতীয় উপ-মুখ্যমন্ত্রী উধয়নিধি স্ট্যালিন বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করেছেন। তার এই ‘হুইসেল রেভলিউশন’ সফল হয়েছে।

তবে ২৩৪ আসনের তামিলনাড়ু বিধানসভায় সরকার গঠনের ‘ম্যাজিক নম্বর’ ১১৮ বিজয়ের দলও পাচ্ছে না। ১০৭টি আসনে জয় পেয়েছে তারা। ফলে মুখ্যমন্ত্রী হতে অন্য কারও মুখাপেক্ষী হতে হবে বিজয়কে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত