২৫ জুলাই, ২০২৬ ২১:০৭
ভারতে নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে গড়ে ওঠা তীব্র আন্দোলনের মুখে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। আন্দোলনকারীদের দাবি সরকার মেনে নেওয়ার আশ্বাসে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) তাদের কর্মসূচি স্থগিত করে বিক্ষোভকারীদের ঘরে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) কয়েক সপ্তাহের লাগাতার বিক্ষোভ ও চাপের মুখে ধর্মেন্দ্র প্রধান তার পদত্যাগপত্র জমা দেন। সিজেপি, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও বিরোধী দলগুলোর প্রধান দাবিই ছিল শিক্ষামন্ত্রীর অপসারণ।
সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, 'সরকার আমাদের দাবিগুলো মেনে নিয়েছে, তাই আমরা সব বিক্ষোভকারীকে বাড়ি ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করছি।'
সিজেপি মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা জানান, সরকারের কাছে একটি দাবিনামা পেশ করা হয়েছে এবং সরকার তাতে কাজ করতে সম্মত হয়েছে। তিনি বলেন, 'আগামী এক মাস পর আমরা আবারও সরকারের সঙ্গে বৈঠকে বসব।'
এদিকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের ঘোষণা এবং মঞ্চ থেকে ধাপে ধাপে আন্দোলনস্থল ত্যাগ করার মাইকিং করা সত্ত্বেও দিল্লির যন্তর মন্তরে এখনো মানুষের ঢল দেখা যাচ্ছে। বিপুল সংখ্যক মানুষ এখনো বিক্ষোভস্থলে প্রবেশ করছেন।
এর আগে সরকারের কাছ থেকে লিখিত আশ্বাস পাওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ২৬ দিনের অনশন ভঙ্গ করেন প্রখ্যাত অধিকারকর্মী সোনাম ওয়াংচুক। অনশন ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, 'লাদাখের হাড়কাঁপানো শীত থেকে এসে দিল্লির এই প্রচণ্ড গরমে শিক্ষার্থীদের জন্য অনশন করে আমার ওজন ১১ কেজি কমে গেছে। আমার মস্তিষ্ক ও শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এরপরও কি আমার অনশন কতটা পবিত্র ছিল তা নিয়ে কারও কাছ থেকে চরিত্রের সনদ নিতে হবে?'
ওয়াংচুক জানান, দিল্লিতে বড় ধরনের পুলিশি অভিযান বা 'ক্র্যাকডাউন'-এর আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল বলেই তিনি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে দ্রুত শান্তি ও স্থিতিশীলতার পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সিজেপির প্রধান চার দাবি- ১. কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ (যা কার্যকর হয়েছে)। ২. পরীক্ষা ব্যবস্থার চাপে আত্মহত্যা করা নিট পরীক্ষার্থীদের পরিবারকে ১ কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ। ৩. শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া ও মামলা প্রত্যাহার। ৪. বিক্ষোভকারীদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।
দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন (ডিএমআরসি) জানিয়েছে, রাজীব চক, মান্ডি হাউস এবং সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট স্টেশনের প্রবেশপথগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় এখনো দিল্লির ১৮টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রয়েছে।
আপনার মন্তব্য