মো: নাজমুল ইসলাম, বড়লেখা

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:৪২

দুর্বৃত্তের দেওয়া বিষে ছড়ায় ভাসছে মরা মাছ-জলজ প্রাণী

মৌলভীবাজারের বড়লেখায়

ছবি: সংগৃহীত ।

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় মাধব গাঙ্গের ছড়ায় বিষাক্ত রাসায়নিক দিয়ে মাছ ধরার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত ৯ সেপ্টেম্বর অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা ছড়ার পানিতে কীটনাশকজাতীয় রাসায়নিক দেন। এরপর থেকে ছড়ায় মাছ ও বিভিন্ন জলজ প্রাণী মরে ভেসে উঠছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ১০ সেপ্টেম্বর তাঁরা ছড়ার পানিতে মরা মাছ দেখতে পান। পুঁটি, টেংরা, বোয়ালসহ বিভিন্ন মাছের পাশাপাশি মাছের পোনা, কাঁকড়া ও অন্যান্য জলজ প্রাণীও মারা গেছে। ১৬ সেপ্টেম্বরও ওই ছড়ার পানিতে মরা মাছ ভাসতে দেখা গেছে।

ঘটনার পর হরিপুর, দক্ষিণ হরিপুর, সোনাতনপ ও লক্ষিছড়া (পাথারিয়া) এলাকার বাসিন্দারা বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পরে ১৪ সেপ্টেম্বর তাঁরা বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে ঘটনার তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

অভিযোগে বলা হয়, ৯ সেপ্টেম্বর কয়েকজন অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্ত মাধব গাঙ্গের পানিতে ক্ষতিকর রাসায়নিক প্রয়োগ করে মাছ ধরেন। এতে ছড়ার মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী মারা যায়। স্থানীয় বাসিন্দা হারুন আহমদ, হামিদ আহমদ, মাসুক আহমদ ও রুবেল আহমদ বলেন, ছড়ায় রাসায়নিক দেওয়ার পর থেকেই মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী মরে যাচ্ছে।
তাঁরা বলেন, মাধব গাঙ্গ স্থানীয় মানুষের কৃষিকাজ ও দৈনন্দিন কাজে গুরুত্বপূর্ণ। ছড়ায় রাসায়নিক দেওয়ার কারণে মাছের পাশাপাশি ব্যাঙ, সাপ, কাঁকড়া ও ছোট জলজ প্রাণীও মারা গেছে। এতে ছড়ার স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানান, মাধব গাঙ্গের পানি হাকালুকি হাওরের দিকে যায়। তাই ছড়ার পানিতে দেওয়া রাসায়নিক হাকালুকি হাওরে পৌঁছালে সেখানকার মাছ ও জলজ প্রাণীও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে তাঁরা আশঙ্কা করছেন।

অভিযোগকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

অভিযোগে দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হারুনুর রসিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল ফাত্তাহ, হাজী মনির উদ্দিন ও হামিদ আহমদসহ স্থানীয় ১২ জন বাসিন্দা স্বাক্ষর করেছেন।

বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব আলম মাহবুব বলেন, ‘এ বিষয়ে লিখিত একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্তের জন্য উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মিসবাহ উদ্দিন আফজল বলেন, ‘আমি বর্তমানে ছুটিতে আছি। কর্মস্থলে ফিরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেব।’

 

আপনার মন্তব্য

আলোচিত