গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্য বের হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক অর্থবাজার বড় ধরনের পরিবর্তনের মুখে পড়েছে। শুক্রবার গণভোটে ইইউ থেকে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদ ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডলারের বিপরীতে পাউন্ডের নাটকীয় দরপতন হয়েছে।
রয়টার্স বলেছে, ২০০৮ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সঙ্কটের পর আন্তর্জাতিক অর্থ বাজারে সবচেয়ে বড় ঝাঁকুনি দিল এই গণভোট। এটা এমন সময় ঘটলো যখন বিশ্বজুড়ে সুদের হার প্রায় শূন্যের কাছাকাছি নেমে এসেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় নীতিনির্ধারকদের কপালে পড়েছে ভাঁজ।
শুক্রবার পাউন্ডের ইতিহাসে ডলারের বিপরীতে একদিনে সর্বোচ্চ দরপতন হয়েছে। এক পর্যায়ে পাউন্ডের দর ১০ শতাংশ কমে ১ দশমিক ৩৩০৫ ডলারে নেমে আসে, যা ১৯৮৫ সালের পর সর্বোচ্চ দরপতন।
স্টান্ডার্ড অ্যান্ড রেটিং-এর প্রধান রেটিং কর্মকর্তা ফিনান্সিয়াল টাইমসকে বলেছেন, এর ফলে ব্রিটেনের পক্ষে এএএ রেটিং ধরে রাখা আর সম্ভব হবে না।
পুরো ইউরোপজুড়ে শেয়ারবাজারে ব্যাপক দরপতনের পূর্বাভাস দিয়েছে ফিউচার্স ট্রেডিং। ব্রিটেনের এফটিএসই ফিউচার্স ও জার্মানির ড্যাক্স ফিউচার্স প্রায় ৯ শতাংশ দর হারিয়েছে। ইউরো জোনের ইউরো স্টক্স ৫০ ফিউচার্সের দর ১১ শতাংশের বেশি পড়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফলাফল ঘোষণার আগে ইইউতে থাকার পক্ষ জয়ী হবে বলে ব্যবসায়ীদের বাজির কারণে পাউন্ডের দর হঠাৎ বেড়ে দেড় ডলারে উঠে যায়। কিন্তু পূর্ব-পশ্চিম ইংল্যান্ডে ভোটের প্রাথমিক ফলে ইইউ থেকে বিচ্ছেদের পক্ষে জয়ের জোরালো সম্ভাবনায় তা কমে ১ দশমিক ৪৩ ডলারে নেমে যায়। স্থানীয় সময় বিকাল ৩টা নাগাদ বিচ্ছেদ পক্ষ এগিয়ে থাকলে আরও দর হারায় পাউন্ড।
যুক্তরাজ্যে ঐতিহাসিক এই গণভোটে সব কেন্দ্রের ফল এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না হলেও জয় বিচ্ছেদপন্থিরাই পেয়েছেন বলে গণমাধ্যমে ইতিমধ্যে খবর এসেছে।
বিবিসি বলছে, ইইউ ছাড়ার পক্ষে ভোট পড়েছে ৫২ শতাংশ, আর থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছেন সাড়ে ৪ কোটি ভোটারের ৪৮ শতাংশ।
৪১ বছর আগে ইউরোপিয়ান ইকোনমিক কমিউনিটিতে (ইইসি) যোগ দেওয়ার প্রশ্নে গণভোট দিয়েছিল যুক্তরাজ্যবাসী। তাতে ৬৭ শতাংশ ইইসির পক্ষে ভোট দিয়েছিল। ওই ইইসিই পরে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) রূপ নেয়, যার সদস্য সংখ্যা এখন যুক্তরাজ্যকে নিয়ে ২৮। ২৮ জাতির ইইউ জোটের সঙ্গে চার দশকের সম্পর্ক ছিন্ন করে নতুন পথে হাঁটার প্রশ্নে যুক্তরাজ্যের এই গণভোটকে সংক্ষেপে বলা হচ্ছে ‘ব্রেক্সিট’।
ক্যামেরন ইইউর পক্ষে অবস্থান জানালেও তার দলের একটি বড় অংশ বিপক্ষে অবস্থান নেয়।
আপনার মন্তব্য