২০ আগস্ট, ২০১৬ ০২:৪৫
যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যের জন্যে দুঃখপ্রকাশ করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘অনেক সময় উত্তপ্ত তর্কবিতর্কের মধ্যে কিংবা অনেকগুলো বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে ভুল শব্দ প্রয়োগ করা হয়ে যায়।... আমিও তা করেছি। বিশ্বাস করুন আর না-ই, আমি এতে দুঃখিত।’
বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যে শার্লট শহরে আয়োজিত এক জনসভায় ট্রাম্প এ দুঃখপ্রকাশ করেন। নির্বাচনী প্রচারণা দলে রদবদল আনার পর এটাই ছিল ট্রাম্পের প্রথম সভা। এ সময় দর্শকসারি থেকে প্রশংসাধ্বনি শোনা যায়।
যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ইরানকে বিপুল অঙ্কের নগদ অর্থ দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি আবারও ‘মুক্তিপণ দেওয়ার’ জন্য প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নিন্দা করেন। এদিনই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ওই অর্থ দেওয়ার কথা স্বীকার করলেও বলেছে, তা মুক্তিপণ নয়; বরং ইরানের পাওনা অর্থ।
এ বছর জানুয়ারিতে একটি বন্দিবিনিময় চুক্তির অধীনে ইরান সে দেশের কারাগারে আটক পাঁচ মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দিয়েছিল। ঠিক প্রায় একই সময় যুক্তরাষ্ট্র ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে মার্কিন ব্যাংকে জব্দ থাকা ইরানি অর্থের মধ্যে ৪০ কোটি ডলার ফেরত পাঠিয়েছিল।
সভায় ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও অভিযোগ করেন, ওই অর্থ ইরানকে মুক্তিপণ হিসাবেই দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ইরানকে এই অর্থ দেওয়ার ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ইতিপূর্বে মিথ্যা বলেছেন।
ট্রাম্প অভিযোগ করেন, এই ‘মুক্তিপণ’দেওয়ার ফলে বিদেশে অবস্থানরত মার্কিন সেনাসদস্য ও সাধারণ নাগরিকদের বিপদ আরও বেড়ে গেল। ইরানকে এই অর্থ দেওয়ার ব্যাপারে ট্রাম্পের দলের নেতারা এর আগেও অভিযোগ করেছেন।
দুদিন আগে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল পত্রিকায় জানানো হয়, মুক্তি পাওয়া মার্কিন নাগরিকেরা বিমানে না চড়া পর্যন্ত ওই অর্থ ইরানের হাতে হস্তান্তর করা হয়নি। একটি বিশেষ বিমানে করে ৪০ কোটি ডলার সমমূল্যের অর্থ ইউরো ও অন্যান্য মুদ্রায় পাঠানো হয়। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল আরও লিখেছে, এ থেকে প্রমাণিত হয়—যুক্তরাষ্ট্র ওই অর্থ মুক্তিপণ হিসাবেই ব্যবহার করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প এ কথা উল্লেখ করেই ওবামা প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেন।
সমালোচনার জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র জন কারবি বলেছেন, সর্বাধিক চাপ বজায় রাখার জন্য বন্দী মার্কিনরা বিমানে না ওঠা পর্যন্ত অর্থ হস্তান্তর করেনি যুক্তরাষ্ট্র। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, যে অর্থ ফেরত পাঠানো হয়েছে, তা ইরানেরই প্রাপ্য; ইসলামি বিপ্লবের আগে অস্ত্র কেনা বাবদ দেশটি ওই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রকে দিয়েছিল। কিন্তু সেই অস্ত্র কখনোই ইরানকে পাঠানো হয়নি।
জন কারবি বলেন, হেগ-এর আন্তর্জাতিক সালিস আদালতের দেওয়া রায়ের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র সুদসহ সব মিলিয়ে ১৭০ কোটি ডলার ফেরত দিতে সম্মত হয়েছে। বন্দী মুক্তির সময় দেওয়া অর্থ তারই অংশ।
আপনার মন্তব্য