১৩ অক্টোবর, ২০১৭ ১২:০৭
বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে শুক্রবার আবারও অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে বসছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। এদিন রোহিঙ্গাদের দুর্ভোগের ওপর জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের বক্তব্য শুনবে নিরাপত্তা পরিষদ।
সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকদের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, শুক্রবার নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে উপস্থিত থাকতে সব সদস্য, আঞ্চলিক দেশ ও সংগঠনগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বৈঠকটি আহ্বান করেছে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য।
এদিকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা করতে শুক্রবারই চার দিনের সফরে মিয়ানমার যাওয়ার কথা রয়েছে জাতিসংঘের রাজনীতি বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা জেফরি ফেল্টম্যানের।
জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা জানান, জেফরি ফেল্টম্যান মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় এই জরুরি বিষয়গুলো তুলে ধরবেন।
গত আগস্টের শেষ দিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযান শুরুর পর এখন পর্যন্ত ৫ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা সেখান থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের জাতিগতভাবে নির্মূল করছে মিয়ানমার।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস রাখাইনে সেনা অভিযান বন্ধ এবং সেখানে পুড়িয়ে দেওয়া গ্রামগুলোতে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ প্রদানের জন্য মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। এছাড়া রাখাইন থেকে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গারা যাতে নিরাপদে সেখানে ফিরে যেতে পারে সেজন্য পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানান গুতেরেস।
মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সুচির অনুরোধে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে গঠিত কমিশন, যা আনান কমিশন নামে পরিচিতি পায়, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো নৃশংসতার বিষয়ে তদন্ত করে গত আগস্টের শেষ দিকে একটি প্রতিবেদন জমা দেয়, যেখানে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রদানসহ বিভিন্ন সুপারিশ করা হয়।
এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শুক্রবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কফি আনানের বক্তব্য শুনবে।
গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে সহিংসতা ও রোহিঙ্গা উচ্ছেদ শুরু হলে এরই মধ্যে দুই দফা নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক হয়েছে। দ্বিতীয় বৈঠকে নিন্দা জানিয়ে সহিংসতা বন্ধ করা এবং রাখাইনে আন্তর্জাতিক ত্রাণকর্মীদের কাজ করতে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দেওয়া হয়।
সর্বশেষ বুধবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা এক প্রতিবেদনে বলেছে, রাখাইন রাজ্য থেকে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের স্থায়ীভাবে বিতাড়নের জন্যই মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ সেখানে পূর্বপরিকল্পিত ও নৃশংস সামরিক অভিযান চালিয়েছে।
আপনার মন্তব্য