১৪ অক্টোবর, ২০১৭ ০২:৪৭
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ নিয়ে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছে দেশটির সেনাবাহিনী।
শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর প্রধান জ্যেষ্ঠ জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের দপ্তরের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, লেফটেন্যান্ট জেনারেল আয় উইনের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটি অভিযানকালে সেনা সদস্যরা কোনো ধরনের আইন লঙ্ঘন ও অপব্যবহার করেছেন কি-না, তা খতিয়ে দেখবে। তবে বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারের সংবিধান অনুযায়ী সেনাবাহিনীর ওই অভিযান বৈধ ছিল বলেও বিবৃতিতে বলা হয়েছে।
সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, 'তদন্ত প্যানেল রাখাইন অভিযানের বিষয়ে কয়েকটি প্রশ্নের জবাব অনুসন্ধানের চেষ্টা করবে। এ অভিযানে সেনাবাহিনীর নীতিমালা অনুসরণ ও নেতৃত্বের নির্দেশনা সঠিকভাবে পালন করা হয়েছে কি-না—তা-ও জানতে চাওয়া হবে। পরে কমিটি এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।
গত ২৫ আগস্ট বর্মী সেনারা অভিযান শুরুর পর দেড় মাসে পাঁচ লাখ ৩৬ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। রাখাইন থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গারা বলেছেন, গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সেখানে নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালিয়েছে সেনা সদস্যরা।
রাখাইনে ৩০টি পুলিশ ও সেনা চৌকিতে গত ২৪ আগস্ট রাতে সমন্বিত হামলার পর এ অভিযানে নামে সেনাবাহিনী। ওই হামলার জন্য 'রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের' দায়ী করে এ অভিযানকে 'সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াই' বলে দাবি করে আসছে মিয়ানমারের সেনা ও সরকার। তবে জাতিসংঘ একে রোহিঙ্গাদের 'জাতিগতভাবে নির্মূলের চেষ্টা' হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের অক্টোবরে রাখাইনে একই ধরনের অভিযানের পর জাতিসংঘের গঠিত একটি তদন্ত প্যানেলকে মিয়ানমারে ঢুকতে দেয়নি দেশটির সরকার। তবে বিভাগীয় তদন্ত শেষে রাখাইনে সেনাবাহিনীর 'ক্লিয়ারেন্স অপারেশনের' সময় কোনো ধরনের নিপীড়নের অভিযোগ নাকচ করে দেয়া হয়।
আপনার মন্তব্য