সিলেটটুডে আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৮ নভেম্বর, ২০১৭ ১২:৫৭

প্যারিসের উদ্দেশে সৌদি ছাড়লেন সাদ হারিরি

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্যারিস গেলেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ আল হারিরি।

শুক্রবার (১৭ নভেম্বর) রাতে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ থেকে তিনি প্যারিসের উদ্দেশ্যে রওনা হন। হারিরির পরিবারের মালিকানাধীন একটি টেলিভিশন চ্যানেলের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি ও টেলিগ্রাফ এ খবর দিয়েছে।

সৌদি সফরকালে গত ৪ নভেম্বর অপ্রত্যাশিতভাবে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। কিন্তু তার পদত্যাগ এখনও কার্যকর করেনি দেশটির সরকার। বৈরুতের অভিযোগ, সৌদি সরকার তাকে বন্দি করে রেখে পদত্যাগে বাধ্য করেছে। কিন্তু রিয়াদের জবাব, বাধ্য নয়, তিনি স্বাধীনভাবেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেই থেকে রিয়াদেই ‘অবস্থান’ করছিলেন হারিরি।

খবরে বলা হয়েছে, শনিবার সকালে ফিউচার টিভির খবরে বলা হয়, হারিরি তার স্ত্রীকে নিয়ে ব্যক্তিগত জেট বিমানে প্যারিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন। শনিবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁর সঙ্গে তাদের দেখা হবে বলেও খবরে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজধানী বৈরুতে ফেরার (সম্ভাব্য) আগে তিনি অন্যান্য আরব দেশ সফর করতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।

এর আগে বুধবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট হারিরিকে সস্ত্রীক তার দেশে যাওয়ার আহ্বান জানান। অবশ্য তার আগে তিনি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। তবে ম্যাখোঁ বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক নির্বাসন নয়, বরং তিনি আশা করেন, হারিরি সেখানে অল্প কিছু দিন থাকবেন।

প্রসঙ্গত, লেবানন ফ্রান্সের সাবেক উপনিবেশ। সে কারণে দেশটির চলমান রাজনৈতিক সংকটে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করছে প্যারিস।

উল্লেখ্য, লেবাননের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে ইরান। দেশটির শিয়া নেতা হাসান নাসরুল্লাহর নেতৃত্বাধীন হিজবুল্লাহকে পৃষ্ঠপোষকতা করছে তেহরান। লেবাননের বর্তমান প্রেসিডেন্টও শিয়াপন্থী। অন্যদিকে, হারিরি সন্নীপন্থী। হারিরিসহ সুন্নীপন্থীদের সমর্থন দিচ্ছে সৌদি আরব। দেশটিতে সৌদি আরবের অনেক বিনিয়োগও রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যকার দ্বন্দ্বের কারণেই মূলত লেবাননে বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত