ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক

০৮ জুলাই, ২০১৫ ০২:৩১

গ্রিসের ইউরোজোন ত্যাগে ক্ষতির মুখোমুখি জার্মানি

গ্রিস ইউরোজোন ত্যাগ করলে সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়বে জার্মানি। আর এথেন্সের সমঝোতায় এসে সংকট নিরসনে ব্যর্থতার দায়ভার পড়বে জার্মান নেতা অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের ওপর। গত ৫ বছর ধরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের যে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে বড় ভূমিকা রাখে জার্মান সরকার।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গ্রিসের ঋণ সংকট দাতাদের আর্থিক পুনরুদ্ধার (বেল আউট) প্রস্তাবের কঠোর শর্তের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে দেশটির জনগণ।

রোববার এ বিষয়ে এক গণভোটে প্রায় ৬২ শতাংশ গ্রিক ‘না’ ভোট দেন। জার্মানিসহ দাতাশক্তিগুলো বলে আসছিল, গ্রিস না ভোট দিলে ইউরোজোন থেকে ছিটকে পড়বে। কিন্তু গ্রিস ইউরোজোন ত্যাগ করলে আর্থিকভাবে বড় ক্ষতি হবে বার্লিনের।

জার্মান সরকার অবশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে সেই আর্থিক ক্ষতির পরিমাণটা প্রকাশ করেনি। তবে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে মিউনিখভিত্তিক আইফো ইকোনোমিক ইন্সটিটিউট জানিয়েছে, গ্রিসকে দেয়া জার্মানির ঋণ ও ইসিবিসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের অংশীদারী দায়বদ্ধতার হিসেবে জার্মানির অন্তত ৮৮ বিলিয়ন ইউরো (৯৭ বিলিয়ন ডলার) ক্ষতি হবে।

তবে স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওর রেটিং এজেন্সির মতে এ ক্ষতির পরিমাণ ৯০.৬ বিলিয়ন ইউরো। গ্রিক গণভোটের পরপরই এ সংকট টের পেয়ে প্যারিসের উদ্দেশে রওয়ানা হন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল। সেখানে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলান্দের সঙ্গে আলোচনা করেন কিভাবে গ্রিসকে নতুন ঋণ সহায়তা দিয়ে ইউরোজোনে ধরে রাখা যায়।

ইউরোজোনে গ্রিসের কাছে সবচেয়ে বড় পাওনাদার জার্মানি। এথেন্সের কাছে বার্লিনের দ্বিপাক্ষিক ঋণের পরিমাণ ৫৩.৪ বিলিয়ন ইউরো। জার্মান সরকারের ভালো অর্থনৈতিক অবস্থার কারণ হচ্ছে দেশটির উদ্বৃত্ত বাজেট ও বিশাল কর আদায়।

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, গ্রিসের সঙ্গে সম্পর্ক রাখাই জার্মানির জন্য সুবিধার। তবে জার্মান অর্থমন্ত্রী ও ভাইস চ্যান্সেলর সিগমার গ্যাব্রিয়েল সোমবার বলেছেন, গ্রিসের ইউরোজোন ত্যাগে জার্মানি ভীত নয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত