আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৩ ফেব্রুয়ারি , ২০২০ ১২:২৩

উহানে ১০ দিনে নির্মিত হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু

নতুন করোনাভাইরাসের ছোবলে চীনের হুবেই প্রদেশে ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। এ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী সামাল দিতে চিকিৎসা দিতে উহান শহরে মাত্র ১০ দিনে নির্মিত একটি বড় হাসপাতাল আজ কার্যক্রম শুরু করেছে। এছাড়া নতুন করে ২০টি হাসপাতালে করোনা ভাইরাস আক্রান্তদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

চীনা স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য অনুযায়ী, করোনা ভাইরাসে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৮২৯ জন, ফলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১৭ হাজার ২০৫ জনে। ১ লাখ ৫২ হাজার ৭০০ জন করোনাভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে চিকিৎসাধীন। এ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৪১৫ জন। একজন বাদে আক্রান্ত ও মৃত সবাই হুবেই প্রদেশের বাসিন্দা। চীনের বাইরে একমাত্র মৃত্যু ফিলিপাইনে। তবে ওই ব্যক্তিও উহান থেকে সে দেশে গিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। চীন ছাড়া বিশ্বের অন্যান্য দেশে অন্তত ১৫০ জন করোনাভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে উহান শহরে লাগামহীনভাবে বাড়ছে নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা। চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চীনা সরকারকে। তবে পরিস্থিতি মোকাবেলায় ১০ দিনে উহান শহরে নির্মাণ করা হয়েছে এক হাজার শয্যা বিশিষ্ট নতুন একটি হাসপাতাল।

উহানের বিভিন্ন হাসপাতালে ১২ হাজার শয্যা করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসার জন্য নির্দিষ্ট করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত পত্রিকা গ্লোবাল টাইমস আজ সোমবার জানিয়েছে, এর আগে আক্রান্ত সন্দেহ হলে শহরের মাত্র সাতটি হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা ছিল। রোগীর সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাওয়ার কারণে সেসব হাসপাতালে কয়েকদিন ধরে লম্বা লাইল লেগে থাকছে। যথেষ্ট শয্যাও দেয়া যাচ্ছে না। এ কারণে নতুন ১২ হাজার শয্যায় তাদের ভর্তির ব্যবস্থা করা হবে। উহানের ২৭টি হাসপাতালে এ ব্যবস্থা থাকবে।


এদিকে জরুরিভিত্তিতে দুটি বড় আকারের হাসপাতাল নির্মাণ করছে চীন। ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যে সব ধরনের সুবিধাসম্পন্ন ১০০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের যে খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এসেছে সেটি আজই উদ্বোধন করা হয়েছে। হুবেই প্রদেশের উহানে নির্মিত এ হাসপাতালে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন সামরিক কর্মকর্তা ও সদস্য, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও নার্স থাকবেন।

এদিকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে চীনের নাগরিকদের অন-অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা সাময়িকভাবে বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চীনা সরকার এই নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করেছে । বিদেশি সরকারগুলো দেশটির কর্তৃপক্ষের পরামর্শ উপেক্ষা করেছে বলেও অভিযোগ করে তারা।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত