১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১৩:২৯
ফাইল ছবি
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধী আবুল কালাম আযাদের করা আপিল গ্রহণের শুনানি পিছিয়ে ৩১ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বিভাগ আজকের মতো শুনানি মুলতবি করে এ দিন ধার্য করেন।
শুনানি শেষে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আযাদ দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। ৫ আগস্টের পর তিনি দেশে ফিরে তৎকালীন সরকারের কাছে আবেদন করেন। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে তার মৃত্যুদণ্ডের কার্যকারিতা এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়। মূলত সেই আদেশের ভিত্তিতে তিনি আপিল বিভাগে তার দণ্ড ও সাজা চ্যালেঞ্জ করে আপিল করেছেন।
সম্প্রতি ওই স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করেন যুদ্ধাপরাধী আযাদ। তবে রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করেছে।
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এর ২১(৩) ধারা অনুযায়ী ৩০ দিনের পর কোনো আপিল দায়েরের সুযোগ নেই। ফলে এই আপিলটি আইনত সময়ের কারণে অগ্রহণযোগ্য। আযাদের পক্ষ থেকে সংবিধানের ১০৪ অনুচ্ছেদের ‘কমপ্লিট জাস্টিস’ নীতির ভিত্তিতে আপিল করা হয়েছে। কিন্তু যেখানে সুনির্দিষ্ট আইনগত বিধান রয়েছে, সেখানে ওই অনুচ্ছেদ প্রয়োগের সুযোগ নেই।’
আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে যে আপিল ফাইল করা হয়েছে, সেটি আমাদের আইনের ওপরে প্রাধান্য পেতে পারে না। আইনে স্পষ্টভাবে বলা আছে, ৩০ দিন পার হওয়ার পর আপিলের সুযোগ নেই। আমরা সেই অবস্থানেই আছি।’
এর আগে গত ১০ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের সময়ের আরজির পরিপ্রেক্ষিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায়ের বিরুদ্ধে আবুল কালাম আযাদের করা আপিল গ্রহণ করা হবে কি না এর শুনানি ১৭ আগস্ট পর্যন্ত মুলতবি করে আপিল বিভাগ।
আপিলকারী পক্ষের তথ্য অনুসারে, মানবতাবিরোধী অপরাধের ওই মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ১৩ বছর আগে দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে বিলম্ব মার্জনাসহ গত ৬ জুলাই ওই আপিল করেন আবুল কালাম আযাদ। এতে ৪ হাজার ৯১৫ দিন বিলম্ব মার্জনা (আপিল করতে দেরি হওয়ার জন্য মার্জনা) চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের সাজা স্থগিতও চাওয়া হয়েছে।
আবুল কালাম আযাদের করা আপিলটি আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত হয়ে নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য ওঠে। আদালতে আবুল কালাম আজাদের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিকী ও আইনজীবী মীর ওসমান বিন নাসিম। অন্যদিকে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
পরে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমে বলেন, ‘পেপারবুক (মামলার বৃত্তান্ত-সংবলিত) ছিল না, ওরা (আপিলকারী পক্ষ) কপিও দেয়নি। সে কারণে আমরা মুলতবি চেয়েছি। আদালত তা মঞ্জুর করেছেন। ১৭ আগস্ট এ বিষয়ে শুনানি হবে।’
এর আগে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় আবুল কালাম আযাদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে ১৩ বছর আগে রায় (২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি) দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তার আগে থেকে তিনি পলাতক ছিলেন।
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত বছরের অক্টোবরে আবুল কালাম আযাদের মৃত্যুদণ্ডের সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর আগেই তার দেশে ফেরার খবর আসে।
মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায়ের ১৩ বছর পর চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি আত্মসমর্পণ করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হন আবুল কালাম আযাদ। সেদিন শুনানি নিয়ে ট্রাইব্যুনাল এক আদেশে আসামিকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সত্যায়িত কপি সরবরাহ করা ও যতক্ষণ না আপিল বিভাগ যথাযথ আদেশ দেন, ততক্ষণ আবুল কালাম আজাদ যেমন আছেন, তেমনই থাকবেন বলে উল্লেখ করেন।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ক্ষমতায় যাওয়ার পর একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচারের উদ্যোগ নেয়। সেই বিচার শুরুর পর প্রথম রায়ে ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর সাবেক রুকন যুদ্ধাপরাধী আবুল কালাম আযাদকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল।
এর মধ্যে সাতটি অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তিনটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং বাকি চারটি অভিযোগে কারাদণ্ডের সাজা দেওয়া হলেও মৃত্যুদণ্ডের সাজা হওয়ার কারণে আলাদা করে শাস্তি নির্ধারণ করা হয়নি।
আপনার মন্তব্য