সিলেটটুডে ডেস্ক

০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:৪৭

সুরকুঞ্জের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গুণীজন সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

সুরকুঞ্জের ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গুণীজন সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার বিকেল চারটায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের শফিউর রহমান মিলনায়তনে অধ্যাপিকা রাহামুনা আরা খান মজলিসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী।


বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবি লায়ন হামিদুর রহমান, আইটি ল্যাব সলিউশন্স’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেবরাজ চৌধুরী, পিজি হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. চয়ন সিংহ, জাগো আর্ট সেন্টার, ঢাকার সাধারণ সম্পাদক ও উপাধ্যক্ষ জনাব রুহুল লোহানী আকাশ। এছাড়াও দেশের বিশিষ্ট আইনজীবি, শিল্পী, সংস্কৃতিসেবী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে দেশের বরেণ্য আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন বেহালা শিল্পী পন্ডিত সুনীল চন্দ্র দাস-কে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। সুরকুঞ্জ এর নির্বাহী প্রধান ও বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী অপূর্ব নারায়ণ চক্রবর্তী অনুষ্ঠানের শুরুতেই উপস্থিত সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গণে সুরকুঞ্জের বিভিন্ন কার্যক্রম ও যাত্রা শুরুর লগ্ন সহ নানান স্মৃতিচারণ করে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সুচনা করেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আইনজীবি লায়ন হামিদুর রহমান, পিজি হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. চয়ন সিংহ, জাগো আর্ট সেন্টার, ঢাকার সাধারণ সম্পাদক ও উপাধ্যক্ষ রুহুল লোহানী আকাশ, আইটি ল্যাব সলিউশন্স - এর পক্ষে অভিজিৎ দে।

অতিথিবৃন্দ নিজ নিজ বক্তব্যে বলেন সংস্কৃতির বিকাশে নিয়মিত সাংস্কৃতিক আয়োজনের কোনো বিকল্প নেই। সুরকুঞ্জের রজতজয়ন্তী ও দীর্ঘ ২৫ বছরের কার্যক্রম শিল্পী ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে।

মানুষের সুস্থ ও সুন্দর মানসিক বিকাশে শিল্প-সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য, মানবিকতা ও ইতিবাচক মূল্যবোধ গড়ে ওঠে। একটি সংগঠনের ২৫ বছর পূর্ণ করা নিঃসন্দেহে একটি গৌরবের বিষয়। শিল্প ও সংস্কৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক আরও গভীর করতে সুরকুঞ্জের মতো সংগঠনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সকলেই সুরকুঞ্জের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন।

সংবর্ধনা গ্রহণের পর বরেণ্য বেহালা শিল্পী পন্ডিত সুনীল চন্দ্র দাস আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, শিল্পীর কাজ হলো শিল্পচর্চার মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে আনন্দ ও সৌন্দর্যের অনুভূতি সৃষ্টি করা। দীর্ঘ সাংস্কৃতিক জীবনে পাওয়া এই সম্মান তাঁর জন্য আনন্দ ও অনুপ্রেরণার। তিনি সুরকুঞ্জের ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শুভেচ্ছা জানান এবং সংগঠনটির ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করেন।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপিকা রাহনুমা আরা খান মজলিশ বলেন, দীর্ঘ ২৫ বছরের পথচলায় সুরকুঞ্জ শিল্প ও সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। ভবিষ্যতেও সুরকুঞ্জের সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং নতুন প্রজন্মকে শিল্প-সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে সংগঠনটি কাজ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আলোচনা ও বক্তব্য পর্ব শেষে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে বিভিন্ন সংগীত, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করা হয়। দেশবরেন্য শিল্পী, কলাকুশলী, সংস্কৃতিপ্রেমী, আইনজীবি ও নানা পেশা শ্রেণির অতিথিদের উপস্থিতিতে পুরো অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত