০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:২৪
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের পর বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগ করেছেন। হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে পদত্যাগ করেন এই সংসদ সদস্য।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার পর ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির রাজনৈতিক জীবন ও পারিবারিক ইতিহাস সামনে এসেছে।
ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন-২৩ থেকে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য।২০২৬ সালের ৩ মে সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে শপথ নেন। সংসদ সদস্য হিসেবে এটি তার প্রথম মেয়াদ। সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তিনি সংসদের দুটি কমিটির সদস্য। সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাকে মনোনীত করে।
১৯৭৪ সালের ১৫ জানুয়ারি জন্ম নেওয়া মিষ্টির পেশা ব্যবসা। ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে। পরে তিনি কলেজ ছাত্র সংসদের এজিএস নির্বাচিত হন। স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করার পর বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকেন।
পরবর্তীতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্বে আসেন তিনি। সদ্য বিলুপ্ত ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। মিরপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনেও পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।
মিষ্টি সাবেক ছাত্রদল নেতা ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৮নং ওয়ার্ডের প্রয়াত কাউন্সিলর সায়েদুর রহমান নিউটনের সহধর্মিণী এবং ঢাকা-৮ আসনের বিএনপির প্রয়াত এমপি নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুর বোন। ২০০৯ সালে বিডিআর বিদ্রোহের (পিলখানা হত্যাযজ্ঞ) মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় পিন্টুকে। ২০১৫ সালের ৩ মে রাজশাহী কারাগারে তার মৃত্যু হয়।
মিষ্টির স্বামী সায়েদুর রহমান নিউটন ছিলেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার। ২০০২ সালের ১০ মে প্রকাশ্য দিবালোকে ধানমন্ডির অর্কিড প্লাজার সামনে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। নিউটনের মৃত্যুর পর মিষ্টি ওই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর দিনগত রাতে রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার (মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্র) গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার পর মিষ্টির পদত্যাগের সম্ভাবনার বিষয়টি সামনে এসেছে। ওইদিন মধ্যরাতে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সরকারি দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। তবে ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে আসছেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি।
আপনার মন্তব্য