২০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৫:২৬
ছবি: সংগৃহীত
অ্যালার্জিজনিত সর্দি নাসিকা ঝিল্লির সংক্রমণের ফলে্ও হয়ে থাকে। এর পেছনে মূলত রয়েছে কিছু উদ্দীপকের ভূমিকা। দিনে দিনে এ রোগের ব্যাপ্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদিও অ্যালার্জিজনিত সর্দি গুরুতর রোগ নয়, তবে দৈনন্দিন জীবন প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়।
কখনো কখনো অ্যালার্জি অসহনীয় বিড়ম্বনার কারন হয়ে দাঁড়ায়। বর্তমানে অ্যালার্জির প্রকোপ বেড়ে চলেছে। অ্যালার্জি মাঝেমধ্যে সামাজিক সমস্যাও সৃষ্টি করে। যেমন হঠাৎ করে শুরু হলো অসহ্য চুলকানি ও হাঁচি। আবার যদি হাঁচিসহ শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে যায়, তখন তো এটি একটি মেডিকেল ইমার্জেন্সি। এ অবস্থায় প্রায়ই সামাজিক কাজ ব্যাহত হয় ।
অ্যালার্জির কারণঃ-
অনেক সময় ধুলাবালুও অ্যালার্জির কারণ। ধুলাবালু, ফুলের রেণু, মাইট, খাদ্য ,পশু-পাখির লোম ও পাখনা, পোকামাকড়ের হুল ও কামড়, রাসায়নিক পদার্থ, ওষুধ, কসমেটিকস, কন্টাক্ট অ্যালার্জেন ইত্যাদি থেকেও অ্যালার্জি হতে পারে। এ ছাড়া গাড়ি থেকে নির্গত ধোঁয়া, শিল্পকারখানার বিভিন্ন রকম উপাদানও অ্যালার্জির কারণ হতে পারে। বিশেষ পদার্থ যখন শরীরের সংস্পর্শে আসে, তখন শরীরে এক অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। যেমন সর্দি, চুলকানি, ত্বক ফুলে যাওয়া, হাঁচি-কাশি ইত্যাদি। এসব অস্বাভাবিক উপসর্গই হলো অ্যালার্জি।
অ্যালার্জির জটিলতা
সুচিকিৎসা না হলে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। নাকের অ্যালার্জি সর্দি থেকে শতকরা প্রায় ২৫ ভাগ রোগীর হাঁপানি হতে পারে। নাকের অ্যালার্জি সর্দি থেকে সাইনুসাইটিস, চোখের কনজাংটিভাইটিস, নাকের পলিপও হতে পারে।
পরীক্ষা-নিরীক্ষা
অ্যালার্জির সঠিক চিকিৎসার জন্য ল্যাব-পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে। যেমন রক্ত, প্রস্রাব ও মলের রুটিন পরীক্ষা, রক্তের সুগার, আইজিই অ্যান্টিবডি ইত্যাদি। প্রয়োজনে বুক, নাক ও সাইনাসের এক্স-রে করে দেখাতে হতে পারে।
অ্যালার্জি প্রতিরোধ ও আধুনিক বৈজ্ঞানিক চিকিৎসাঃ-
অ্যালার্জি প্রতিরোধের একমাত্র উপায় হলো, কারণগুলো শনাক্ত করে তা এড়িয়ে চলা। বিশেষ করে রোগীকে খুব সতর্কতার সঙ্গে খুঁজে বের করতে হবে, তাঁর শরীরে কী কী কারণে অ্যালার্জি হয়। অ্যালার্জি চিকিৎসার বিভিন্ন ধাপ হলো হেলথ এডুকেশন, ওষুধপত্র ও অন্যান্য চিকিৎসা।
রোগিকে রোগের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস জানতে হবে এবং অ্যালার্জির প্রকৃত উৎস শনাক্ত করে পরবর্তী সময়ে ভ্যাকসিনের মাধ্যমে ডিসেনসিটাইজেশন করা যেতে পারে। তবে তা প্রচলিত আধুনিক চিকিৎসার সঙ্গে সমন্বয় করেই করতে হবে। ৎ অভিজ্ঞ অ্যালার্জি বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে এ রোগের চিকিৎসা করতে হবে।
আপনার মন্তব্য