২৭ অক্টোবর, ২০১৫ ২৩:৩৫
২০১২ সালের আগে কেনা সিমের পুনঃনিবন্ধনের জন্য আগামী ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত এসএমএসে তথ্য দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন গ্রাহকরা।
মঙ্গলবার ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১২ সালের আগে কেনা সিমের বিপরীতে বিভিন্ন তথ্য চেয়ে ১৫ অক্টোবর থেকে গ্রাহকের মোবাইলে এসএমএস পাঠানো শুরু করেছে অপারেটররা, যা ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে।
“নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সঠিকভাবে সিমের নিবন্ধন করা না হলে ওই সিম বন্ধ করে দেওয়া হবে।”
তবে পরবর্তীতে কোনো গ্রাহক ‘প্রয়োজনীয় ও উপযুক্ত’ কাগজপত্র দেখাতে পারলে বন্ধ সিম চালু করার বিষয় বিবেচনা করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়, ১৮ বছরের নিচে কারও কাছে সিম বিক্রি করা যাবে না, সিম থাকলেও নিবন্ধন করা যাবে না। ১৮ বছরের কম বয়সীদের সিমের নিবন্ধন তাদের অভিভাবকদের (বাবা/মা) নামে করতে হবে।
এসএমএসের জবাব পাঠিয়ে পুনঃনিবন্ধনের পাশাপাশি সিম নিবন্ধিত কি না বা সঠিকভাবে নিবন্ধন করা হয়েছে কি না গ্রাহক তা ঘরে বসেই যাচাই করে নিতে পারবেন বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
এতে বলা হয়, “মোবাইল থেকে এসএমএস করে অথবা মোবাইল অপারেটরের ওয়েবসাইটে গিয়ে সিম নিবন্ধনের সঠিকতা যাচাই করা যাচ্ছে। ২০১২ সালের পর কেনা সিমের ক্ষেত্রে গ্রাহকরা নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে তথ্য পাঠিয়ে নিবন্ধনের সঠিকতা যাচাই করতে পারবেন।”
নিবন্ধনের সঠিকতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া তুলে ধরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্রামীণ ফোন, বাংলালিংক, রবি, এয়ারটেল ও টেলিটকের গ্রাহককে মোবাইলের এসএমএস অপশনে গিয়ে ইংরেজিতে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর, এনআইডি অনুযায়ী জন্মতারিখ, পূর্ণনাম লিখে ১৬০০ নম্বরে পাঠাতে হবে।
সিটিসেলের গ্রাহকদের মোবাইলের এসএমএস অপশনে গিয়ে ইংরেজিতে U লিখে (স্পেস) দিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, পরিচয়পত্র অনুযায়ী জন্ম তারিখ ও পূর্ণনাম লিখে ১৬০০ নম্বরে পাঠাতে হবে।
সব ঠিক থাকলে ফিরতি এসএমএসে ‘Your request has been accepted, Thank you for the information’ লেখা আসবে। এই এসএমএস পাঠানোর জন্য গ্রাহকের কোনো টাকা কাটা হবে না।
এসএমএসে যাদের সিমের পুনঃনিবন্ধন হবে না তাদের বায়োমেট্রিকস পদ্ধতিতে অংশ নিয়ে সিমের নিবন্ধন করতে হবে।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ জানিয়েছে, আগামী ১ নভেম্বর থেকে সব মোবাইল অপারেটরের নিজস্ব সার্ভিস সেন্টার/ কাস্টমার কেয়ার - এ বায়োমেট্রিকস পদ্ধতিতে সিমের নিবন্ধন চালু হচ্ছে। ১৬ ডিসেম্বর থেকে সারা দেশে এই পদ্ধতিতে নিবন্ধন হবে।
এদিকে, মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের মধ্যে যারা ২০১২ সালের আগে সিম নিবন্ধন করেছেন, এসএমএস পাঠিয়ে তাদের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য চাইবে অপারেটরগুলো।
এই এসএমএসে গ্রাহকের জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর, নাম এবং জন্মতারিখ জানতে চাওয়া হবে। গ্রাহক সেই তথ্য মোবাইল অপারেটরদের দিলে তার সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ভাণ্ডারের তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে।
২০১২ সালের আগে নিবন্ধিত অধিকাংশ সিমের সঠিক তথ্য অপারেটরদের হাতে না থাকায় এই ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার মোবাইল অপারেটরগুলোর প্রধান নির্বাহী, ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ, এনটিএমসি ও বিটিআরসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর দীর্ঘ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়।
প্রায় আড়াই ঘণ্টার এ বৈঠকের আগে ও পরে দুই দফা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তারানা হালিম্
বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে অপারেটররা গ্রাহকদের একটি কোড দেবে। সেই কোডে গ্রাহক তার নিবন্ধনের তথ্য জানতে চাইতে পারবেন।
“অপারেটররা যদি না দিতে পারে তাহলে সেই কোডে গ্রাহকরা তাদের এনআইডি নম্বর ও নাম দিয়ে এসএমএস করে নিবন্ধনের তথ্য যাচাই করে নিতে পারবেন এবং তার এনআইডিতে কতটি সিম নিবন্ধন রয়েছে তাও জানতে পারবেন।”
তারানা জানান, আগামী এক নভেম্বর থেকে পরীক্ষামূলকভাবে গ্রাহকরা কাস্টমার কেয়ার থেকে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন করতে পারবেন।
গ্রাহকরা নিজের ইচ্ছায় এ কাজ করবে বলেও প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।
“আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে চূড়ান্তভাবে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হলে সঠিক নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালু হবে। এক্ষেত্রে যাদের সঠিকভাবে নিবন্ধন করা নেই বা এক এনআইডিতে একাধিক সিম রয়েছে তারা অগ্রাধিকার পাবেন।”
এ বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে প্রচার চালানো হবে বলেও জানান তিনি।
ভুয়া পরিচয়ে অথবা নিবন্ধন না করে সিম কিনে নানা অপরাধে ব্যবহারের অভিযোগ বাড়তে থাকায় সম্প্রতি গ্রাহকদের তথ্য যাচাই ও সিম পুনঃনিবন্ধনের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরপর মোবাইল গ্রাহকদের সিমের তথ্য যাচাইয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ভাণ্ডার ব্যবহারের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
বৈঠকে বসার আগে তারানা হালিম বলেন, “গতকাল পর্যন্ত অপারেটররা গ্রাহকদের যে তথ্য দিয়েছে তা খুবই অপর্যাপ্ত। সব অপারেটর মিলিয়ে প্রায় ১৩ কোটি সিম আছে। এর মধ্যে মাত্র ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ সিমের তথ্য মিলেছে।”
এখন পর্যন্ত প্রায় এক কোটি গ্রাহকের নিবন্ধন যাচাই করে দেখা গেছে, এর মধ্যে সঠিকভাবে নিবন্ধন হয়েছে মাত্র ২৩ লাখ ৪৩ হাজার ৬৮০টি সিম।
বাংলাদেশে বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত অপারেটর টেলিটকসহ মোট ছয়টি অপারেটর মোবাইল ফোন সেবা দিচ্ছে। বিটিআরসি’র সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, মানুষের হাতে থাকা মোবাইল সিমের সংখ্যা ১৩ কোটি ১৪ লাখ ছাড়িয়ে গেছে, যেখানে দেশের জনসংখ্যাই ১৬ কোটি।
আপনার মন্তব্য