সিলেটটুডে ডেস্ক

০১ নভেম্বর, ২০১৫ ১৪:২৪

লেখক-প্রকাশক হত্যাকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ দাবি করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল একের পর এক লেখক-ব্লগার-প্রকাশক হত্যাকে আবারও ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ হিসেবে বর্ণনা করে দাবি করেছেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কেনো অবনতি ঘটেনি।

রোববার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “(আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি) অবশ্যই ভাল, অবশ্যই ভাল। এগুলো (খুন) উদ্দেশ্যমূলকভাবে হচ্ছে, আমি আগেও বলেছি।”

তিনি আরও বলেন, সব দেশেই এ রকম বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে থাকে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, যারা জড়িত থাকুক না কেন আমরা খুঁজে বের করব।

তিনি বলেন, দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে এসব ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। আনসারুল্লাহ, জেএমবি বা আইএস যারা এটা করুক না কেন তারা যুদ্ধাপরাধী বা জামায়াত-শিবিরের লোক।

আসাদুজ্জামান খান বলেন, প্রকাশ্যে যে হত্যা করেছে, হত্যাচেষ্টায় যারা জড়িত ছিল তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের শিগগিরই গ্রেফতার করবে। আগের ঘটনায় যাদের গ্রেফতার করা হয়েছিল তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

নিরাপত্তার জন্য বাসা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সিসি ক্যামেরা বসানোর বিষয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, একটা সিসি ক্যামেরার দাম তো বেশি নয়। আপনারা দেখেছেন, গতকাল যে দুটি জায়গায় ঘটনা ঘটেছে সেখানে কোনো সিসি ক্যামেরা ছিল না। বাসা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সিসি ক্যামেরা বসাতে আমরা সবাইকে বারবার অনুরোধ করেছি।

মুক্তমনা লেখক-ব্লগারদের হত্যার ধারাবাহিকতায় শনিবার মুক্তচিন্তার দুই প্রকাশনা সংস্থার কার্যালয়ে ঢুকে এক কুপিয়ে হত্যা করা হয়; মারাত্মক আহত হন আরেক প্রকাশকসহ তিন জন।

প্রকাশকদের উপর হামলার ঘটনার তদন্তে ও হামলাকারীদের গ্রেফতারের বিষয়ে কোনো অগ্রগতি জানাতে পারেননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিভি ভাল থাকলে এমন ঘটনা বারবার কেন ঘটছে জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, “এ ধরণের বিচ্ছিন্ন ঘটনা সারা পৃথিবীব্যাপী ঘটছে। এ যুগে কোন জায়গায় কোন দেশে হয় না সেটা আমাকে বলবেন? অস্ট্রেলিয়াতে হচ্ছে, আমেরিকায় হচ্ছে, ফ্রান্সে হচ্ছে। ধরাও পড়ছে, আমাদেরটাও ধরা পড়বে ইনশাআল্লাহ।”

উল্লেখ্য, নৃশংস জোড়া হামলা চালিয়ে রাজধানীতে শনিবার (৩১ অক্টোবর) এক প্রকাশককে হত্যা এবং আরেক প্রকাশকসহ দুই কবি ও ব্লগারকে গুরুতর আহত করেছে দুর্বৃত্তরা।

বেলা আড়াইটার দিকে লালমাটিয়ায় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান শুদ্ধস্বরের কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়। সেখান থেকে প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার আহমেদুর রশীদ টুটুলসহ তিনজনকে হাসপাতালে নিয়ে যখন চিকিৎসা চলছিল, তখন জানা যায় শাহবাগে আজিজ কো-অপারেটিভ সুপার মার্কেটে আরেক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান জাগৃতির কার্যালয়ের ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার ফয়সাল আরেফিন দীপন।

দুটি ক্ষেত্রেই হামলার পর কার্যালয়ের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দিয়ে যায় জঙ্গি মৌলবাদীরা।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত