০১ নভেম্বর, ২০১৫ ১৭:২৫
প্রকাশনা সংস্থা ‘জাগৃতি’র প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপন হত্যা ও ‘শুদ্ধস্বর’ প্রকাশনীর প্রকাশক আহমেদুর রশীদ টুটুল, রণদীপম বসু ও তারেক রহিমকে হত্যা চেষ্টার প্রতিবাদে রোববার অপরাজেয় বাংলায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, লেখক ও বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ।
সমাবেশে কলামিস্ট আবুল মকসুদ বলেন, বর্তমানে গুপ্ত হত্যা হচ্ছে অার আমরা তার প্রতিক্রিয়া জানাতে ভুলে যাচ্ছি। এ হত্যাকাণ্ডের পর যে খুনিরা গ্রেফতার হবে এমন আশাও দুরাশায় পরিণত হয়েছে এদেশে। কোনো হত্যাকাণ্ডের এখন পর্যন্ত বিচার হয়নি; তবুও বিচার পাওয়ার জন্য এসেছি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিক বিভাগের শিক্ষক ফাহমিদুল হক বলেন, সরকার ব্যর্থ। এখন পর্যন্ত কোনো হত্যাকাণ্ডের সুরাহা হয়নি। তাই এসব খুনিরা রাজনৈতিক, আঞ্চলিক ও বৈশিক কারণে বারবার রেহাই পেয়ে যাচ্ছে। এভাবে যদি দেশ চলতে থাকে তাহলে কেউ রেহাই পাবে না। যেমন করে রেহাই পায়নি প্রকাশক দীপন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক শান্তনু মজুমদার বলেন, সরকার লেখক ও প্রকাশকদের নিরাপত্তা না দিয়ে বরং তাদের লেখাকে বাধাগ্রস্থ করছে। তাই চুপ করে থাকার দিন শেষ হয়ে গেছে। যার যার অবস্থান থেকে বাইরে বের হয়ে আসতে হবে এবং প্রতিবাদ করতে হবে।
বিক্ষোভ সমাবেশে ছাত্রইউনিয়ন, ছাত্রফ্রন্টসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আগামীকাল সকাল ১১টায় অপরাজেয় বাংলায় মানববন্ধনের ঘোষণা দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, নৃশংস জোড়া হামলা চালিয়ে রাজধানীতে শনিবার (৩১ অক্টোবর) জাগৃতি প্রকাশনীর মালিক ফয়সাল আরেফিন দীপনকে এবং শুদ্ধস্বরের প্রকাশক আহমেদুর রশীদ টুটুল, রণদীপম বসু ও তারেক রহিমকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে জঙ্গি মৌলবাদীরা। হামলায় আহতরা এজন্যে জঙ্গি মৌলবাদীদের দায়ি করেছেন এবং আনসার আল ইসলাম নামের এক জঙ্গি সংগঠন এর দায় স্বীকার করেছে।
বেলা আড়াইটার দিকে লালমাটিয়ায় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান শুদ্ধস্বরের কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়। সেখান থেকে প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার আহমেদুর রশীদ টুটুলসহ তিনজনকে হাসপাতালে নিয়ে যখন চিকিৎসা চলছিল, তখন জানা যায় শাহবাগে আজিজ কো-অপারেটিভ সুপার মার্কেটে আরেক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান জাগৃতির কার্যালয়ের ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার ফয়সাল আরেফিন দীপন। প্রাণ হারান দীপন।
দুটি ক্ষেত্রেই হামলার পর কার্যালয়ের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দিয়ে যায় জঙ্গি মৌলবাদীরা।
আপনার মন্তব্য