০৫ নভেম্বর, ২০১৫ ১২:৪৬
মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত নতুন বেতন কাঠামোতে সরকারি কর্মচারীরা টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বহাল রাখার দাবির প্রেক্ষিতে বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বৃহস্পতিবার সকালে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
সচিবালয়ে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, পে-স্কেলের সুপারিশ অনুযায়ী বাতিল করেছিলাম। এখন সবার সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি বিবেচনা করব।
আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, এ বিষয়ে আরও আলাপ-আলোচনা করতে হবে। মন্ত্রিসভা একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিষয়টি তিনি একা করেন না বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘বাইরের সবার সঙ্গে আলোচনা শেষ। এখন নিজেদের মধ্যে আলোচনা করব।’
তা হলে কি অনমনীয় অবস্থান থেকে সরে এসেছেন—এমন প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো সময়ই আমরা অনমনীয় অবস্থানে ছিলাম না।’
বৈঠকে প্রকৃচির আহ্বায়ক ও কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের (কেআইবি) সভাপতি আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, নতুন বেতনকাঠামো থেকে সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল বাতিলের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেটা সরকারের জন্য কোনো ভালো সিদ্ধান্ত হয়নি। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের বঞ্চিত করার একটি পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে।
বৈঠকে বাহাউদ্দিন নাছিম আরও বলেন, ‘বেতনও বাড়িয়ে দিলেন। কিন্তু কেউ খুশি হলো না। প্রতি বছর ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট বাড়ানোর মাধ্যমে সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল বাতিলের ক্ষতি পোষানোর যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা সরকারি চাকরিজীবীদের মনে হতাশা-ধোঁয়াশা ও কুয়াশা সৃষ্টি করবে।’
গত ৭ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন করা হয়। কাঠামোতে সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল না রেখে মূল বেতনের শতকতা হারে ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার কথা বলা হয়। এ ছাড়া বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, আমি রিজিড না, সবকিছুই আলোচনা করে সমাধান করার সুযোগ আছে। বিভিন্ন ক্যাডারে পদ সংখ্যার সমন্বয় না থাকায় সমস্যাগুলো দীর্ঘায়িত হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, একটা ক্যাডারে প্রথম ৭ গ্রেডে ২২ হাজার পোস্ট আছে, এটা ফেয়ার না।
বৈঠকে প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটির পক্ষে থেকে অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেলে সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল পুনর্বহাল ও উপজেলা পরিষদ সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা অফিস স্মারক সংশোধনের দাবি জানানো হয়। এ ছাড়া চাকরি ক্ষেত্রে বৈষম্য নিরসনেরও দাবি জানানো হয়।
এর আগে প্রকৃচি (প্রকৌশলী, কৃষিবিদ, চিকিৎসক) কেন্দ্রীয় স্টিয়ারিং কমিটি, বিসিএস সমন্বয় কমিটিসহ বেশ কয়েকটি সংগনের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, প্রকৃচি কেন্দ্রীয় স্টিয়ারিং কমিটির সচিব প্রকৌশলী মো. আব্দুস সবুর, সচিব কৃষিবিদ মো. মোবারক আলী, সচিব প্রফেসর ডা. এম ইকবাল আর্সলান ও মো. ফিরোজ খান সদস্য সচিব প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটি।
আপনার মন্তব্য