সিলেটটুডে ডেস্ক

১৩ মে, ২০২১ ১২:৩৭

আজও চাঁদপুরের ৪০ গ্রামে আগাম ঈদ উদযাপন

আরব দেশগুলোর সঙ্গে সংগতি রেখে আজও চাঁদপুরের ৪০ গ্রামে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৩ মে) সকাল পৌঁনে ৯টায় ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয় সাদ্রা হামিদিয়া ফাযিল মাদ্রাসায়।

জামাতে ইমামতি করেন মাওলানা আরীফ চৌধুরী। এ সময় আরীফ চৌধুরীর অনুসারী মুসল্লিরা ঈদের জামাতে অংশ নেন। পরে ক্রমান্বয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

সাদ্রা ছাড়াও একদিন আগে ঈদ উদযাপন করা গ্রামগুলো হলো- হাজীগঞ্জ উপজেলার বলাখাল, শ্রীপুর, মনিহার, বড়কুল, অলীপুর, বেলচোঁ, রাজারগাঁও, জাকনি, কালচোঁ, মেনাপুর, ফরিদগঞ্জ উপজেলার শাচনমেঘ, খিলা, উভারামপুর, পাইকপাড়া, বিঘা, উটতলী, বালিথুবা, শোল্লা, রূপসা, বাসারা, গোয়ালভাওর, কড়ইতলী, নয়ারহাট, মতলবের মহনপুর, এখলাসপুর, দশানী, নায়েরগাঁও, বেলতলীসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম। এছাড়া চাঁদপুরের পাশের নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ভোলা ও শরীয়তপুর জেলার কয়েকটি স্থানে মাওলানা ইছহাক খানের অনুসারীরা একদিন আগে ঈদ উদযাপন করেন।

স্থানীয় ইউপি মেম্বার সফিকুর রহমান বলেন, বুধবার সাদ্রা ও পার্শ্ববর্তী সমেশপুর গ্রামের অল্পসংখ্যক মানুষ ঈদ উদযাপন করেছেন। আর আজ বাকি সবাই ঈদ উদযাপন করবেন।

সাদ্রা দরজার শরীফের পীর মাওলানা আরিফ চৌধুরী বলেন, বুধবার ভোরে আমাদের একজন চাঁদ দেখা যাওয়ার খবর পায় এবং সেটিকে তারা গ্রহণযোগ্য মনে করেছেন বিধায় অল্পসংখ্যক মানুষ ঈদ উদযাপন করেছেন। চাঁদ দেখার ওই খবর আমরা বিচার-বিশ্লেষণ করে তা গ্রহণযোগ্য মনে করিনি বিধায় উদযাপন করিনি।

তিনি বলেন, আমরা মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে মিল রেখে আজ ঈদ করবো। আমরা নির্ধারিত কোন দেশকে ফলো করি না। তবে ঈদুল আযহার কথা বললে পক্ষান্তরে সৌদি আরবকে আমাদের ফলো করতেই হয়। কারণ, হজ ফলো না করলে আমরা কোরবানি করতে পারি না। তারপরও আরব বিশ্বের কোথাও চাঁদ দেখা গেলে তা বিশ্বাসযোগ্য হলে আমরা রোজা পালন এবং ঈদ উদযাপন করি। যদি সেটি আমাদের কাছে নির্ভরযোগ্য মনে হয়।

তিনি বলেন, এই প্রথম এবার আমরা চাঁদ দেখা যাওয়ার বিষয়টি বিশ্বাস করতে পারিনি। কারণ, বিশ্বের কোথাও চাঁদ দেখা যাবে না বলে মঙ্গলবার জ্যোতির্বিদরা সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। অর্থাৎ পৃথিবীর কোন স্থান থেকে দূরবীন দিয়েও চাঁদ দেখা যাবে না। এখন এই পরিস্থিতিতে কেউ যদি ভোররাতে হঠাৎ বলে চাঁদ দেখা গেছে সেক্ষেত্রে সবার মাঝেই সন্দেহ দেখা দেবে।

তিনি আরও বলেন, যেহেতু ঈদগাহে জামাত করা যাবে না। তাই আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাদ্রাসার ভেতরে জামাত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যেখানে গত ৯২ বছর ধরে ঈদের জামাত হয়ে আসছে। এছাড়া হাজীগঞ্জ ও ফরিদগঞ্জ উপজেলার প্রায় ১৬টি গ্রামের প্রত্যেকটি মসজিদেই ঈদের জামাত হবে। মতলবের দশানী, মোহনপুরসহ জেলার বিভিন্ন স্থানেই ঈদ উদযাপন করা হবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত