১৮ মে, ২০২১ ১৫:০৪
সচিবালয়ে প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
তিনি বলেছেন, রোজিনাকে ৫ কিংবা ৯ ঘণ্টা নয়, আধা ঘণ্টা আটক রাখা হয়েছিল।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
রোজিনা ইসলাম সোমবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গেলে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন সেখানকার কর্মকর্তারা। ওই সময় তাকে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার রাতে রোজিনাকে শাহবাগ থানায় নিয়ে রাষ্ট্রীয় গোপন নথি চুরির অভিযোগে মামলা করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, এই গণমাধ্যমকর্মী রাষ্ট্রীয় কিছু গোপন নথি সরিয়েছেন; কিছু নথির ছবি তুলেছেন। এগুলো প্রকাশ হলে বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নষ্ট হতে পারত। নথিগুলো ছিল টিকা ক্রয়-সংক্রান্ত।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শারীরিকভাবে কোনো নির্যাতন বা আঘাত এটা কিন্তু করা হয় নাই। তাকে নির্যাতন করা হয়েছে এ কথাটা সঠিক নয়। একজন অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি, দুইজন ডেপুটি সেক্রেটারি মহিলা ওখানে ছিলেন। তার সাথে প্রাথমিকভাবে ডিল করেছে।
‘…এখন পরবর্তী সময়ে পুলিশকে বলা হয়েছে। তারপরে এই ঘটনাগুলো পর্যায়ক্রমে ঘটেছে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা আপনাদের সাথে কোঅপারেট করে কাজ করছি। আমার দরজার সামনেই সাংবাদিকরা দাঁড়িয়ে যায়। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আপনাদের সাথে কথা বলি। যেখানে আপনারা দিয়েছেন আমরা সেখানেই কথা বলি। আমার পক্ষে যতটুক নেয়া সম্ভব রাষ্ট্রীয় বিধিনিষেধ মেনে আমি সবটুকুই বলি।’
সচিবালয়ের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, ‘সচিবালয়ে ঢুকে রাষ্ট্রীয় এই নথি নেওয়ার প্রয়োজন ছিল না। ওখানে ঢোকারও কোনো প্রয়োজন ছিল না। আমি এতটুকু জানি…ওখানে কেউ উপস্থিতি ছিল না। বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে যতটুকু শুনেছি এতটুকুই জানি।’
মামলার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতিবিরোধী প্রতিবেদনের জন্য রোজিনাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।
‘ঘটনাটার উপরে কথা বলতে হবে। সরকারি ডকুমেন্টস নিয়ে যাচ্ছে। ফাইন, শুধু নিয়ে যাচ্ছে। ছবি তুলছে। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ নথি টিকা সংক্রান্ত ছিল। ট্রেড লেভেলে আমরা কমিটমেন্ট দিয়েছি এটা কোনো জায়গায় আমরা প্রকাশ করব না। সেগুলো যদি কেউ প্রকাশ করে তাহলে আমরা কি করতে পারি?’
‘তাকে (রোজিনা) যদি জামিন দেওয়া হয় দীর্ঘদিন পালিয়ে যেতে পারে, এমন মন্তব্য করা হচ্ছে। এই বিষয়টাতে আপনি একমত কি না?’
এক সাংবাদিকের উল্লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আইনজ্ঞ না। আইনি বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না।’
অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে করা মামলায় রোজিনা ইসলামকে জামিনে নেয়ার আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।
রোজিনা ইসলাম বলছেন, তিনি অন্যায় আক্রোশের শিকার হয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যে কক্ষে ঘটনা ঘটছে সেখানে রাষ্ট্রীয় ফাইল রাখা আছে।
‘আমি যতদূর জানি ওই রুমে আর কেউ ছিল না তখন। রুমটা খালি পড়ে ছিল। খালি রুমের মধ্যে উনি ঢুকছেন। কেউ যদি অন্যায় করে সেটা সামনে বের হয়ে আসবে।’
আপনার মন্তব্য