সিলেটটুডে ডেস্ক

০২ অক্টোবর, ২০২১ ১১:১৫

জাপা মহাসচিব জিয়াউদ্দিন বাবলু আর নেই

ডাকসুর সাবেক জিএস, জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু মারা গেছেন।

শনিবার (২ অক্টোবর) সকাল সোয়া নয়টায় রাজধানীর বাংলা‌দেশ স্পেশালাইজড হাসপাতা‌লে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের প্রেস সেক্রেটারি খন্দকার দেলোয়ার জালালী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

খন্দকার দেলোয়ার জালালী জানিয়েছেন, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য মরদেহ বেলা ১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয় কাকরাইল চত্বরে রাখা হবে। এরপর বাদ এশা গুলশান আজাদ মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হবে।

জাপা সূত্রে জানা গেছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ৬ সেপ্টেম্বর রাতে হাসপাতালে ভর্তি হন জিয়াউদ্দিন আহমেদ। শ্বাসকষ্টসহ অন্যান্য শারীরিক জটিলতার কারণে তাকে লাইফ সাপোর্টেও নেওয়া হয়।

জিয়াউদ্দিন বাবলুর জন্ম ১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে। ইংরেজিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়ার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবিও সম্পন্ন করেন। তিনি ছিলেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক।

১৯৮৮ সালে প্রথম সংসদ সদস্য হন বাবলু। ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে নির্বাচনকালীন সরকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা করা হয়েছিল তাকে।

জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু দুই দফায় জাতীয় পার্টির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। বাবলুকে ১৯৮৪-৮৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা করেন এরশাদ, উপসচিবের মর্যাদায়। ১৯৮৫-৮৬ সালে তাকে শিক্ষা উপমন্ত্রী করেন এরশাদ। এরপর ১৯৮৬-৮৭ সালে বাবলুকে করা হয় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী। ১৯৮৭ সালে হন অর্থ প্রতিমন্ত্রী। ওই বছরই বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে তাকে পূর্ণ মন্ত্রী করেন এরশাদ। পরে পেয়েছিলেন জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।

২০১৪ সালে (চট্টগ্রাম-৯) আসন থেকে দশম জাতীয় সংসদের সদস্য হন বাবলু। একাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হতে চাইলেও জোট রাজনীতির কারণে এরশাদের অনুরোধে তিনি ভোটের মাঠ থেকে সরে দাঁড়ান।

২০১৪ সালে এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারকে সরিয়ে এরশাদ জাতীয় পার্টির মহাসচিব করেন বাবলুকে। ২০১৬ সালের ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত সেই দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এরপর পরে ২০২০ সালের জুলাই মাসে মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাঁকে সরিয়ে বাবলুকে আবার সেই পদে ফিরিয়ে আনেন এরশাদের মৃত্যুর পর জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আসা জি এম কাদের।

জিয়াউদ্দিন বাবলুর প্রথম স্ত্রী অধ্যাপক ফরিদা আক্তার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ২০০৫ সালে মারা যান। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে। ২০১৭ সালের ২১ এপ্রিল এরশাদের ভাগ্নি মেহেজেবুন্নেসা টুম্পাকে বিয়ে করেন বাবলু। ড. আসাদুর রহমান ও মেরিনা রহমানের মেয়ে টুম্পাও বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করেন।

বাবলু ফার্স্ট কমিউনিকেশন লিমিটেড ও হাইটেক ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্টারন্যাশনাল নামে দুটি প্রতিষ্ঠানেরও চেয়ারম্যান ছিলেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত