১৬ জানুয়ারি, ২০২২ ১৫:২১
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ফাইল ছবি)
আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পরিকল্পনা ও পদক্ষেপে রংপুর অঞ্চল মঙ্গাপীড়িত এলাকা থেকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘রংপুর এখন উদ্বৃত্ত খাদ্যের অঞ্চলে পরিণত হয়েছে।’
রোববার (১৬ জানুয়ারি) নবনির্মিত ‘রংপুর বিভাগীয় সদরদপ্তর কমপ্লেক্স ভবন’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। রংপুর বিভাগীয় সদরদপ্তর কমপ্লেক্সের মাল্টিপারপাস হলের এ অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই অঞ্চলে প্রতি বছর মঙ্গা হতো। বিশেষ করে চৈত্র এবং কার্তিক মাসে, বছরে দুইবার মঙ্গা লেগেই থাকত। আমরা এই কারণটা খোঁজার চেষ্টা করেছি। কী কারণে এটা হচ্ছে। আমরা দেখেছি মানুষের কোনো কাজ থাকত না। কোনো উৎপাদন থাকত না। মানুষের খাবারের ব্যবস্থা থাকত না। এ ধরনের একটা পরিস্থিতি। কাজেই তখন থেকে আমরা পরিকল্পনা নিই কীভাবে মঙ্গা দূর করব।’
তিনি বলেন, ‘১৯৯৬ সালে যখন সরকারে আসি, তখন আমাদের গৃহীত পদক্ষেপের ফলে কিন্তু মঙ্গা ছিল না। আপনারা রংপুরবাসী একটু মনে করে করতে পারেন, ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল, আমরা কিন্তু ১৯৯৮ সাল থেকেই মঙ্গা দূর করে দিয়েছিলাম। ১৯৯৮ সালের বন্যার পর আমাদের খাদ্য উৎপাদন বাড়ে। এ সময় এই অঞ্চলে ওই সময়টায় যেন কিছুটা ফসল হয়, আমরা রিসার্চ করে সেটি বের করে উৎপাদন শুরু করি এবং ওই অঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করি।’
‘দুর্ভাগ্য যে ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে আবার এই অঞ্চলে মঙ্গা শুরু হয়। ২০০৮-এ সরকারে এসে আমরা আবার পদক্ষেপ নিই। রাজশাহী বিভাগের অন্তর্গত ছিল রংপুর। ১৬টা জেলা। আমরা যখন আমাদের দলীয় সম্মেলন করি, তখন আমরা ভাগ করে করে এই সম্মেলনগুরো করেছিলাম ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাদের নিয়ে। তখনই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে, এই অঞ্চলগুলোকে আমাদের ছোট ইউনিট করতে হবে। যেন জনগণ সেবাটা পায়। সেজন্য আমরা ২০০৯-এ সরকার গঠন করে ২০১০-এ রংপুর বিভাগ করে দেই।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে আমরা সরকারে আসার পর এই অঞ্চলে আর মঙ্গা দেখা দেয়নি। দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়নি। মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। এখন খাদ্য উদ্বৃত্তির অঞ্চল হয়ে গেছে রংপুর। যেখানে একসময় খাবারের অভাবে মানুষ ধুঁকে ধুঁকে মারা যেত। কারণ আমার এখনো সেই চিত্র মনে পড়ে। কিন্তু আল্লাহর রহমতে এখন আর সেই অবস্থা নেই। সেই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসলে উন্নয়নগুলো নির্ভর করে এক-একটি সরকারের চিন্তার জন্য। আওয়ামী লীগ জাতির পিতার হাতে গড়া সংগঠন, সব সময় দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের কথাই চিন্তা করেছেন জাতির পিতা; আমরা সেই পথ অনুসরণ করেছি। যার ফলে এ অঞ্চলের উন্নতি হচ্ছে।’
এ সময় মঙ্গা আর বন্যার সময় রংপুর বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় ছুটে গিয়ে মানুষকে সহযোগিতা করার কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘তখন এমন একটা অবস্থা ছিল যে, যাতায়াত ব্যবস্থা বলে কিছু ছিল না, রাস্তাঘাট ছিল না। নদীর পাড় দিয়ে কাদামাটি ভেঙে হেঁটে যেতে হয়েছে। একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চলে চলে গিয়েছি। গঙ্গাচড়ার নৈহালি থেকে শুরু করে কুড়িগ্রামের চিলমারি কোনো জায়গা বাদ দিইনি। রাজীবপুরে যখন গেছি, তখন সেখানে কিছুই নেই, একটা রিকশাও নেই। এইভাবে সারা বাংলাদেশ কিন্তু ঘুরেছি।
তিনি বলেন, ‘আমার লক্ষ্য হচ্ছে এই দেশে কোনো ভূমিহীন মানুষ থাকবে না, দরকার হলে জমি কিনে ঘর করে দেব।’
উত্তরবঙ্গের তরি-তরকারি তথা সবজি প্রক্রিয়াজাত করে কীভাবে বিদেশে রফতানি করা যায় সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও অবহিত করেন।
এ সময় তীব্র শীতে কষ্ট পাওয়া অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকারের পাশাপাশি বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আপনার মন্তব্য