নিউজ ডেস্ক

০৭ ডিসেম্বর, ২০১৫ ০৮:৫২

‘দুর্ধর্ষ’ শিবির ক্যাডার থেকে ‘যুবলীগ নেতা’

ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আওয়ামীলীগ ও এর সহযোগী সংগঠনে কৌশলে জামায়াত-শিবিরের অনেক নেতাকর্মী অুনপ্রবেশ করেছিলো। এসব অনুপ্রবেশকারীরা দলের ভেতরে আভ্যন্তরীন কোন্দল সৃষ্টিসহ নাশকতার সৃষ্টি করছে প্রতিনিয়ত। এবার চট্টগ্রামে এর প্রকাশ্য প্রমান মিললো। শিবিরের দুর্ধর্ষ ক্যাডার হয়েও মো. ফিরোজ যুবলীগ নেতা হিসেবে দোর্দন্ড প্রতাপে চালাচ্ছেন অপরাধমূলক কর্মকান্ড, এমনকি স্বপ্ন দেখছেন জনপ্রতিনিধি হওয়ার।

চট্টগ্রামের দুর্ধর্ষ শিবির ক্যাডার ও ডাকাতির মামলার আসামি মো. ফিরোজ নিজেকে যুবলীগের নেতা দাবি করে দুই সপ্তাহ আগে নগরে বিলবোর্ড টাঙিয়েছেন। তাকে বেশ কয়েক মাস ধরেই যুবলীগের মিছিল-সমাবেশে সামনের সারিতে দেখা যাচ্ছে।

২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে এবং ২০১৩ সালের জুলাই মাসে অস্ত্রসহ দুইবার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। নগরের মুরাদপুর এলাকায় টাঙানো ওই বিলবোর্ডে ফিরোজের ছবি ও নামের পাশে লেখা রয়েছে ‘যুবলীগ নেতা’। বিলবোর্ডে চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছির, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা দিদারুল আলমসহ আরও দুজনের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। এতে লেখা রয়েছে: ‘দিদারুল আলমকে চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে দেখতে চাই’।

মুরাদপুরে বিলবোর্ডে নিজেকে যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন ফিরোজ l ছবি: প্রথম আলো

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু বলেন, ‘ফিরোজ নামের শিবিরের যে ক্যাডার বিলবোর্ড টাঙিয়ে কিংবা মিছিল-সমাবেশ করে আমাদের কোনো নেতার পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন, তা কেবল ওই নেতা ও ফিরোজই ভালো জানেন। তবে জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে আমরা রাজনীতি করছি। স্বাধীনতাবিরোধী এই চক্রের কোনো সদস্য আমাদের দলে ঢুকতে পারবেন না। এটা প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ। এই নির্দেশ উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই।’

পুলিশ জানায়, ২০১১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে নগরের প্রবর্তক মোড়ে একটি রোগ নির্ণয়কেন্দ্র থেকে সন্ত্রাসীরা ১১ লাখ টাকা লুট করে নেয়। মারধর করা হয় একজন চিকিৎসককে। ডাকাতি ঘটনার পরদিন নগরের বায়েজিদ থানার কয়লাঘর এলাকা থেকে শিবির ক্যাডার মো. ফিরোজ ও মনিরুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে ফিরোজের পাঁচলাইশের আস্তানা থেকে ১২ রাউন্ড গুলিভর্তি দুটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি গুলিসহ একটি ম্যাগাজিন, একটি একনলা বন্দুক, একটি বন্দুকের ব্যারেল, তিনটি কার্তুজ, দুটি চাপাতি উদ্ধার করে পুলিশ।

ফিরোজ ওই সময় পুলিশ হেফাজতে গনমাধ্যমে বলেছিলেন, ‘অস্ত্রগুলোর মালিক শিবির ক্যাডার ম্যাক্সন ও সরওয়ার। তারা আমার কাছে এগুলো রাখতে দিয়েছিলেন।’ এ নিয়ে ২০১১ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি দেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

ওই সময় নগরের বায়েজিদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্বে ছিলেন এ কে এম মহিউদ্দিন। তিনি এখন বন্দর থানার ওসি। এ কে এম মহিউদ্দিন  জানান, ‘২০১১ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি আমি শিবির ক্যাডার মো. ফিরোজকে বিপুল অস্ত্রশস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করি। শেভরন রোগ নির্ণয়কেন্দ্রে ডাকাতির ঘটনায় সে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিল। সে ওই সময় শিবির ক্যাডার ম্যাক্সন ও সরওয়ারের সঙ্গে থাকত।’ ওই দুজন এখন কারাগারে রয়েছেন বলে পুলিশ জানায়।

ওসি মহিউদ্দিন বলেন, ‘ম্যাক্সন, সরওয়ার ও ফিরোজের গডফাদার হচ্ছে ভারতের কারাগারে বন্দী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শিবির ক্যাডার সাজ্জাদ হোসেন। বায়েজিদ ও পাঁচলাইশ এলাকায় নতুন বাড়ি নির্মাণ করার আগে তাদের চাঁদা দিতে হতো। তারা ডাকাতি ও নাছিরাবাদ শিল্পকারখানায় চাঁদাবাজি করত।’

পুলিশ জানায়, চট্টগ্রামের শিবির ক্যাডার সরওয়ার ও ম্যাক্সনের সঙ্গে ফিরোজ চাঁদাবাজি, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। ২০১১ সালে অস্ত্রসহ ধরা পড়ার পর ২০১৩ সালের ১৯ জুলাই রাতে তিন রাউন্ড গুলিভর্তি নাইনএমএম পিস্তলসহ আবারও ফিরোজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

বিলবোর্ড টাঙানোর বিষয়ে ফিরোজ বলেন, ‘আমার কাছে যে অস্ত্রগুলো পাওয়া গেছে, তা অস্বীকার করছি না। তবে অস্ত্রগুলো আমার এক বন্ধু রাখতে দিয়েছিল।’

ফিরোজ বলেন, ‘যুবলীগের সঙ্গে অনেক আগে থেকে আমি সম্পৃক্ত। এ কারণে দিদারুল আলম ভাইকে মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দেখতে আগ্রহী বলে ছোট ভাইয়েরা তাঁর সঙ্গে আমার ছবি বিলবোর্ডে টাঙিয়ে দিয়েছে।’

জানতে চাইলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য ও ‘নগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হতে আগ্রহী’ দিদারুল আলম বলেন, ‘বিলবোর্ডে ফিরোজের প্রচারণায় আমি বিব্রত।’

সূত্র : প্রথম আলো।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত